কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৭): শিক্ষা অর্জন বা জানার জন্য অন্য ধর্মগ্রন্থ পড়া যাবে কি? যেমন- বাইবেল, বেদ, তাওরাত।

উত্তর: আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীম নাযিল করেছেন এবং এটাকে সংরক্ষণ করার ওয়াদা করেছেন। তিনি বলেন, إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ ‘নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী’ (আল-হিজর, ১৫/০৯)। পক্ষান্তরে তিনি অন্যান্য আসমানী কিতাব সংরক্ষণের ওয়াদা করেননি। ফলে সেসব কিতাবের অনুসারীরা সেই কিতাবগুলো বিকৃত করেছে। কুরআনুল কারীমের একাধিক আয়াতে তাদের এই বিকৃতির কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এসব কিতাব থেকে শিক্ষা অর্জন তো দূরের কথা, বরং ঈমানী বিচ্যুতি ঘটার প্রবল আশঙ্কা থাকে। এজন্য সাধারণ মুসলিমের জন্য এসব কিতাব অধ্যয়ন করা জায়েয নয়। উমার ইবনুল খাত্ত্বাব রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তাওরাত কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপি এনে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা হলো তাওরাতের একটি পাণ্ডুলিপি। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। এরপর উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু তাওরাত পড়তে আরম্ভ করলেন। (এদিকে রাগে) রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হতে লাগল। আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, উমার! তোমার সর্বনাশ হোক। তুমি কি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিবর্ণ চেহারা দেখছ না? (মুসনাদে দারেমী, হা/৪৪৯)। শুধুমাত্র বিদগ্ধ আলেমগণ ইসলামের সত্যতা ও বিজাতীয় ধর্মগ্রন্থের ভুল-ভ্রান্তি প্রকাশের নিয়্যতে এসব কিতাব অধ্যয়ন করতে পারেন (ফাতহুল বারী, ১৩/৫২৫-৫২৬)।

প্রশ্নকারী : ওলিউল্লাহ

ময়মনসিংহ।


Magazine