কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৮) : স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর শরী‘আত অনুযায়ী সন্তানের অধিকারী কে হবেন?

উত্তর : সন্তানের অধিকারী মূলত পিতা। তবে শৈশবে তার লালন-পালনের অধিকারী হলেন মা। কিন্তু মা অন্যত্র বিবাহ করলে তার সন্তান লালন-পালনের সে অধিকার আর থাকে না। তখন সন্তান পিতার পূর্ণ দায়িত্বে থাকবে। আমর ইবনুল আছ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জনৈক স্ত্রীলোক বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! এটি আমার ছেলে। আমার পেট ছিল তার পাত্র, আমার স্তন ছিল তার মশক এবং আমার কোল ছিল তার দোলনা। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়েছে। সে এখন আমার ছেলে নিয়ে টানাটানি করছে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যতক্ষণ তুমি অন্যত্র বিবাহ না করবে, ততক্ষণ তুমিই তার অধিক হক্বদার’ (আবুদাঊদ, হা/১৯৩৮; মিশকাত, হা/৩৩৭৮)। তবে জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর সন্তান যার নিকটে ইচ্ছা থাকতে পারে। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমার স্বামী আমার ছেলে নিয়ে যেতে চায়। অথচ ছেলে আমার উপকার করে। সে আমাকে কূয়া থেকে পানি এনে দেয়। এ সময় তার পিতা এলে নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেকে বললেন, ইনি তোমার পিতা আর ইনি তোমার মাতা। যাকে ইচ্ছা তুমি তার হাত ধরো। ছেলে তার মায়ের হাত ধরল। অতঃপর মা তাকে নিয়ে চলে গেল’ (আবুদাঊদ, হা/১৯৩৯; নাসাঈ, হা/৩৪৩৯; মিশকাত, হা/৩৩৮০, সনদ ছহীহ)। উল্লেখিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ছেলে হোক বা মেয়ে হোক, সন্তানের ভাল-মন্দ বুঝার জ্ঞান হওয়ার পর যদি পিতা-মাতা সন্তান গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ করেন, তাহলে সন্তানকে এখতিয়ার দেওয়াই শরী‘আতসম্মত’ (নায়লুল আওত্বার, ৮/১৬০ পৃঃ)। উল্লেখ্য যে, মা যদি কাফির হয়ে যায়, তাহলে মুসলিম সন্তানের উপরে তার কোনো হক্ব থাকবে না। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ কাফিরদের জন্য মুমিনদের উপরে কোনো অধিকার রাখেননি’ (নিসা, ১৪১)।

-মিলন

 রহিমানপুর, ঠাকুরগাঁও।


Magazine