উত্তর: একই হাদীছ সম্পর্কে কোনো মুহাদ্দিছ ‘ছহীহ’, কেউ ‘হাসান’, আবার কেউ ‘যঈফ’ বলেছেন- এটি হাদীছশাস্ত্রের স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ হাদীছ বিশুদ্ধতার বিচার ইজতিহাদভিত্তিক অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহর নির্ধারিত নীতিমালার আলোকে মুহাদ্দিছগণ গবেষণা করে সিদ্ধান্ত দেন। এ পার্থক্যের কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে তুলে ধরা হলো- ১. বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মতভেদ তথা কোনো রাবীকে একজন ইমাম নির্ভরযোগ্য মনে করেছেন, অন্যজন দুর্বল মনে করেছেন। ফলে একই হাদীছের হুকুম ভিন্ন হয়েছে (মীযানুল ই‘তিদাল, ১/১৬)। ২. কারো নিকট অতিরিক্ত সনদ পৌঁছেছে, কারো নিকট পৌঁছেনি তথা একজন মুহাদ্দিছ কোনো হাদীছের একাধিক সনদ পেয়ে সেটিকে শক্তিশালী বলেছেন; অন্যজন সে সনদ পাননি, তাই তিনি দুর্বল বলেছেন (মুকাদ্দিমা লি-ইবনে ছলাহ, ৪৩; তাদরীবুর রাবী, ১/১৪০)। ৩. ইল্লত (গোপন ত্রুটি) সম্পর্কে মতভেদ তথা কখনো হাদীছে সূক্ষ্ম ত্রুটি থাকে, যা সবাই ধরতে পারেন না। কেউ তা আবিষ্কার করে হাদীছকে দুর্বল বলেছেন, অন্যজন তা না দেখে গ্রহণ করেছেন (মুকাদ্দিমা লি-ইবনে ছলাহ, ৯৮)। ৪. ‘হাসান’ ও ‘ছহীহ’ এর মানদণ্ডে পার্থক্য তথা কিছু ইমাম শর্তে কঠোর, কিছু ইমাম তুলনামূলক সহজ। এজন্য একই হাদীছ একজনের কাছে ‘হাসান’, অন্যজনের কাছে ‘ছহীহ’ হতে পারে (তাদরীবুর রাবী, ১/৮৭)। ৫. ইজতিহাদে ভুল-শুদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক তথা হাদীছ যাচাই একটি গভীর গবেষণামূলক কাজ। তাই মুহাদ্দিছগণের মধ্যে মতভেদ হওয়া স্বাভাবিক, যেমন ফিক্বহের মাসআলায় মুজতাহিদদের মতভেদ হয়। সাধারণ মানুষের জন্য করণীয়- ১. নির্ভরযোগ্য আলেম ও মুহাদ্দিছগণের অনুসরণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যদি না জান, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো’ (আন-নাহল, ১৬/৪৩)। ২. দলীল ও গবেষণায় শক্তিশালী মত গ্রহণ করা। যে মতের পক্ষে অধিক মুহাদ্দিছ, শক্তিশালী দলীল ও বিশ্লেষণ রয়েছে সেটি গ্রহণ করা উচিত। ৩. খেয়াল-খুশিমতো সহজ মত খোঁজা যাবে না। যে মত নিজের প্রবৃত্তির অনুকূলে, শুধু সেটিই গ্রহণ করা বৈধ নয়। বরং সত্যের কাছাকাছি মত গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তুমি প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে’ (ছোয়াদ, ৩৮/২৬)।
-আবু শামসের
