উত্তর : এমতাবস্থায় তাকে বারবার উপদেশ দিতে হবে। তার শয্যা পৃথক করে দিতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষামূলক কিছু শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। তবে সর্বপ্রকার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলে বিচ্ছেদের চিন্তা করা যায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা পৃথক করো এবং প্রহার করো। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়, তবে তাদের জন্য অন্য কোনো পথ অনুসন্ধান করো না’ (নিসা, ৩৪)। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মহিলাদের (স্ত্রীদের) প্রতি ভালো উপদেশ দাও। এ কারণে যে, তারা বক্র হাড্ডি হতে সৃষ্টি এবং সবচেয়ে বক্র উপরের পাজরের আস্থি। তুমি যদি তা সোজা করতে যাও তবে ভেঙে ফেলবে, আর ছেড়ে দিলে সর্বদা বাঁকা থাকবে। অতএব, স্ত্রীদের উপদেশ দিতে থাকবে (বুখারী, হা/৫১৮৬; মুসলিম, হা/১৪৬৮; মিশাকাত, হা/৩২৩৮)। এই আয়াত ও হাদীছ প্রমাণ করে যে, উল্লিখিত সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা প্রয়োগের পরও যদি স্ত্রী তাতে সংশোধন না হয়, তাহলে শরী‘আতসম্মত পদ্ধতিতে তাকে তালাক দিতে হবে। এতে কোনো পাপ হবে না। উল্লেখ্য, যে কোনো উপায়ে স্বামীকে কষ্ট দেওয়া নিন্দিত ও গর্হিত। এর জন্য জান্নাতের হূররা উক্ত স্ত্রীরর জন্য বদ দু‘আ করেন (তিরমিযী, হা/১১৭৪; ইবনু মাজাহ, হা/২০১৪)। আর অবাধ্য স্ত্রীর ব্যাপারে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন (সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৮৮)।
-ইবাদুল্লাহ মিয়া
মিরপুর, কুষ্টিয়া।
