কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩৮): বিয়ের দিন নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর কোনো মেয়েপক্ষ যদি তার থেকে অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও ভালো কোনো ছেলের সঙ্গে বিবাহ দিতে চান, তাহলে সেটা শরীআত সম্মত কাজ হবে কি?

উত্তর: ইসলামী শরীআত মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর নতুন করে প্রস্তাব দেওয়া কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন তার মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়’ (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৪২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪১২)। তবে বিবাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইস্তিখারা করতে হবে। তারপরেও এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে আবারও ইস্তিখারা করা উচিত। কেননা আমরা মানুষ হিসেবে যাকে ভালো মনে করছি বাস্তবে সে তেমন নাও হতে পারে। আবার আমাদের ধারণায় নেতিবাচক কেউ ভালো হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা যা অপছন্দ কর, হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা ভালোবাস, হতে পারে তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর’ (আল-বাকারা, ২/২১৬)। তাই মেয়েপক্ষের সম্মতির পর অন্য কারো নতুন প্রস্তাব দেওয়া হারাম; যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেবে বা তাকে অনুমতি দেবে (ছহীহ বুখারী, হা/৫১৪২; শারহু ছহীহ মুসলিম, ৯/১৯৭)। তবে যদি প্রথম পাত্র সম্পর্কে নতুন করে কোনো শারঈ ত্রুটি, যেমন- দ্বীনের দুর্বলতা, চরিত্রগত সমস্যা, প্রতারণা ইত্যাদি জানা যায়, তাহলে মেয়ের স্বার্থে বিয়ের কথা বাতিল করা জায়েয। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন এমন কোনো ব্যক্তি তোমাদের কাছে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীনদারিতা ও চরিত্রে তোমরা সন্তুষ্ট, তখন তার সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করে দাও। যদি তোমরা তা না কর, তবে পৃথিবীতে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় (অরাজকতা) সৃষ্টি হবে’ (তিরমিযী, হা/১০৮৪; ইবনু মাজাহ, হা/১৯৬৭)। আর শুধু অর্থনৈতিকভাবে সম্পদশালী হওয়া শরীআতের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় নয়। সুতরাং শারঈ কোনো ত্রুটি না থাকলে কেবল অধিক ধনী বা তুলনামূলক ভালো পাত্রের জন্য পূর্বনির্ধারিত বিয়ে বাতিল করা ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী, যাতে ওয়াদা ভঙ্গ হয়।

প্রশ্নকারী : জাকিরুন খাতুন

পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।


Magazine