আল্লাহর শরী‘আতকে বাদ দিয়ে নতুন শরী‘আত চালু করা এবং অনাবশ্যক কাজকে আবশ্যক করে নেয়া :
وَقَالُوْا هَذِهِ أَنْعَامٌ وَحَرْثٌ حِجْرٌ لَا يَطْعَمُهَا إِلَّا مَنْ نَشَاءُ بِزَعْمِهِمْ وَأَنْعَامٌ حُرِّمَتْ ظُهُوْرُهَا وَأَنْعَامٌ لَا يَذْكُرُوْنَ اسْمَ اللهِ عَلَيْهَا افْتِرَاءً عَلَيْهِ سَيَجْزِيْهِمْ بِمَا كَانُوْا يَفْتَرُوْنَ.
‘তারা বলে, এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচ্ছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহণ হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারণা বশত আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন’ (আন‘আম ১৩৮)। এই আয়াতের উদ্দেশ্য হল, মানুষেরা নতুন করে শরী‘আত প্রবর্তন করে নিয়েছে। তারা এমন বিষয়কে গ্রহণ করেছে, শরী‘আতে যার কোন দলীল নেই। এটা তাদের খেয়াল-খুশী ও ধারণা প্রসূত ব্যাপার মাত্র। যেমন তারা বলে, অমুক খাবার পবিত্র, যা অমুকে গ্রহণ করবে এবং অমুকে স্পর্শও করতে পারবে না। কখনো তারা চতুষ্পদ জন্তুকে নির্দিষ্ট করে তাতে আরোহণ করাকে নিষিদ্ধ করে দেয়। এতে কেউ আরোহণ করতে বা মাল বহন করতে পারবে না। এটাকে অমুকের জন্য নির্দিষ্ট ও উৎসর্গ করা হয়েছে, তাই এর সম্মান করা আবশ্যক। কিছু জীব-জন্তুর উপর তারা আল্লাহর নাম নেয় না, এটাকে তারা গায়রুল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানীর ইচ্ছা করে এবং তার নামেই যবেহ করে। এরপর তারা বিশ্বাস রাখে যে, এর দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে। মহান আল্লাহ এর দ্বারা তাদের হাজত পূরণ করবেন। এসবকিছুই তাদের নিজেদের বানানো বিষয়, অচিরেই তারা এর প্রতিদানের সম্মুখীন হবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,
مَا جَعَلَ اللهُ مِنْ بَحِيْرَةٍ وَلَا سَائِبَةٍ وَلَا وَصِيْلَةٍ وَلَا حَامٍ وَلَكِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا يَفْتَرُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ وَأَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ.
‘আল্লাহ বাহিরা, সায়িবা, অসীলা এবং হামী-কে শরী‘আতসিদ্ধ করেননি। কিন্তু যারা কাফের, তারা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে। তাদের অধিকাংশরই বিবেক বুদ্ধি নেই’ (মায়েদা ১০৩)। তারা আল্লাহর নামে এমন কিছু বর্ণনা করে, যা তিনি প্রবর্তন করেননি। এটা তাদের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপের শামিল। এই আয়াত প্রমাণ করে যে, কোন প্রাণীকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য খাছ করা, যাকে সে উপকার, অনিষ্ট, আশ্রয়দাতা ও সাহায্যের মালিক মনে করে এবং অমুকের জন্য গরু, অমুকের জন্য ছাগল, অমুকের জন্য মুরগী কুরবানী করতে হবে ইত্যাদি মতবাদ অগ্রহণযোগ্য, বাতিল। এর স্বপক্ষে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন দলীল অবতীর্ণ হয়নি, এসবের মূল উৎস মূর্খতা-বোকামী এবং এটা আল্লাহর শরী‘আতের বিরোধিতা করা ও তাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টার নামান্তর। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَقُوْلُوْا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوْا عَلَى اللهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِيْنَ يَفْتَرُوْنَ عَلَى اللهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُوْنَ.
‘তোমাদের মুখ থেকে সাধারণত যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে, সেরূপ তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরূদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না’ (নাহ্ল ১১৬)। এখানে নিষেধ করার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, হালাল-হারাম, বৈধ-অবৈধ ইত্যাদির ব্যাপারে প্রবৃত্তি, অন্ধ অনুসরণ ও রীতিনীতির উপর নির্ভর করে স্বেচ্ছাচারিতা ও একগুঁয়েমি করা। কেননা এটা শরী‘আত। আর শরী‘আত প্রণয়ন করা একমাত্র মহান আল্লাহর অধিকার।
অতঃপর কিছু মানুষের ধারণায়, যারা এরূপ করবে, তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হবে, অন্যথায় তার উপর হতাশা ও বিশৃঙ্খলা নেমে আসবে; তাদের এসব কথার কোন ভিত্তি নেই। এভাবে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপকারীরা কোনভাবেই সফল হবে না।
পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্বাস করা শিরক :
যেমন একটি হাদীছে এসেছে-
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الجُهَنِيِّ أَنَّهُ قَالَ صَلَّى لَنَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةَ الصُّبْحِ بِالحُدَيْبِيَةِ عَلَى إِثْرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلَةِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ هَلْ تَدْرُوْنَ مَاذَا قَالَ رَبُّكُمْ قَالُوا اللهُ وَرَسُوْلُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِيْ مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِيْ وَكَافِرٌ بِالكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِيْ وَمُؤْمِنٌ بِالكَوْكَبِ.
যায়েদ ইবনে খালেদ আল-জুহানী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করলেন। ছালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন, ‘তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কি বলেছেন? তারা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বেশি জানেন। রাসূল (ছাঃ) বললেন, (রব) বলেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মুমিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফের। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাসী হয়েছে।[1]
এই হাদীছের সারকথা হল, যে ব্যক্তি পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে, তাতে নক্ষত্রের প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্বাস করে, সে আল্লাহর নিকট কাফের ও নক্ষত্রের পূজারী বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি পৃথিবীতে ভাল বা মন্দ যা ঘটছে, তা একমাত্র মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত করবে, সে তাঁর মনোনীত বান্দা হিসাবে গণ্য হবে। এই হাদীছ আরো প্রমাণ করে যে, কিছু সময় সৌভাগ্য এবং কিছু সময় দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে বিশ্বাস করা, তারকা গণনাকারীকে এই ভাল-মন্দ সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা এবং তাদের কথার উপর নির্ভর করা শিরক। কেননা এর মানে হচ্ছে, এসব কিছুর সম্পর্ক তারকার সাথে আছে বলে মনে করা। আর তারকার প্রভাব রয়েছে বলে বিশ্বাস করা তারকাপূজারীদের কাজ।
গণক ঠাকুর, জ্যোতিষী ও অদৃশ্যের দাবীদারের প্রতি ভরসা করা কুফরী :
হাদীছে এসেছে-
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنِ اقْتَبَسَ بَابًا مِنْ عِلْمِ النُّجُوْمِ لِغَيْرِ مَا ذَكَرَ اللهُ فَقَدِ اقْتَبَسَ شُعْبَةً مِنَ السِّحْرِ الْمُنَجِّمُ كَاهِنٌ وَالْكَاهِنُ سَاحِرٌ وَالسَّاحِرُ كَافِرٌ.
ইবনে আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ যেভাবে বর্ণনা করেছেন, তা ছাড়া ভিন্ন পদ্ধতিতে যদি কেউ জ্যোতিষশাস্ত্রের কোন অধ্যায় শিখে, তাহলে সে যাদুর একটি অংশ শিখল। জ্যোতিষী গণক, আর গণক যাদুকর, আর যাদুকর কাফের’।[2] এটা জানা কথা যে, মহান রববুল আলামীন গ্রহ ও নক্ষত্রের কথা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেছেন। এগুলো তার নিদর্শন সমূহের অন্তর্ভুক্ত। যা তার ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার কথা বলে। এর দ্বারা মহান আল্লাহ দুনিয়ার আসমানকে সাজিয়েছেন। এটা শয়তানকে নিক্ষক্ষপের জন্য। এসকল কিছুর না আসমান ও যমীনের ক্ষমতায় কোন দখলদারিত্ব রয়েছে, আর না মানুষের সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্যের সাথে কোন সম্পর্ক রয়েছে। অতঃপর যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ এসব নক্ষত্রকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করার কথা বলেছেন, তা বাদ দিয়ে ভবিষ্যদ্বক্তারা জিনদের সাথে সখ্যতা ও তারকা গণনা করে গায়েবের যতসামান্য যে খবর বলে দেয়, তাতে বিশ্বাস করে এবং যাদুকরদের জিনদের প্রতি বিশ্বাস, তাদেরকে আহবান করা এবং তাদের সামনে কুরবানী ও নযর উপস্থাপন করার মাধ্যমে বন্ধুত্ব করে নিজেদের স্বার্থ হাছিল করা, এসব কিছুই কুফরী। যেমন হাদীছে এসেছে-
عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَتَى عَرَّافًا فَسَأَلَهُ عَنْ شَيْءٍ لَمْ تُقْبَلْ لَهُ صَلاَةٌ أَرْبَعِيْنَ لَيْلَة.
হাফছা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন গণকের নিকট এসে তাকে কোন কিছু জিজ্ঞেস করবে, তার চলিস্নশ দিনের ছালাত কবুল হবে না’।[3] এই হাদীছ থেকে আমরা জানতে পারলাম, যে ব্যক্তি গায়েবের দাবীদার গণক ঠাকুরের কাছে যায়, তার চলিস্নশ দিনের ইবাদত কবুল হয় না। কেননা সে এর মাধ্যমে শিরক করেছে। আর শিরক ইবাদতের সকল আলোকে নিভিয়ে দেয়। এই হুকুমের মধ্যে নক্ষত্র গণনাকারী, গায়েবের দাবীদার ও ভাগ্যের শুভাশুভ নির্ণয়কারী সবাই অন্তর্ভুক্ত হবে।
জাহেলী যুগের দুর্বল বিশ্বাস ও নির্বুদ্ধিতার লক্ষণ এবং মুসলিমদের মধ্যে তাদের অন্ধ অনুসরণকারী :
এ কথাকে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ আরো শক্তিশালী করে। যেমন আবুদাঊদে ক্বাবীছা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে এসেছে-
عَن قَطن بن قَبِيْصةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْعِيَافَةُ وَالطَّرْقُ وَالطِّيَرَةُ مِنَ الْجِبْتِ.
কাত্বন ইবনে ক্বাবীছা (রাঃ) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ভাগ্যের শুভাশুভ নির্ণয়ের জন্য পাখি উড়ানো, পাথর মেরে লক্ষণ নেয়া ও ভাল-মন্দের লক্ষণ নেয়া কুফরীর অন্তর্ভুক্ত’।[4] এছাড়া আবুদাঊদে বর্ণিত আরেকটি হাদীছে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ الطِّيَرَةُ شِرْكٌ ثَلَاثًا.
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘পাখি উড়িয়ে কর্মের শুভাশুভ নির্ণয় করা শিরক, পাখি উড়িয়ে কর্মের শুভাশুভ নির্ণয় করা শিরক। একথা তিনি তিনবার বললেন’।[5]
আরবের লোকেরা পাখি উড়িয়ে কর্মের শুভাশুভ নির্ণয়ের ব্যাপারে অভ্যস্ত ছিল। রাসূল (ছাঃ) এই রীতি থেকে বিরত থাকতে কয়েকবার নিষেধ করলেন, যাতে লোকেরা এ রীতিনীতি ছেড়ে দেয়। হাদীছে আরো এসেছে,
عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُوْلُ لَا هَامَةَ وَلَا عَدْوَى وَلَا طِيَرَةَ وَإِنْ تَكُنِ الطِّيَرَةُ فِيْ شَيْءٍ فَفِي الْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ وَالدَّارِ.
সা‘দ ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘পেঁচা, ছোঁয়াচে রোগ ও কুলক্ষণ বলে কিছু নেই। কোন জিনিসে যদি কুলক্ষণ থাকত, তাহলে তা থাকত বাড়ী, ঘোড়া ও নারীতে’।[6]
মূর্খ আরবদের মাঝে একথা প্রসিদ্ধ ছিল যে, কাউকে হত্যা করা হলে এবং তার বদলা না নেয়া হলে তার মাথা থেকে একটি পাখি বের হয়, যাকে ‘হামাহ’ বলা হয় এবং তা দেখতে পেঁচার মত। অতঃপর এই পেঁচা সাদৃশ্য প্রাণীটি সর্বদা মৃত ব্যক্তির জন্য আহাজারী করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে মৃত্যুর বদলা নেয়। রাসূল (ছাঃ) এই ধারণাকে বাতিল ঘোষণা করেছেন। যে ব্যক্তি ধারণা করে, মানুষ তার মৃত্যুর পর প্রাণীর আকৃতি ধরে পুনর্জন্ম নেয়, তাহলে সে যেন মহান আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করল। খোস-পাঁচড়া ও কুষ্ঠরোগ মানুষ হতে আরেক মানুষের কাছে যায় মর্মে যে ভুয়া বিশ্বাস আরবে চালু ছিল, সেসব কিছুই বাতিল। এসব আজগুবি কথার কোন ভিত্তি নেই। আরবদের কাছে একথাও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল যে, অমুকের জন্য অমুক কাজটি অকল্যাণকর। এই কাজটি করা ঠিক নয়, করলে সে সফল হতে পারবে না। (রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,) অশুভ ও অকল্যাণকর বলে যদি কিছু থেকেই থাকে, তাহলে তা বাড়ী, ঘোড়া ও স্ত্রীলোকের মধ্যে রয়েছে। এসব কিছু কখনো বরকতপূর্ণ আবার কখনো অকল্যাণকর প্রমাণিত হয়। কিন্তু এসব অকল্যাণ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট কোন পন্থা সুন্নতে নববীতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে যে বাড়ীর দরজায় মানুষের ছবি এবং পাল্লাতে সিংহের মুখের ছবি অঙ্কন করা আছে, চিৎকপাল ঘোড়া এবং কৃষ্ণ বর্ণের জিহবাবিশিষ্ট নারীর মধ্যে অকল্যাণ রয়েছে বলে যে বিশ্বাস প্রচলিত আছে, তার কোন ভিত্তি নেই। বরং মুসলিমদের উপর আবশ্যক হল, এসব মিথ্যাচারের প্রতি কান না দেয়া। তাদের উচিত, যখন নতুন বাড়ী ক্রয় করবে অথবা ভাড়া দিবে, কারো বদান্যতা লাভে সফল হবে কিংবা কোন বুদ্ধিমতী ও কুমারী নারীকে বিয়ে করবে, তখন মহান আল্লাহর নিকট কল্যাণ ও বরকত লাভের জন্য এবং যাবতীয় অকল্যাণ থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য দু‘আ করবে। আর অন্য সব বিষয়েও এমন ধারণা পোষণ করা যাবে না যে, অমুক কাজ কল্যাণকর হয়েছে এবং অমুক কাজ অকল্যাণকর হয়েছে। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا عَدْوَى وَلَا هَامَةَ وَلَا صَفَرَ.
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, পেঁচা বলতে কিছু নেই এবং ছাফার বলতে কিছু নেই’।[7]
আরবদের মাঝে এ বিশ্বাসও ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল যে, ক্ষুধামন্দায় আক্রান্ত লোকের পেটে জিন বা শয়তান প্রবেশ করে আছে, যারা তার পেটের সব খাবার সাবাড় করে ফেলে। এই জিন বা শয়তানকে তারা ছাফার বলত। আলোচ্য হাদীছে এই ছাফারের কথাকেই নাকচ করা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষেরা যে কিছু সংখ্যক রোগ-ব্যাধিকে শয়তানের প্রভাবে হয় বলে ধারণা করে, তা বাতিল; এর কোন ভিত্তি নেই। যেমন আমরা গুটিবসন্তের মত রোগগুলোর কথা আলোচনা করলাম, হিন্দুস্তানের মুশরিকরা যেগুলোকে বিভিন্ন দেবতার ক্ষমতার প্রভাবে হয় বলে ধারণা করে থাকে। জাহেলী যুগে মনে করা হত, ছফর মাসে অশুভ আছে। এ মাসে সকল গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে মানুষের বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে বিবাহ-শাদী, ভ্রমণ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেন-দেনের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো। তাদের এ বিশ্বাসগুলোর মধ্যে আরো ছিল, যাতে হিন্দুস্তানের মুশরিকেরাও বিশ্বাসী ছিল যে, ছফর মাসের ১৩ দিন বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে অশুভ। এই দিনগুলোকে তারা তিক্ত বলে নামকরণ করত এবং এ সময়ে বালা-মুছীবত নেমে আসে এবং উক্ত দিনের কাজসমূহ নষ্ট ও খারাপ হয়ে যায় বলে ধারণা করত। অনুরূপভাবে অন্য কোন মাসের নির্দিষ্ট কিছুদিনকে অশুভ মনে করে সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকাও শিরক। বরং আবশ্যক হল, সকল বিষয়ে মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও নির্ভর করা, যিনি একমাত্র উপকার ও অনিষ্টকারী এবং দাতা। পৃথিবীর বস্ত্ত সমূহের মধ্যে যার প্রভাব সুনির্দিষ্ট। যেমন হাদীছে এসেছে-
عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخَذَ بِيَدِ مَجْذُوْمٍ فَوَضَعَهَا مَعَهُ فِي الْقَصْعَةِ وَقَالَ كُلْ ثِقَةً بِاللهِ وَتَوَكُّلًا عَلَيْهِ.
জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) জনৈক কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত ব্যক্তির হাত ধরে তাঁর খাবারের থালায় রেখে বললেন, ‘আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও ভরসা করে খাও’।[8]
যে সকল কথা মহান আল্লাহর প্রতি অবজ্ঞা ও অসম্মান নির্দেশ করে, সেসব কথা শুনে চুপ থাকা বৈধ নয় :
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ أَتَى رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ جَهِدَتِ الْأَنْفُسُ وَجَاعَ الْعِيَالُ وَنُهِكَتِ الْأَمْوَالُ وَهَلَكَتِ الْأَنْعَام فَاسْتَسْقِ اللهَ لَنَا فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِكَ عَلَى الله نستشفع بِاللَّهِ عَلَيْكَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم্َরسُبْحَانَ اللهِ سُبْحَانَ اللهِগ্ধ . فَمَا زَالَ يسبّح حَتَّى عُرف ذَلِك فِيْ وُجُوه أَصْحَابه ثُمَّ قَال্َরوَيْحَكَ إِنَّهُ لَا يُسْتَشْفَعُ بِاللهِ عَلَى أَحَدٍ شَأْنُ اللهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ وَيْحَكَ أَتَدْرِيْ مَا اللهُ إِنَّ عَرْشَهُ عَلَى سَمَاوَاتِهِ لَهَكَذَاগ্ধ وَقَالَ بِأَصَابِعِهِ مَثْلَ الْقُبَّةِ عَلَيْهِ. وَإِنَّهُ لَيَئِطُّ بِهِ أَطِيطَ الرَّحْلِ بِالرَّاكِبِ.
জুবায়ের ইবনে মুত্ব‘ইম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট জনৈক বেদুঈন এসে বললেন, মানুষ কষ্টে পড়ে গেছে, শিশুরা ক্ষুধার কষ্টে চিৎকার করে কাঁদছে, পশু-প্রাণী মরে যাচ্ছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট বৃষ্টি বর্ষণের দু‘আ করুন। আমরা আপনাকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশকারী বানাচ্ছি, আর আল্লাহকে আপনার নিকট সুপারিশকারী বানাচ্ছি। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ পুত-পবিত্র, আল্লাহ পুত-পবিত্র)! তিনি মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতে লাগলেন। এমনকি ছাহাবীগণের চেহারায় তার প্রতিক্রিয়া দেখা গেল। অতঃপর তিনি বললেন, নির্বোধ! মহান আল্লাহ কারো নিকট সুপারিশ করেন না। তাঁর মর্যাদা এর চেয়ে বহু ঊর্ধ্বে। নির্বোধ! তুমি কি জান, আল্লাহ কে? তাঁর আরশ তাঁর আসমানে এভাবে আছে এবং আঙ্গুলসমূহ দ্বারা গম্বুজের মত বানিয়ে বললেন, আর তাঁর কারণে তা চড় চড় শব্দ করে উঠে যেমনিভাবে আরোহীর কারণে কাজওয়া চড় চড় করে’।[9]
এই হাদীছ থেকে আমরা জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তির প্রতি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কঠিন অস্বীকৃতির কথা জানতে পারি। যখন গ্রাম্য ব্যক্তিটি বলেছিলেন, আমরা আপনাকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশকারী এবং আল্লাহকে আপনার নিকট সুপারিশকারী বানাচ্ছি। একথা শুনে রাসূল (ছাঃ) কতই না শঙ্কিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহর জন্য ভীত হয়ে অধিক হারে তাসবীহ ও তাহলীল পাঠ করা শুরু করেছিলেন। ভয় ও উৎকণ্ঠায় উপস্থিত সবার চেহারাগুলো পরিবর্তন হয়ে গেল। অতঃপর রাসূল (ছাঃ) সেই গ্রাম্য লোকটিকে বুঝিয়ে বললেন যে, স্বভাবত যার কাছে সুপারিশ করা হয়, তার চেয়ে সুপারিশকারীর মর্যাদা কম হয়। আর মহান আল্লাহ সুউচ্চ ও সুমহান। তাঁর কারো কাছে সুপারিশের প্রয়োজন হয় না। আর যে মালিক, তার কাছেই তো মর্যাদাপ্রাপ্ত বিশেষ কেউ সুপারিশ করতে পারে। অতঃপর সুপারিশকারীর সন্তুষ্টি ও মর্যাদার কারণে তার সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। মহান আল্লাহর হাতেই সকল বিষয়ের কর্তৃত্ব। তিনি ছাড়া অন্যরা সবাই তাঁর কাছে অপারগ, দুর্বল ও মুখাপেক্ষী। সেখানে কিভাবে আল্লাহর দ্বারা তাঁর একজন সাধারণ সৃষ্টির কাছে সুপারিশ চাওয়া সমীচীন হবে। সকল নবী ও ওলীকে যদি মহান আল্লাহর ক্ষমতা ও মর্যাদার সাথে ওযন করা হয়, তাহলে তাঁর সম্মান-মর্যাদার সামনে তাদের ওযন একটি পরমাণু থেকেও নগণ্য হবে। গোটা আসমান ও যমীনকে তাঁর আরশ একটি গম্বুজের মত বেষ্টন করে আছে। এত বিশাল হওয়া সত্ত্বেও আরশ তাঁর বড়ত্ব ও বিশালত্বকে ধারণ করতে অক্ষম এবং তাঁর ভারে শব্দ করছে। কোন সৃষ্টির পক্ষ তাঁর বিশালত্ব সম্পর্কে ধারণা করা এবং নিজের কল্পনা দিয়ে পরিমাপ করাও অসম্ভব। কার সাধ্য রয়েছে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে প্রবেশ করে নিজের হুকূমাত কায়েম করার? তিনি যা চান তাই হয়, তিনি যা ইচ্ছে হুকুম দেন। এসব করতে তাঁর কোন উযীর বা উপদেষ্টার প্রয়োজন হয় না। যিনি চোখের পলকেই অসংখ্য কাজ আঞ্জাম দেন, তিনি কী করে কাছে এসে সুপারিশ করতে পারেন এবং তিনি ছাড়া কেইবা কার্যসমূহ সম্পাদন করতে পারে?
কি আশ্চর্য! মুহাম্মদ (ছাঃ), যাকে মহান আল্লাহ সকল সৃষ্টির উপর মর্যাদা দান করেছেন। তিনি একজন গ্রাম্য ব্যক্তির স্বল্প জ্ঞানের দরুন মহান আল্লাহকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক কথা বলতে শুনে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেন এবং আরশ থেকে যমীন পর্যন্ত তাঁর যে বড়ত্ব ছড়িয়ে আছে, তার বর্ণনা গাইতে শুরু করলেন। তাদের কথা আর কি বলা যাবে, যারা আল্লাহর ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করে কথা বানিয়ে বলার স্পর্ধা দেখায়। তাদের কথার ভারে যেন এখনই আসমান ফেটে পড়বে, যমীন বিদীর্ণ হয়ে যাবে এবং পাহাড়গুলো ভেঙ্গে পড়বে। এমনকি তারা আল্লাহর সাথে আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের মত সম্পর্কের দাবী করে। তাদের কেউ বলে, আমি সামান্য একটি কড়ি দিয়ে আমার রবকে কিনেছি। আবার তাদের কেউ বলে, আমি রবের চাইতে দুই বছরের বড়। কেউ বলে, আমার রব যদি আমার পীরের আকৃতি ছাড়া অন্য কোন আকৃতিতে প্রকাশিত হন, তাহলে আমি তাঁর দিকে চোখ তুলেও তাকাবো না। আবার তাদের জনৈক কবি বলে,
دل ازمهر محمد ريش دارم ু رقابت با خدائ خويش دارم.
‘আমার হৃদয় মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রেমে ক্ষতবিক্ষত। আমি আমার রবের সাথে শত্রুতা পোষণ করি’। তাদের কতক কবি বলে,
با خدا ديواني باش - و با محمد هو شيار.
‘আল্লাহর সাথে পাগলের আচরণ কর, কিন্তু মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সাথে আচরণের সময় অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন কর’। তাদের কেউ আবার বলে, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর মর্যাদা ও অবস্থান, মহান আল্লাহর মর্যাদা ও অবস্থান থেকেও উত্তম। এ ধরনের মিথ্যাচার থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন! এ ব্যাপারে জনৈক ফার্সী কবি কতই না উত্তম কথা বলেছেন,
از خدا خواهيم توفيق ادب ـ بي ادب محروم ﮔشت از فضل رب.
‘আমরা আল্লাহর নিকট আদব ও শিষ্টাচারের তাওফীক্ব চাচ্ছি, বেয়াদব শিষ্টাচারহীন ব্যক্তি মহান আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়’। আবার দেখা যায়, কিছু মানুষের সামনে যখন কোন প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্দিষ্ট সংখ্যক বার বলতে থাকে, (يا الشيخ عبد القادر الجيلاني شيئا لله) ‘হে আব্দুল ক্বাদের জীলানী, আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের আশা-আকাঙক্ষা পূরণ করুন’। উপরোলিস্নখিত হাদীছ এই ব্যাখ্যা ও তার কদর্যতার উপর প্রমাণ বহন করছে। আব্দুল ক্বাদের জীলানীর কাছে চাওয়া এবং আল্লাহকে অসীলা করে তার কাছে চাওয়া এই দু’টি বিষয়ের বিপরীতটা হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। অতঃপর পীরের দু‘আর অসীলায় আল্লাহর কাছে চাওয়া বৈধ, কিন্তু আল্লাহর অসীলায় পীরের কাছে চাওয়া বৈধ নয়।
মোদ্দাকথা হল, শিরকের সামান্য গন্ধ রয়েছে এমন কথা মুখে উচ্চারণ করা এবং মহান আল্লাহর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা বৈধ নয়। কেননা তিনি সুউচ্চ, কঠোর, অমুখাপেক্ষী, ক্ষমতাধর ও রাজাধিরাজ, তিনি কাউকে পরোয়া করেন না। তিনি চাইলে পাহাড়ের মত ক্ষুদ্র একটি বিষয়ে পাকড়াও করতে পারেন, আবার চাইলে পাহাড়ের মত বিশাল বিষয়কেও এক কথায় ক্ষমা করে দিতে পারেন। কারো জন্য এটা বলাও উচিত হবে না যে, সে প্রকাশ্য বেয়াদবীমূলক কথা আল্লাহর শানে বলে এটা দাবী করে যে, এর দ্বারা ভাল অর্থ গ্রহণ করেছে। ঠাট্টা ও হেঁয়ালিপূর্ণ কথা আল্লাহর শানে বলা সাজে না। আমরা কোন জ্ঞানবান লোককে বাদশাহ বা তার পিতার সাথে সাহিত্যিকদের তৈরি করা হেঁয়ালি ও ইঙ্গিতসূচক কথা বলতে দেখি না; বরং তারা সচেতনতার সাথে স্পষ্ট ভাষায় কথা বলে, যাতে পূর্ণ আদব বজায় থাকে। এসব হেঁয়ালিপূর্ণ সাহিত্যমাখা কথাগুলো বন্ধু-বান্ধব ও সাহিত্যের আসরের ক্ষেত্রেই কেবল মানানসই।
(চলবে)
মূল : শাহ ইসমাঈল শহীদ (রহঃ)
অনুবাদ : আব্দুল্লাহ বিন খোরশেদ
[1]. ছহীহ বুখারী হা/৮৪৬; ছহীহ মুসলিম হা/৭১; আবুদাঊদ হা/৩৯০৬; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা হা/১৮৪৬; আহমাদ হা/১৭০৬১।
[2]. ইমাম সুয়ূতী, শরহে সুনানে ইবনে মাজাহ, ১ম খণ্ড, ২৬৫ পৃঃ; মিশকাত হা/৪৬০৪।
[3]. ছহীহ মুসলিম হা/২২৩০; আহমাদ হা/১৬৬৩৮; মিশকাত হা/৪৫৯৫।
[4]. আবুদাঊদ হা/৩৯০৭; আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন, কারণ এর মধ্যে ‘হায়্যান ইবনে মাখারিক আবুল ‘আলা নামে একজন অজ্ঞাত রাবী রয়েছে; বায়হাক্বী, সুনানুল কুবরা হা/১৬৫১৫; মিশকাত হা/৪৫৮৩।
[5]. আবুদাঊদ হা/৩৯১০; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৩৮; ছহীহ ইবনে হিববান হা/৬১২২; মিশকাত হা/৪৫৮৪।
[6]. আবুদাঊদ হা/৩৯২১; মুসনাদে আহমাদ হা/১৫০২; মিশকাত হা/৪৫৮৬।
[7]. ছহীহ বুখারী হা/৫৭৭০; ছহীহ মুসলিম হা/২২২০; আবুদাঊদ হা/৪৯১২; ইবনু মাজাহ হা/৮৬; নাসাঈ, সুনানুল কুবরা হা/৭৫৪৮; মিশকাত হা/৪৫৭৮।
[8]. আবুদাঊদ হা/৩৯২৫; ইবনু মাজাহ হা/৩৫৪২; মিশকাত হা/৪৫৮৫; আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন; সিলসিলা যঈফাহ হা/১১৪৪।
[9]. আবুদাঊদ হা/৪৭২৬; তাবারানী, মু‘জামুল কাবীর হা/১৫৪৭; মিশকাত হা/৫৭২৭; আলবানী হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন; সিলসিলা যঈফাহ হা/২৬৩৯।
