প্রশ্ন (১) : ক্বিয়ামতের দিন জান্নাত পরিপূর্ণ হবে না-কি ফাঁকা থাকবে?
-তানভীরুল ইসলাম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
উত্তর : ক্বিয়ামতের দিন জান্নাত-জাহান্নাম উভয়ই পূর্ণ হবে (বুখারী হা/৪৮৫০; মুসলিম হা/২৮৪৬; মিশকাত হা/৫৬৯৪)।
প্রশ্ন (২) : যদি কারো নগদ দুই লক্ষ টাকা ও দুই ভরির কিছু কম ব্যবহৃত স্বর্ণ থাকে, তাহলে কি তাকে দু’টোরই যাকাত দিতে হবে? যদি যাকাত দিতেই হয়, তাহলে কিসের হিসাবে দিবে, স্বর্ণের না রৌপ্যের?
-সুরাইয়া বেগম
পীরগঞ্জ, রংপুর।
উত্তর : এ অবস্থায় শুধু টাকার যাকাত দিতে হবে। স্বর্ণের যাকাতের নিছাব ৮৫ গ্রাম বা বিশ দিনার স্বর্ণ। আর রৌপ্যের যাকাতের নিছাব ৫৯৫ গ্রাম বা দুইশ’ দিরহাম রৌপ্য (আবুদাঊদ; বুলূগুল মারাম হা/৫৯২-৫৯৩)। নগদ অর্থকে স্বর্ণ বা রৌপ্য যে কোন একটির হিসাবে হিসাব করে যাকাত আদায় করা যায়। তবে, যাকাতপ্রাপ্তদের জন্য যেটা বেশী আশাব্যঞ্জক, সেটা ধরে যাকাত দেওয়াকে অনেকেই ভালো মনে করেন।
প্রশ্ন (৩) : আমাদের গ্রামের মসজিদে ফরয ছালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত চালু থাকায় ইমামসহ কোন কোন মুছলস্নী অন্যান্য মুছলস্নীদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেছে যে, ফরয ছালাতের পর এভাবে সম্মিলিত মুনাজাত করা বিদ‘আত। কিন্তু বিষয়টি তারা বুঝার চেষ্টা করছে না। এমনকি একে কেন্দ্র করে ইমামসহ জনৈক মুছলস্নীকে মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে এবং এর পক্ষে পুলিশি নির্দেশনাও জারী হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা একটি মসজিদ নির্মাণ করে পৃথকভাবে সেখানে ছালাত আদায় করছি। শারঈ দৃষ্টিতে এটা জায়েয হচ্ছে কি?
-গোলাম আযম
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উত্তর : এ অবস্থায় মসজিদ পৃথক করা ঠিক হয়নি। সর্বদা প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে ধৈর্যের সাথে দাওয়াত দিতে হবে এবং বৃহত্তর মুসলিম ঐক্যের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মসজিদ ভিন্ন না করে ঐ মসজিদেই সকলে মিলে ছালাত আদায় করা উচিত ছিল। ছালাত শেষে আপনারা আপনাদের মত সুন্নাতী পদ্ধতিতে যিকর-আযকার ও দু‘আ পড়তে পারতেন। কেউ বিদ‘আত করলে সে তার বিদ‘আতের জন্য দায়ী হবে।
প্রশ্ন (৪) : জামা‘আত শেষ হয়ে গেলে পুনরায় জামা‘আত শুরু করার জন্য ইক্বামত দিতে হবে কি?
-বনী আমীন
সৈয়দপুর, নীলফামারী।
উত্তর : হ্যাঁ, ইক্বামত দিতে হবে (মুছান্নাফ ইবনি আবী শায়বাহ, হা/২২৯৮; ইবনু কুদামাহ, আল-মুগনী, ১/৩০৬ পৃঃ)।
প্রশ্ন (৫) : সূরা তওবার ১১৩ নং আয়াতের ব্যাখ্যা কী?
-আনোয়ার হুসাইন
সাদুল্যাপুর, গাইবান্ধা।
উত্তর : কেউ মুশরিক অবস্থায় মারা গেলে তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যাবে না- যদিও সে নিকটতম আত্মীয় হয়। রাসূল (ছাঃ) তাঁর চাচা আবু তালেবের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাইলে উক্ত আয়াত নাযিল হয় (বুখারী হা/১৩৬০; মুসলিম হা/২৪)।
প্রশ্ন (৬) : যদি কোন আত্মীয় শিরক করতেই থাকে, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক রাখা যাবে কি?
-মাসুম বিল্লাহ
কোরপাই, কুমিল্লা।
উত্তর : তার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে; তবে তাকে শিরক বর্জনের নছীহত করে যেতে হবে। অবশ্য, সাময়িক বর্জন যদি তার শিরক থেকে ফিরে আসতে সহায়ক হয়, তাহলে তা করা যেতে পারে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৪৯১৩)।
প্রশ্ন (৭) : কোন লভ্যাংশ গ্রহণ না করার নিয়তে ব্যাংকে টাকা জমা রেখে প্রয়োজনের সময় তা উত্তোলন করি। কিন্তু ব্যাংক যদি আমার জমাকৃত টাকা অন্যকে লোন দেয়, তবে কি আমি গুনাহগার হব?
আব্দুল্লাহ তাহমীদ
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : যেহেতু শতভাগ সূদমুক্ত কোন ব্যাংক নেই এবং মানুষকে অর্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যাংকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে, সেহেতু কোন লভ্যাংশ ভোগ না করার শর্তে ব্যাংকে লেনদেন করা যায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সূদী লেনদেনের জন্য আপনি দোষী হবেন না ইনশাআল্লাহ। উল্লেখ্য, আপনার লভ্যাংশ ব্যাংকে রেখে দিলে তারা সেটা অন্য কোন সূদী কারবারে লাগাতে পারে। সেজন্য, তা উঠিয়ে নিয়ে জনকল্যাণমূলক কোন কাজে দিয়ে দেওয়া ভাল। তবে এক্ষেত্রে নেকীর কোন আশা করা যাবে না।
প্রশ্ন (৮) : নিজ এলাকায় মাযহাবী বা হানাফী মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করা ভাল; না-কি দূরে অবস্থিত আহলেহাদীছ মসজিদে দান করা ভাল?
আব্দুর রহীম
বাশদহা, সাতক্ষীরা।
উত্তর : সঠিক আক্বীদার মসজিদে দান করতে হবে। অন্যথা পাপের সহযোগিতা করা হবে (মায়েদাহ ২)।
প্রশ্ন (৯) : পিতা বা মাতা কাফের কিংবা মুশরিক হলে সন্তান কি তার জানাযা পড়াতে পারবে?
পারভেজ
পুঠিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : পিতা বা মাতা কাফের কিংবা মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তাদের জন্য জানাযার ছালাত আদায় করা হারাম’ (তওবাহ-৮০, ১১৩-১১৪)।
প্রশ্ন (১০) : স্বর্ণের পাত্রে কোন কিছু খাওয়া ও পান করা যাবে কি?
সুমন আলী
বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : স্বর্ণের পাত্রে কোন কিছু খাওয়া ও পান করা হারাম’ (বুখারী হা/৫৬৩৩; মুসলিম হা/২০৬৫; মিশকাত হা/৪২৭২)।
প্রশ্ন (১১) : ওযূ ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে কি?
যাকীর আহমাদ
দিনাজপুর
উত্তর : পবিত্র থাকলে ওযূ ছাড়াও কুরআন স্পর্শ করা যায়। আলী, ইবনে মাসঊদ, সা‘দ ইবনে আবু ওয়াক্কাছ, সাঈদ ইবনে যায়েদ, আত্বা, যুহরী, নাখঈ, চার ইমাম, শায়খ ইবনে বায, শায়খ উছায়মীনসহ জমহূর বিদ্বানের মতে, ওযূ ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা যাবে না (তাফসীর কুরতুবী, ১৭/২২৬; ফাতাওয়া ইবনে বায, ৪/৩৮৩; আশ-শারহুল মুমতে‘, ১/৩১৫)। তবে অপবিত্র অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করে পড়া যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘পুত-পবিত্ররা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না’ (ওয়াক্বিয়াহ ৭৯)। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ ‘কুরআন যেন পবিত্র ছাড়া কেউ স্পর্শ না করে’ (মুওয়াত্ত্বা মালেক হা/৬৮০; ইরওয়াউল গালীল হা/১২২, ১/১৫৮ পৃঃ; সনদ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘ হা/৭৭৮০)। তবে যিকির হিসাবে স্পর্শ ছাড়াই পড়া যাবে (মুসলিম হা/৩৭৩)।
প্রশ্ন (১২) : সুন্নাত ছালাতে সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করা হলে সিজদা দিতে হবে কি?
তানভীরুল ইসলাম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
উত্তর : তেলাওয়াতের সিজদা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। তাই তেলাওয়াতকারী সর্বাবস্থায় তা আদায় করবে। তবে কখনও কোন কারণে সিজদা করতে না পারলে, তা ধর্তব্য হবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) থেকে সিজদা করা এবং ত্যাগ করা উভয়ই প্রমাণিত (বুখারী হা/১০৭৩; মুসলিম হা/২৫৪; মিশকাত হা/১০২৬)।
প্রশ্ন (১৩) : অনেকেই বলেন, নবী-রাসূলগণের সংখ্যা ১২৪০০০ মতান্তরে ২২৪০০০। কোন্্টি সঠিক?
সাফিউল্লাহ বিন আব্দুস ছাত্তার
ইসলামপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উত্তর : নবীগণের সংখ্যা সম্পর্কে আল্লাহই সর্বাধিক অবগত (নিসা ১৬৪)। তবে আল্লাহ ৩১৫ জন রাসূল পাঠিয়েছেন মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (আহমাদ হা/২১৫৮৬; সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৬৮)। উল্লেখ্য যে, ১ লক্ষ ২৪ হাযার নবী-রাসূল প্রেরণ সম্পর্কিত বর্ণনা ত্রুটিপূর্ণ (আহমাদ হা/২২৩৪২; সিলসিলা যঈফাহ হা/৬০৯০; মিশকাত হা/৫৭৩৭)।
প্রশ্ন (১৪) : হারাম টাকা দিয়ে হজ্জ করলে তা কবুল হবে কি?
ফারহানা
পুঠিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : হারাম টাকায় হজ্জ করলে তা কবুল হবে না’ (মুসলিম হা/১০১৫; মিশকাত হা/২৭৬০)।
প্রশ্ন (১৫) : পড়ে পাওয়া টাকা মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জন্য নির্ধারিত কোন সময় আছে কি?
মিরাজ
পুটিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : পূর্ণ এক বছর জনসমাগমস্থলে প্রচার করতে হবে (বুখারী হা/৯১; মুসলিম হা/১৭২২; মিশকাত হা/৩০৩৩)। উল্লেখ্য যে, পড়ে পাওয়ার প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন এবং পরবর্তীতে অবস্থার পেক্ষাপটে ঘোষণা করবে।
প্রশ্ন (১৬) : মালিকের অনুমতি ছাড়া চাকর বা শ্রমিক বাগানের ফল খেতে পারে কি?
ওয়ালীদ
পুঠিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : মালিকের অনুমতি ছাড়া চাকর বা শ্রমিক বাগানের ফল খেতে পারবে না’ (মুসলিম হা/৩০০৯, আবুদাঊদ হা/১৯০৭)। তবে ঝরে পড়লে তা খেতে পারে (বুখারী হা/২৪৩১; মুসলিম হা/১০৭১)।
প্রশ্ন (১৭) : বারো বছর বয়সী অসুস্থ সন্তানের বিছানায় কি পিতা বা মাতা ঘুমাতে পারবে?
সুমন আলী
বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : এমন পরিস্থিতিতে সন্তানের বিছানায় পিতা বা মাতা ঘুমাতে পারে। কেননা ইসলাম সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না’ (বাক্বারাহ ২৮৬)।
প্রশ্ন (১৮) : হিন্দু, বৌদ্ধ, ইয়াহূদী কিংবা কোন খ্রীস্টানকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করানোর নিয়ম কী?
নাছরীন বেগম
পুটিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : কোন অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে প্রথমে গোসল করবে; অতঃপর জেনে-বুঝে ও পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে (আবুদাঊদ হা/৩৫৫)। উক্ত নিয়মে ইসলাম গ্রহণের পর ইসলামের সকল বিধি-বিধান মেনে চলবে।
প্রশ্ন (১৯) : বিড়াল মেরে ফেললে তার ওযনের সমপরিমাণ লবণ ছাদাক্বা করে তাকে পুঁতে ফেলতে হবে- একথা কি ঠিক?
আমিরুল ইসলাম
মোহনপুর, নওগাঁ।
উত্তর : এ ধরনের কথা সামাজিক কুসংস্কার মাত্র। তাছাড়া কোন প্রাণীকে সাধারণত মেরে ফেলা উচিত নয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না’ (বুখারী হা/৬০১৩; মিশকাত হা/৪৬৭৮)। বিড়াল মেরে ফেলার কারণে এক মহিলা জাহান্নামী হয়েছে (বুখারী হা/৭৪৫)।
প্রশ্ন (২০) : চুরির শাস্তি হাত কাটা; কিন্তু হাত না কেটে ছোট কোন শাস্তি দেওয়া যাবে কি?
রফীকুল ইসলাম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
উত্তর : চুরির একমাত্র শাস্তি হাত কাটা (মায়েদাহ ৩৮)। যা বাস্তবায়ন করবে মুসলিম শাসক কিংবা তার প্রতিনিধি (তালখীছ ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ ১/২১২ পৃঃ)। কোন মুসলিম শাসক কিংবা তার প্রতিনিধির জন্য ‘হদ’-এর এ শাস্তি পরিবর্তন করা হারাম (তালখীছ ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ ১/২১৫পৃঃ)।
প্রশ্ন (২১) : বেনামাযী হাফেয জান্নাতে যেতে পারবে কি?
মঈনুদ্দীন
কানসাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উত্তর : ছালাত পরিত্যাগ করা কুফরী (মুসলিম হা/৮২; মিশকাত হা/৫৬৯)। তবে এ প্রকারের মুসলিম কর্মগত কাফের হলেও বিশ্বাসগত কাফের নয়। বিধায় খালেছ অন্তরে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করার বরকতে এবং কাবীরা গুনাহগারদের জন্য মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর শাফা‘আতের ফলে শেষ পর্যায়ে এক সময় তারা জান্নাতে ফিরে আসতে পারে (বুখারী হা/৭৫১০; মিশকাত হা/৫৫৭৩-৭৪)। কিন্তু তারা সেখানে জাহান্নামী বলেই অভিহিত হবে (বুখারী হা/৬৫৬৬; মিশকাত হা/৫৫৮৫)। ছালাত পরিত্যাগকারী জান্নাতে যেতে পারবে না (ফাতাওয়াল-লাজনাহ আদ-দায়েমাহ, ১/৭৩১; ফাতাওয়া আরকানিল ইসলাম, পৃঃ ২৮১; )।
প্রশ্ন (২২) : প্রতিবেশী খ্রীস্টান বা বিধর্মী কোন ব্যক্তি খাবার দিলে তা খাওয়া যাবে কি?
মঈনুদ্দীন
কানসাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উত্তর : খাবার হালাল হলে ও আল্লাহর নামে যবেহকৃত পশু বা প্রাণীর গোশত হলে তা খাওয়া যাবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব যে জীবকে আল্লাহর নাম দিয়ে যবেহ করা হয়েছে, তা তোমরা ভক্ষণ কর, যদি তোমরা আল্লাহর বিধানের প্রতি ঈমান রাখ’ (আন‘আম ১১৮)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ইয়াহূদীদের বাড়ীতে দাওয়াত খেয়েছেন (বুখারী হা/২৬১৭; মুসলিম হা/২১৯০; আবুদাঊদ হা/৪৫০৮; মিশকাত হা/)।
প্রশ্ন (২৩) : আযান চলাকালীন মুনাজাত করা যাবে কি?
মারুফ বিল্লাহ
তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : আযান চলাকালীন মুনাজাত করা শরী‘আত সম্মত নয়। বরং এসময় আযানের জওয়াব দিতে হবে (মুসলিম হা/৩৮৪; মিশকাত হা/৬৫৭)।
প্রশ্ন (২৪) : সন্তান হয় না এমন ব্যক্তি কি ইমামতি করতে পারবে?
মারুফ বিল্লাহ
তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ।
উত্তর : প্রশ্নোল্লেখিত বিষয়টি ইমামতির শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয় (মুসলিম হা/৬৭৩; মিশকাত হা/১১১৭, ১১২৬)। কাজেই উক্ত ব্যক্তির ইমামতি করাতে শারঈ কোন বাধা নেই।
প্রশ্ন (২৫) : চাচীকে বিবাহ করার হুকুম কী?
আব্দুল বাছীর
নওদাপাড়া, রাজশাহী।
উত্তর : সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে যাদেরকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে, চাচী তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
প্রশ্ন (২৬) : প্রচলিত দু’টি দু‘আ ছাড়া জানাযার জন্য অন্য কোন দু‘আ আছে কি?
আব্দুল জলীল
বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : মৃত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট কোন দু‘আ নেই, বরং যে কোন দু‘আ করা যেতে পারে। তবে হাদীছে বর্ণিত দু‘আগুলো করাই উত্তম (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৫২২ পৃঃ)। প্রচলিত দু’টি দু‘আ ছাড়াও আরও দু‘আ রয়েছে। যার কয়েকটি নিমেণ প্রদত্ত হলঃ
اللهم إِنَّ فُلاَنَ بْنَ فُلاَنٍ فِى ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ.
হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক তোমার যিম্মাহ ও তোমার আনুগত্যে সমর্পণ করলাম। তুমি তাকে কবর ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও। তুমি ওয়াদা পালনকারী ও সত্যের অধিকারী। তুমি ক্ষমা কর ও তার প্রতি রহম কর। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু (আবুদাঊদ হা/৩২০২; ইবনু মাজাহ হা/১৪৯৯, সনদ ছহীহ)।
اللهم عَبْدُكَ وَابْنُ أَمَتِكَ احْتَاجَ إِلَى رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ غَنِىٌّ عَنْ عَذَابِهِ فَإِنْ كَانَ مُحْسِنًا فَزِدْ فِىْ إِحْسَانِهِ وَإِنْ كَانَ مُسِيْئًا فَتَجَاوَزْ عَنْهُ.
হে আল্লাহ! নিশ্চয় তোমার বান্দা ও তোমার (নবীর) উম্মতের সন্তান তোমার রহমতের মুখাপেক্ষী। তুমি তার শাস্তি দূর করার ব্যাপারে স্বয়ং সম্পূর্ণ। যদি মুহসিন হয় তাহলে তার নেকী বৃদ্ধি কর। আর পাপী হলে তার পাপ মুছে ফেল (হাকেম হা/১৩২৭, সনদ ছহীহ)। এছাড়া ছাহাবা, তাবে-তাবেঈন ও সালফে ছালেহীন থেকেও বেশ কিছু দু‘আ বর্ণিত হয়েছে (الدعاء للميت وما ينفعه من القربات من الكتاب والسنة ১/৬-৯ পৃঃ)।
প্রশ্ন (২৭) : জানাযার ছালাতের শেষের তাকবীর না দিয়ে ভুলক্রমে সালাম ফিরালে উক্ত ছালাত হবে কি? না-কি নতুনভাবে তা আদায় করতে হবে?
আব্দুল জলীল
বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাত হয়ে যাবে। নতুনভাবে তা আদায় করতে হবে না (মুগনী ৪/৪৪ পৃঃ, মাসআলা নং ১৫৭৩)।
প্রশ্ন (২৮) : জানাযার ছালাত সরবে পড়তে হবে না-কি নীরবে? এ ছালাতে ছানা পড়া আবশ্যক কি?
আব্দুল জলীল
বাগমারা, রাজশাহী।
উত্তর : জানাযার ছালাত সরবে ও নিরবে দুভাবেই পড়া যায় যায় (নাসাঈ হা/১৯৮৭; বায়হাক্বী, সুনানে কুবরা হা/৭২০৯, সনদ ছহীহ; ইরওয়াউল গালীল হা/৭৩৪)। এ ছালাতে ছানা পড়ার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না (ছিফাতু ছালাতিন নাবী ১/২৫৮ পৃঃ-এর টীকা নং ৩)।
প্রশ্ন (২৯) : সন্দেহপূর্ণ কাজ করা যাবে কি?
ছানোয়ারা
পুঠিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : যাবে না। কেননা সন্দেহপূর্ণ কাজ হারামের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘এক বাস্তব সত্য তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে, সুতরাং তুমি সংশয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (বাক্বারাহ ১৪৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঐসব সন্দেহযুক্ত বস্ত্তর মধ্যে লিপ্ত হবে, সে হারামেই পতিত হবে’ (বুখারী হা/৫২; বুলূগুল মারাম হা/১৪৬৭)।
প্রশ্ন (৩০) : গান-বাজনা থেকে বেঁচে থাকার জন্য করণীয় কী?
আফিয়া
পুঠিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : আল্লাহকে যথাযথ ভয় করা। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তুমি যেখানে যেভাবে থাকবে, আল্লাহকে ভয় করবে। কোন কারণবশত পাপ কাজ হয়ে গেলে তারপর ভাল কাজ করবে। তা তোমার পাপকে মিটিয়ে দিবে’ (আহমাদ হা/২১৩৯২; তিরমিযী হা/১৯৮৭; দারেমী হা/২৭৯১; মিশকাত হা/৫০৮৩)।
প্রশ্ন (৩১) : কোন হিন্দু কি জান্নাতে যেতে পারবে?
আকীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।
উত্তর : না; কোন হিন্দু জান্নাতে যেতে পারবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবন ব্যবস্থা অন্বেষণ করবে তা কখনই তার নিকট হতে গ্রহণ করা হবে না। অতএব পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আলে ইমরান ৮৫)।
প্রশ্ন (৩২) : হাতের কোন আঙ্গুল থেকে তাসবীহ গণনা শুরু করতে হবে?
আকীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।
উত্তর : ডান হাতে তাসবীহ গণনা করতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) খানাপিনাসহ সকল শুভ ও পবিত্র কাজ ডান হাতে করতেন এবং পায়খানা-পেশাব ও অন্যান্য কাজ বাম হাতে করতেন (আবুদাঊদ হা/৩২-৩৩; মিশকাত হা/৩৪৮)। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে ডান হাতে তাসবীহ গণনা করতে দেখেছি (বায়হাক্বী ২/১৮৭; আবুদাঊদ হা/১৫০২)। আর এটা স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, ডান হাতের গণনা কড়ে আঙ্গুল দিয়ে শুরু করতে হয়, বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে নয়। কেননা ডান হাতের ডান পাশ কড়ে আঙ্গুল দিয়েই শুরু হয়েছে এবং এ আঙ্গুল দিয়ে গণনা শুরু করাটাই সহজ ও স্বভাবগত।
প্রশ্ন (৩৩) : হাতির গোশত খাওয়া যাবে কি?
আকীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।
উত্তর : হাতির গোশত খাওয়া যাবে না। কেননা তা খাওয়া হারাম (ফাতাওয়া শাবাকা ইসলামিয়্যাহ ৪/১১৪১ পৃঃ)।
প্রশ্ন (৩৪) : কোন সংগঠনের আমীরের নিকট বায়‘আত করা যাবে কি?
হোসাইন মাহমুদ বুখারী
সাঘাটা, গাইবান্ধা।
উত্তর : যাবে না। বরং বায়‘আত নিতে হবে দেশের মুসলিম সরকারের নিকটে। অথচ বর্তমানে অনেক ছুফি বিদ‘আতী লোক হাতে হাত ধরে বায়‘আত করেন। এ পদ্ধতি রাসূল (ছাঃ)-এর আদর্শের পরিপন্থী। বরং সবাই কুরআন-সুন্নাহকে অাঁকড়ে ধরবে। কোন প্রকার গোঁড়ামি করবে না। একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ কর বিভক্ত হয়ো না’ (আলে ইমরান ১০৩)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হক্বের উপর লড়াই করবে। তারা তাদের শত্রুদের উপর বিজয়ী থাকবে। এমনকি তাদের শেষ দলটি দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে’ (মুসলিম হা/১৯২০)। তবে যে সংগঠন একে অপরের বিরুদ্ধে গীবত-তোহমত দেয়, তাদের থেকে দূরে থাকতে হবে।
প্রশ্ন (৩৫) : মহিলারা আতর বা সেন্ট ব্যবহার করতে পারবে কি?
সা‘দাত রায়েদ বিন ছাদিক
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।
উত্তর : মহিলারা স্বামীর নিকট থাকলে সুগন্ধি জাতীয় কিছু ব্যবহার করতে পারে। তবে আতর বা সেন্ট মেখে বাইরে কোথাও যেতে পারবে না (তিরমিযী হা/২৭৮৬; আবুদাঊদ হা/৪১৭৫; নাসাঈ হা/৫১২৬; মিশকাত হা/১০৬৫)।
প্রশ্ন (৩৬) : কেউ ছালাতের মধ্যে হাসলে কি পুনরায় ছালাত আদায় করবে?
সা‘দাত রায়েদ বিন ছাদিক
আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রাজশাহী।
উত্তর : ছালাতের ভিতর আওয়ায করে হাসলে ছালাত বাতিল হয়ে যাবে এবং পুনরায় তা আদায় করতে হবে (ফাতাওয়া শাবকা ইসলামিয়া ১০/২৩৮১)।
প্রশ্ন (৩৭) : কুনূতে নাযেলার তাফসীর সম্পর্কে জানাবেন।
পারুল বেগম
পুঠিয়া, রাজশাহী।
উত্তর : মুসলিম উম্মাহ যখন কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়; বিপদে পতিত হয় কিংবা নির্যাতিত ও অপদস্থ হয়, তখন তা থেকে পরিত্রাণের জন্য মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করে। এভাবে প্রার্থনা করা খুবই উত্তম কাজ (ফাতাওয়া শাবাকা ইসলামিয়্যাহ ২/৩৫৫)।
প্রশ্ন (৩৮) : পিছনে কোন মুছলস্নী ছালাত আদায় করলে করণীয় কী?
আকীমুল ইসলাম
জোতপাড়া, ঠাকুরগাঁও।
উত্তর : তার ছালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কেননা মুছলস্নীর সম্মুখ দিয়ে যাওয়া নিষেধ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, মুছলস্নীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত যে, এতে তার কত বড় পাপ রয়েছে, তাহলে তার জন্য সেখানে চলিস্নশ দিন বা চলিস্নশ বছর দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম হত অতিক্রম করে চলে যাওয়ার চাইতে (বুখারী হা/৫১০; মুসলিম হা/৫০৭; মিশকাত হা/৭৭৬)। তবে জামা‘আত চলা অবস্থায় অনিবার্য কারণে মুক্তাদীদের কাতারের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা জায়েয আছে (বুখারী হা/৪৯৩; মুসলিম হা/৫০৪; মিশকাত হা/৭৮০)।
প্রশ্ন (৩৯) : ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোন নারী কি জীবন দিতে পারে?
ফযলে মাসউদ
গোমস্তাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
উত্তর : ধর্ষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোন নারী জীবন দিতে পারবে না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তোমরা আত্মহত্যা করিও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। আর যে কেউ সীমালঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে এটা করবে তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করাবো। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজসাধ্য (নিসা ২৯-৩০)। অতএব, বালা-মছীবত ও ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করা যাবে না। বরং ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও আল্লাহর নিকট দু‘আ করতে হবে। মাযলূমের দু‘আ আল্লাহ কবুল করেন।
প্রশ্ন (৪০) : আযমীরের ভক্ত ও মা‘রেফতে বিশ্বাসী জনৈক ব্যক্তির দাবী, ‘তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সূরা আন‘আমের ৫২নং আয়াতের আলোকে শুধু সকাল-সন্ধ্যায় ছালাত আদায় করে। এতে যারা আপত্তি করে বা বাধা সৃষ্টি করে, তারা যালিমের অন্তর্ভুক্ত’। তাদের এই দাবী কতটুকু শরী‘আত সম্মত? বিস্তারিত জানাবেন।
আইয়ূব আলী
মোহনপুর, রাজশাহী।
উত্তর : তাদের এই দাবী বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তুমি ছালাত ক্বায়েম কর দিনের দুই প্রান্ত ভাগে ও রাতের প্রথমাংশে অর্থাৎ সকাল-সন্ধ্যায় (হূদ ১১৪)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘সূর্য হেলে পড়ার পর হতে রাত্রি ঘন অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত ছালাত ক্বায়েম করবে এবং ক্বায়েম করবে ফজরের ছালাত। ফজরের ছালাত পরিলক্ষিত হয় বিশেষভাবে (বানী ইসরাঈল ৭৮)।
জিবরীল (আঃ) স্বয়ং ইমামতি করে রাসূল (ছাঃ)-কে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন (মিশকাত, বুখারী, মুসলিম হা/৫৮৪ পৃঃ ৫৯, খণ্ড, ১)।
রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করবে আল্লাহ তা‘আলা তার গোনাহ মিটিয়ে দিবেন’ (বুখারী, মুসলিম হা/৬৬৫, মিশকাত)। উলিস্নখিত আয়াত ও হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ছালাত দুই ওয়াক্ত নয়। বরং তা পাঁচ ওয়াক্ত। আর তাহল ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশা।
প্রশ্ন (৪১) : জুম‘আর ছালাতের প্রথম রাক‘আত ছুটে গেলেও দ্বিতীয় রাক‘আতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি? যদি যায়, তাহলে পরে আর কত রাক‘আত ছালাত আদায় করতে হবে?
রাশেদা বেগম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
উত্তর : জুম‘আর ছালাতের প্রথম রাক‘আত ছুটে গেলেও দ্বিতীয় রাক‘আতে অংশগ্রহণ করা যাবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি (ইমামের সাথে) জুম‘আর ছালাতের এক রাক‘আত পেয়েছে, সে যেন এর সাথে দ্বিতীয় রাক‘আত যোগ করে। আর যার দু’রাক‘আত ছুটে গেছে, সে যেন চার রাক‘আত আদায় করে অথবা সে যেন যোহরের ছালাত আদায় করে নেয়’ (দারাকুৎনী, মিশকাত হা/১৪১৯)।
প্রশ্ন (৪২) : মহিলারা খুৎবা দিতে পারবে কি?
রাশেদা বেগম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
উত্তর : মহিলারা খুৎবা দিতে পারবে না। বরং তারা মসজিদে গিয়ে পুরুষ ইমামের পিছনে জুম‘আ ও ঈদের ছালাত আদায় করবে (বুখারী হা/৩২২; মুসলিম হা/৮৯০; আবুদাঊদ, মিশকাত হা/১৩৭৭)।
প্রশ্ন (৪৩) : কখন ও কার সময় থেকে ছালাতের জন্য আযান দেয়ার বিধান চালু হয়?
আবু সাঈদ ইবনে জামালুদ্দীন
বাঘা, রাজশাহী।
উত্তর : প্রথম হিজরী সনে আযানের প্রচলন হয় রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় (মিরআত ২/৩৪৪-৩৪৫, ‘ছালাত অধ্যায়’ আযান অনুচ্ছেদ-৪)।
প্রশ্ন (৪৪) : ‘ছালাত জান্নাতের চাবি’-কথাটি কি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?
তানভীরুল ইসলাম
মহাদেবপুর, নওগাঁ।
উত্তর : এমর্মে বর্ণিত হাদীছটি নিতান্তই যঈফ। কারণ এর সনদে আবু ইয়াহইয়া আল-ফাতাত থেকে সুলায়মান ইবনু কাওম রয়েছে, যারা দু’জন স্মৃতি বিভ্রাট জনিত কারণে দুর্বল রাবী (মিশকাত হা/২৯৪; আহমাদ যঈফ হা/১৪২৫২; যঈফ জামে‘ হা/৫২৬৫)।
প্রশ্ন (৪৫) : একই স্থানে একবার জামা‘আত হয়ে গেলে পুনরায় জামা‘আত করার জন্য ইক্বামত দিতে হবে কি?
আব্দুছ ছামাদ
শান্তাহার, নওগাঁ।
উত্তর : হ্যাঁ, ইক্বামত দিতে হবে। কারণ যখন রাসূল (ছাঃ) ফরয ছালাত আদায় করতেন, তখন ইক্বামত দিতেন। ইক্বামত ছাড়া ছালাত পড়েননি। এক স্থানে হোক বা ভিন্ন স্থানে হোক ইক্বামত দিতেন (মুসলিম হা/৬৮০)।
প্রশ্ন (৪৬) : যুগ বা যামানাকে গালি দেয়া যাবে কি??
সোহানুর বিন খোরশেদ
সাদুল্লাপুর, গাইবান্ধা।
উত্তর : যুগ বা যামানাকে গালি দেওয়া যাবে না। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দিয়ে থাকে তারা যুগ বা কালকে গালি দেয় অথচ আমিই যুগ বা কাল; আমার হাতেই (কালের পরিবর্তনের) ক্ষমতা। দিন-রাত্রির পরিবর্তন আমিই করে থাকি (বুখারী হা/৪৮২৬; মুসলিম হা/২২৪৬; মিশকাত হা/২২)।
প্রশ্ন (৪৭) : যুদ্ধ চলাকালে কোন নির্জন স্থানে বসে সূরা কাওছার তিনশ’ বার পাঠ করলে আল্লাহর ইচ্ছায় যুদ্ধে জয়ী হবে-কথাটি কি ঠিক?
যাকির আহমাদ
ঘোড়াঘাট, দিনাজপুর।
উত্তর : এর কোন শারঈ ভিত্তি নেই।
প্রশ্ন (৪৮) : বগলের লোম পরিষ্কারের ব্যাপারে কোন্ পদ্ধতিটি উত্তম? উপড়ানো, না-কি চেঁছে ফেলা?
রুবেল
বিনোদপুর, রাজবাড়ী।
উত্তর : বগলের লোম উপড়ে ফেলাই উত্তম। তবে তা কর্তন করার মাধ্যেমে সুন্নাত আদায় হবে কি-না? এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন, যে কোন উপায়ে অপসারণ করার মাধ্যমে সুন্নাত আদায় হয়ে যাবে। কেননা এর মূল লক্ষ্য হল, ময়লা পরিষ্কার করা। বিশেষত, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা অবশ্যই বৈধ, যে তা উপড়ানোতে কষ্ট পায় (মুসলিম হা/২৬১; তাহক্বীক মিশকাত হা/৩৭৯)।
প্রশ্ন (৪৯) : এক চন্দ্র বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যাকাত আদায় করলে যাকাতের ওয়াজিব আদায় হবে কি?
রুকাইয়া তাবাস্সুম
কলারোয়া, সাতক্ষীরা।
উত্তর : হ্যাঁ, ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। আলী ইবনে আবু তালেব (রাঃ) বলেন, আববাস (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-কে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যাকাত আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন (আবুদাঊদ হা/১৬২৪; তিরমিযী হা/৬৭৮; ইবনু মাজাহ হা/১৭৯৫; মিশকাত হা/১৭৮৮, সনদ হাসান)।
প্রশ্ন (৫০) : কিছু দান করতে চেয়ে তা দান করার পূর্বেই মারা গেলে ওয়ারিছদের উপর তা পূরণ করা আবশ্যক কি?
আমীনুল ইসলাম
সাতক্ষীরা সদর, সাতক্ষীরা।
উত্তর : ওয়ারিছদের উক্ত ইচ্ছা পূরণ করা উচিত, তবে আবশ্যক নয় (নাসাঈ হা/৩৬৪৯)। কেননা তা অছিয়তের অন্তর্ভুক্ত নয়। তার ছেড়ে যাওয়া সম্পদ থেকে তা দান করে বাকী সম্পদ বণ্টন করতে পারে অথবা ওয়ারিছগণ নিজেদের পক্ষ থেকেও উক্ত ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন।
