কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

বিভিন্ন ইসলামী দল ও জামা‘আতের সাথে যোগদান করার হুকুম (পর্ব-৬)

post title will place here

উল্লিখিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এবং শরী‘আতের সামগ্রিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, শরী‘আতের অকাট্য ভাষ্য দ্বারা প্রমাণিত ও সুবিন্যস্ত আক্বীদাগত মূলনীতি ও নিয়মকানুনের আলোকে একজন মুসলিমের জন্য যে পথ ও পন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক, তা নিচে তুলে ধরা হলো। শাখা-প্রশাখাগত বিষয়গুলোকে মৌলিক ও সামগ্রিক নীতিমালার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার যে সর্বব্যাপী নিয়ম রয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এখানে প্রাসঙ্গিক শারঈ সীমারেখা, আক্বীদাগত বিধিবিধান এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার পর্যায়গুলো উল্লেখপূর্বক উক্ত সামগ্রিক বিষয়াবলির বিবরণ পেশ করা হলো:

প্রথমত: সুন্নাহ ও জামা‘আতের সাথে থাকা (লুযূমুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত)

কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং পাপে লিপ্ত না হয়ে শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে মুসলিমদের জামা‘আত ও তাঁদের ইমামের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকাই হচ্ছে মূলকথা। আর এই ধারায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি কোনো নাম, প্রতীক, রূপরেখা কিংবা চিন্তাচেতনার মাধ্যমে নবুঅতের মানহাজের বিরোধিতা না করে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করবেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,مَنْ أَرَادَ بُحْبُوحَةَ الجَنَّةِ فَلْيَلْزَمُ الجَمَاعَةَ ‘যে ব্যক্তি জান্নাতের সর্বোত্তম স্থান কামনা করে, সে যেন জামা‘আতের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে’।[1]

অতএব, একজন মুসলিমের কর্তব্য হলো— সে যেন মুসলিমদের জামা‘আতের সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে এবং কিতাব ও সুন্নাহর মানহাজের ওপর তাঁদের সাথে পথ চলে, এর দিকেই আহ্বান জানায় এবং এই পথে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেয়। আর মুসলিম জামা‘আতের তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অন্তর্ভুক্ত ঈমান ও ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গের কর্তব্য হলো তাঁদের এই বন্ধন বা ঐক্যকে এই ভিত্তির ওপর সুসংহত রাখা, যা মূলত উলামাদের বন্ধন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ‘আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে, যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম’ (আলে ইমরান, ৩/১০৪)।

এখানে উম্মাহ বলতে আলেম সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে, যাঁদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সাধারণ জনগণকে সংশোধন করেন। আর তাঁরাই হলেন উম্মাতের মধ্যে ‘আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদ’ (শীর্ষস্থানীয় জ্ঞানী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ)। তাঁরা সে সমস্ত মানুষ, যাঁদের প্রতি সাধারণ মানুষের অন্তর আশ্বস্ত হয়, যাঁরা অহীর অবতীর্ণ বাণীর মর্মার্থ গভীরভাবে অনুধাবনে সক্ষম এবং দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানান।

এই শারঈ বন্ধনই হবে বিভিন্ন দল-উপদল, ফেরক্বা ও জামা‘আতের আত্মপ্রকাশের পথে অন্তরায়— যেসব ফেরক্বা ছিরাতে মুস্তাক্বীমের সরল রেখার দুই পাশে গড়ে ওঠে; মূল সরল পথের ওপর নয়। এটি একদিকে ঘটে উম্মাহর আলেমগণের অসতর্কতার সুযোগে; অন্যদিকে ঘটে আক্বীদা, আচরণ ও চিন্তাগত বিকৃতির মাধ্যমে উম্মাহর যুবসমাজের অন্তরে যারা ফাটল ধরাতে চায়, তাদের প্রচেষ্টায়। আর এসবই ঘটে আহলুস সুন্নাহর চোখের সামনেই।

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,يَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُولُهُ يَنْفُونَ عَنْهُ تَحْرِيفَ الْغَالِينَ، وَانْتِحَالَ الْمُبْطِلِينَ وَتَأْوِيلَ الْجَاهِلِينَ ‘প্রত্যেক পরবর্তী প্রজন্মের বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরাই এই ইলম বা দ্বীনি জ্ঞান বহন করবেন। তাঁরা এর থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থিদের মিথ্যা আরোপ এবং জ্ঞানহীনদের অপব্যাখ্যা দূর করবেন’।[2]

ইমাম বুখারী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ছহীহ গ্রন্থের ‘কিতাবুল ই‘তিছাম বিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ’ (কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা অধ্যায়)-এ পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে:

পরিচ্ছেদ: নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থেকে লড়াই চালিয়ে যাবে’। আর তাঁরা হলেন ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ।

হাফেয ইবনু হাজার রাহিমাহুল্লাহ উক্ত বাক্যের ব্যাখ্যায় বলেন, “তাঁর উক্তি: ‘আর তাঁরা হলেন ইলমের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ’—এটি গ্রন্থকারের [ইমাম বুখারীর] নিজস্ব বক্তব্য। তিরমিযী এই হাদীছটি বর্ণনা করার পর বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল—অর্থাৎ ইমাম বুখারী—কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আলী ইবনুল মাদীনীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, ‘তাঁরা হলেন আছহাবুল হাদীছ বা হাদীছের অনুসারী দল’।

ইমাম বুখারী তাঁর ‘খলকু আফ‘আলিল ইবাদ’ গ্রন্থে আবূ সাঈদ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীছের পরপরই আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অধীনে উল্লেখ করেছেন: ‘আর এভাবেই আমরা তোমাদের একটি মধ্যপন্থি জাতি হিসেবে তৈরি করেছি’[3]; তাঁরা হলেন ওই দল, যাঁদের কথা এই হাদীছে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে’।[4]

হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মানুষ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কল্যাণ ও ভালো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন, কিন্তু আমি তাঁকে অকল্যাণ ও মন্দ বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম এই ভয়ে যে, তা যেন আমাকে পেয়ে না বসে। অতঃপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এক জাহেলিয়াত ও মন্দের মাঝে ছিলাম, তারপর আল্লাহ আমাদের এই কল্যাণ (ইসলাম) দান করলেন; তো এই কল্যাণের পরেও কি কোনো অকল্যাণ বা মন্দ আছে?

তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ’।

আমি বললাম, সেই মন্দের পর কি আবার কোনো কল্যাণ আছে?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, তবে তাতে কিছু ধোঁয়াশা বা কলুষতা থাকবে’।

আমি বললাম, তার ধোঁয়াশা বা কলুষতা কী?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এমন সম্প্রদায় আসবে, যারা আমার হেদায়াত বা আদর্শ ছাড়া অন্য পথে মানুষকে পরিচালিত করবে; তাদের কিছু কাজ তোমার কাছে পরিচিত (ভালো) মনে হবে এবং কিছু কাজ অপরিচিত (মন্দ) মনে হবে’।

আমি বললাম, সেই কল্যাণের পর কি আবার কোনো অকল্যাণ বা মন্দ আসবে?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘হ্যাঁ, জাহান্নামের দরজার দিকে আহ্বানকারী কিছু দাঈ বা আহ্বানকারীর আত্মপ্রকাশ ঘটবে; যে ব্যক্তি তাদের সেই আহ্বানে সাড়া দেবে, তারা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে’।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কাছে তাদের পরিচয় বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন।

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তারা আমাদেরই সম্প্রদায়ের লোক (আমাদের চামড়ারই মানুষ) এবং আমাদের ভাষায়ই কথা বলবে’।

আমি বললাম, যদি আমি সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হই, তবে আপনি আমাকে কী আদেশ করেন?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি মুসলিমদের জামা‘আত এবং তাঁদের ইমাম (শাসক)-এর সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকবে’।

আমি বললাম, যদি তাঁদের কোনো জামা‘আত এবং কোনো ইমাম (শাসক) না থাকে?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তবে তুমি সেই সমস্ত উপদলকে বর্জন করবে, যদিও তোমাকে কোনো গাছের মূল কামড়ে ধরে পড়ে থাকতে হয় এবং সেই অবস্থায় তোমার মৃত্যু এসে যায়’।[5]

ইমাম মুসলিমের একটি শব্দবিন্যাসে আবূ সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা মন্দের মাঝে ছিলাম, অতঃপর আল্লাহ কল্যাণ নিয়ে এলেন, এখন আমরা এর মাঝে আছি; তো এই কল্যাণের পেছনেও কি কোনো অকল্যাণ আছে?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘মন্দ’।

আমি বললাম, তা কীভাবে?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমার পরে এমন কিছু নেতার আবির্ভাব ঘটবে, যারা আমার হেদায়াত অনুযায়ী চলবে না এবং আমার সুন্নাত বা আদর্শ অনুসরণ করবে না। আর অচিরেই তাদের মাঝে এমন কিছু পুরুষের উত্থান ঘটবে, যাদের দেহ মানুষের হলেও অন্তর হবে শয়তানের অন্তরের মতো’।

তিনি (হুযায়ফা) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই পরিস্থিতি পাই, তবে আমি কী করব?

তিনি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি আমীরের (শাসকের) কথা শুনবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে; যদিও তোমার পিঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার ধনসম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে ও আনুগত্য করবে’।

দ্বিতীয়ত: দাওয়াতের মানহাজ (পদ্ধতি)

আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী (দাঈ)-এর মানহাজ হলো— কেবল নবুঅতের মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত মানহাজ; অন্য কিছু নয়। কারণ আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াত হলো একটি স্বভাবজাত, সহজ, সাবলীল এবং কিতাব ও সুন্নায় উল্লিখিত সুস্পষ্ট রূপরেখাসম্পন্ন দাওয়াত। এটি সর্বকালে ও সর্বস্থানে এর নিজস্ব মানহাজ তথা নবুঅতের মানহাজের বাইরে রূপগত বা বস্তুগত অন্য কোনো বিষয়ের মুখাপেক্ষী হয় না।

এই মানহাজের ওপর ভিত্তি করে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং এর দাবিগুলোকে মানুষের অন্তরে গভীরভাবে বদ্ধমূল করার জন্য কাজ করা ইসলামের প্রতিটি যোগ্য ব্যক্তির দায়িত্ব। কারণ এটি সংকীর্ণ দলীয়করণের ঊর্ধ্বে; কেননা এটি নবুঅতের মানহাজের ওপর পরিচালিত এমন একটি কাজ, যা এর সার্বিক ও সর্বব্যাপী অর্থকে ধারণ করে। আর এটি শরী‘আতের মূলনীতির আলোকেই প্রত্যেক যোগ্য ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব; এর জন্য কোনো প্রকার দলীয় সম্পৃক্ততার দরজা খোলার প্রয়োজন নেই। সুতরাং এই ওয়াজিব দাওয়াতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া মূলত দ্বীনের এমন এক অকাট্য বিষয়, যা অপরিহার্যভাবে সর্বজনবিদিত।

নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেছেন,بَدَأَ الْإِسْلَامُ غَرِيبًا، وَسَيَعُودُ كَمَا بَدَأَ غَرِيبًا، فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ ‘ইসলাম অপরিচিত অবস্থায় শুরু হয়েছিল এবং অচিরেই তা আবার তার শুরুর মতোই অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং সেই অপরিচিতদের (গুরাবা) জন্য সুসংবাদ!’[6]

আর এই অপরিচিত অবস্থা দূর করার কোনো উপায় নেই, কেবল সেই পদ্ধতির মাধ্যম ছাড়া, যার দ্বারা প্রথম যুগের অপরিচিত অবস্থা দূর করা হয়েছিল।

একারণেই ইমাম মালেক রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন,لَا يَصْلُحُ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ إِلَّا بِمَا صَلَحَ بِهِ أَوَّلُهَا ‘উম্মাহর প্রথম অংশ যে জিনিসের মাধ্যমে সংশোধিত হয়েছিল, তা ব্যতীত এই উম্মাহর শেষ অংশ কখনোই সংশোধিত হবে না’; অর্থাৎ নবুঅতের মানহাজ অনুসরণ করার মাধ্যমে। আর এই পথ ধরেই উম্মাহর প্রথম প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ মানুষরা অগ্রসর হয়েছিলেন।

ফলে যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, তারাই হলেন মুসলিম জামা‘আত—যারা প্রবৃত্তি ও সংশয়ের ব্যাধি থেকে মুক্ত বিশুদ্ধ আক্বীদার ধারক ও বাহক। এর অন্তর্ভুক্ত তারা নয়, যারা তাঁদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং কোনো নাম, প্রতীক বা অন্য যেকোনো পন্থায় এমন কোনো রূপ বা মানহাজের মাধ্যমে তাঁদের জামা‘আত ত্যাগ করেছে, যা সংযোজন বা বিয়োজনের কারণে ‘নবুঅতের মানহাজ’-এর পরিপন্থি। কেননা কোনো নাম বা প্রতীকের মাধ্যমে দাওয়াতের পথে যেকোনো প্রকার বিচ্যুতি বা ত্রুটি সৃষ্টি করা হলে, তা ইসলাম ও মানুষের অন্তরের মাঝে একটি বাধা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। কারণ এটি একটি অসম্পূর্ণ পথ, আর অসম্পূর্ণ জিনিসের কাছে কখনো পূর্ণতা আশা করা যায় না।

(ইনশা-আল্লাহ! চলবে)

মূল: ড. বাকর ইবনে আব্দুল্লাহ আবূ যায়েদ

পরিমার্জন: সা‘দ ইবনে আব্দুর রহমান আল-হুছায়্যিন

অনুবাদ: আব্দুল আলীম ইবনে কাওছার মাদানী*

বিএ (অনার্স), উচ্চতর ডিপ্লোমা, এমএ এবং এমফিল, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সঊদী আরব;
অধ্যক্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।


[1]. ইমাম তিরমিযী ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

[2]. এটি ইমাম বায়হাক্বী এবং অন্যরা হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনু আব্দিল বার একে ছহীহ বলেছেন; ইমাম আলবানী একে হাসান বলেছেন এবং ইমাম উকাইলী এর মুসনাদ অংশকে মুরসাল বর্ণনাগুলোর ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন।

[3]. আল-বাক্বারাহ, ২/১৪৩।

[4]. ফাতহুল বারী, ১৩/২৯৩।

[5]. বুখারী ও মুসলিমের যৌথ বর্ণনা।

[6]. মুসলিমের বর্ণনা। এই হাদীছটি ইমাম বুখারীকে বাদ দিয়ে এককভাবে ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এটির বিভিন্ন সূত্র, উৎস অনুসন্ধান (তাখরীজ) এবং এর অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যার জন্য শায়খ সালীম আল-হিলালীর রচিত ‘তূবা লিল গুরাবা’ নামক পুস্তিকাটি দেখুন।

Magazine