কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৪): বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে আইনজীবী হওয়া কি ইসলামসম্মত? আমার উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আইনি হয়রানি থেকে রক্ষা করা। তবে দেশের বিচারব্যবস্থায় ইসলামী শরীআহ চালু নেই, প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এ অবস্থায় আইনজীবী পেশা গ্রহণ করা কি জায়েয?

উত্তর: ইসলামী শরীআতকে পাশ কাটিয়ে মানব রচিত আইন এর উচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে আইনজীবী হওয়া মূলত জায়েয নয়, কেননা তা দ্বীনের একটি মৌলিক নীতিকে ধ্বংস করে দেয়। আর তা হলো, আল্লাহ তাআলার চেয়ে উত্তম বিধানদাতা বা বিচারক আর কেউ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বিধান দেওয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহরই’ (ইউসুফ, ১২/৪০)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘অতএব, তাদের জন্য ধ্বংস, তাদের হাত যা লিখেছে তার কারণে এবং তাদের জন্য ধ্বংস, তারা যা উপার্জন করে তার কারণে’ (আল-বাকারা, ২/৭৯)। তবে মানুষের অধিকার আদায়, প্রয়োজন-নির্ভরতা, ক্ষতি ও অনিষ্ট কমানো এবং মুসলিমদের ওপর থেকে যুলম দূর করার ক্ষেত্রে জরুরী প্রয়োজন ও প্রয়োজনীয়তার শারঈ নীতিমালা বিবেচনা করে কিছু শর্তসাপেক্ষে আইনজীবী হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শর্তগুলো হলো- ১. সে এসব আইন এবং এসব আইনের প্রণেতাদের থেকে এবং জরুরী প্রয়োজন ছাড়া এসব আইনের অধীনে বিচার গ্রহণ করা থেকে আল্লাহর কাছে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করবে। ২. এমন কোনো মামলায় সে ওকালতি করবে না, যেখানে রায় আল্লাহর বিধানের বিরোধী ও পরিপন্থী হবে, যেমন- ব্যভিচারী, চোর, সূদখোর ইত্যাদির পক্ষে এমনভাবে মামলা পরিচালনা করা যাবে না, যাতে তাদের অন্যায়কে সমর্থন করা হয়। ৩. তার ওকালতির উদ্দেশ্য হতে হবে অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, অন্যায় প্রতিহত করা অথবা মাযলুমকে সাহায্য করা। যদি সে দেখতে পায় যে, তার মক্কেলের পক্ষেই সত্য ও ন্যায় রয়েছে, তাহলে সে তার পক্ষে দাঁড়াবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করবে। ৪. এসব প্রচলিত আদালতের মাধ্যম ছাড়া অধিকার আদায় বা যুলম প্রতিহত করার অন্য কোনো উপায় না থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারা কাফের’ (আল-মায়েদা, ৫/৪৪)।

প্রশ্নকারী : নাঈম

কুমিল্লা।

Magazine