উত্তর: পৃথিবীর সব মসজিদে অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারলেও হারামাইনে প্রবেশ করতে পারবে না। কেননা হারামাইনের বিষয়টি স্বতন্ত্র। দাজ্জালের বিষয়টিও স্বতন্ত্র। সেও হারামাইনে প্রবেশ করতে পারবে না (ছহীহ বুখারী, হা/১৮৮১)। আল্লাহ তাআলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَٰذَا ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয় মুশরিকরা অপবিত্র। সুতরাং তারা যেন এই বছরের পর থেকে মাসজিদে হারামের নিকটেও না আসে’ (আত-তাওবা, ৯/২৮)। উল্লেখ্য, হারামাইন (দুই হারাম) বলতে হারামে মাক্কী এবং হারামে মাদানীকে বুঝানো হয়। মক্কার মসজিদে হারামসহ তার পার্শ্ববর্তী নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে হারামে মাক্কীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আর মদীনার মসজিদে নববীসহ তার পার্শ্ববর্তী নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে হারামে মাদানীর অন্তর্ভুক্ত করা হয় (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৫৩; ফাতহুল বারী, ৬/১৭১)। তবে অমুসলিম ব্যক্তি বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে। কেননা রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে অবস্থানকালীন তাঁর নিকট ওয়াফদে নাজরান, ওয়াফদে ছাক্বীফ ইত্যাদি বিধর্মী প্রতিনিধি দল ও ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়েছে, এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। অনুরূপভাবে সুমামা ইবনু উছাল রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) মসজিদের খুটিতে বেঁধে রাখা হয়েছিল (ছহীহ বুখারী, হা/৪৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৬৪)। অমুসলিম ব্যক্তি কুরআনুল কারীম স্পর্শ করতে পারবে না (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৬৯; আল মাজমূ‘, ইমাম নববী, ২/৭১)। তবে সে সত্য জানার জন্য কুরআনুল কারীমের অনুবাদ ও তাফসীরগ্রন্থ স্পর্শ এবং অধ্যয়ন করতে পারবে।
প্রশ্নকারী : আব্দুল হাই
উত্তরা, ঢাকা।
