কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের অভাব-মানুষের পাপপ্রবণতার জন্য দায়ী

post title will place here

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ وَحْدَهُ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنْ لَّا نَبِيَّ بَعْدَهُ

সর্বত্র আস্থার সংকট বিরাজ করছে। যখন মানুষের জীবনে কোনো বিপর্যয় আসে অথবা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয় তখন অন্যের ওপর দোষ চাপানো তার স্বভাবজাত প্রবণতা হিসেবে দেখা দেয়। সে জীবনে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন দুর্ঘটনা কিংবা বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ার ঘটনা ব্যাপক। উক্ত ঘটনাগুলোয় মানুষ মৃত্যু কবলে পড়তে হয়েছে কিংবা তাকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা ও ঘনঘন অগ্নিকাণ্ড ঢাকা শহরের নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। বেশ কয়েক বছর যাবৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হরহামেশা ঘটছে। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ধ্বংস হচ্ছে। বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের তথ্যমতে, গত ২০ বছরে দেশে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে (দৈনিক যুগান্তর, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ও প্রতিদিনের সংবাদ)। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা। প্রাণ গেছে ২ হাজার ৩৬৭ জনের এবং আহত হয়েছেন ১৩ হাজার ৭০৯ জন। এ সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। রাজউকের নকশা অনুসরণ না করে নির্মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও মার্কেট চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়, কিন্তু সেটা আদৌ সফলতার মুখ দেখেনি। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় অগুনে মৃত্যু ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এর সংঘটনের নির্দিষ্ট কারণ অজানা। একে নাশকতা, নিছক দুর্ঘটনা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। কিন্তু এতসব ঘটনার পেছনে কি কোনো রহস্য থাকতে পারে?

একটি সমাজ বা দেশে নাশকতার ঘটনা তখন ঘটে যখন অসৎ উদ্দেশ্য থাকে। যখন কেউ শক্তি প্রয়োগ বা ক্ষমতার ব্যবহার করে নিজের অবৈধ উদ্দেশ্য রক্ষা করতে চায় অথবা নিজের দোষ অন্যের উপর চাপাতে চায় তখন সে এমন কৌশল অবলম্বন করে। যেমন- একজন ব্যক্তি তার নিজ চাচাকে হত্যা করে লাশ অন্য লোকের দরজায় ফেলে দেয়। ফিলিস্তীনে ইসরঈলের চলমান আগ্রাসন ও বর্বরতার বিরুদ্ধে গড়ে উঠা জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সিরিয়ায় ইরানের কনস্যুলেটে ইসরাঈল হামলা চালায়। উদ্দেশ্য ছিল ইরান ইসরাঈলের উপর পাল্টা হামলা চালাবে; ফলে পশ্চিমা বিশ্ব ইসরাঈলকে অব্যাহতভাবে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দিয়ে যাবে কিন্তু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সে উদ্দেশ্য হাছিল হয়নি। এভাবে অন্যের উপর দোষ চাপানোর ঘটনা আমাদের দেশেও ব্যাপক।

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। কখনো অর্থসম্পদ দিয়ে, কখনো অভাবের মধ্যে রেখে, আবার কখনো ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে, আবার কখনো জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে। মানুষ যখন দেখে তার হাতে ব্যাপক ক্ষমতা আছে, তখন বেপরোয়া হয়ে যায় ও সীমালঙ্ঘন করে। সে নানামুখী পাপ ও অন্যায়ে জড়িয়ে যায়। দুর্যোগ ও বিপদের মোকাবিলায় অন্যায় পন্থা অবলম্বন করে। অতিমাত্রায় পাপে অবগাহনে আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্তিতে তার আশা ও ভরসা কমে যায়। বিভিন্ন দুর্যোগ ও প্রতিকূলতার মোকাবেলায় সে হারাম ও অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে। সে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন ক্ষতির সম্মুখীন হয় কিন্তু সে বুঝতে পারে না। যারা মুনাফেক্ব তারা এমন আচরণ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী’ (আল-বাক্বারা, ২/১১)

মানুষের ঈমান যখন কমে যায় তখন সে নানাবিধ পাপে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সমাজে মিথ্যা ও অন্যায় ছাড়িয়ে পড়ে। পাপ ও হারামে নিমজ্জিত ব্যক্তি তার পাপ ও অপকর্ম ঢাকতে মিথ্যা পন্থা অবলম্বন করে। একটি পাপকে ঢাকতে আরেকটি পাপের আশ্রয় গ্রহণ করে। তখন তার জীবনে নানামুখী দুর্যোগ নেমে আসে। যখন সে ঈমান ও আমলের শিক্ষা থেকে সরে যায় তখন অজানা অতঙ্ক তাকে তাড়িত করে। তখন সে প্রচণ্ড অন্ধকারে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কবলে হাবুডুবু খায়। ফেরাউনের এমন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দিলেন’ (আন-নাযিআত, ৭৯/২৫)

মানুষের যেখানে আল্লাহকে ভয় করার কথা সেখানে সে মানুষের ভয়ে কাঁচুমাচু থাকে। সে অজানা অতঙ্কে ভীত থাকে। কথা বলা ও মতামত প্রকাশ থেকে বিরত থাকে। ক্ষমতাধরের আক্রশ থেকে বাঁচতে সে ক্রমাগত সত্য গোপন করে চলে। প্রতিবাদের চেতনা তার হৃদয়ে জাগ্রত হলেও কিছু ক্ষণের মধ্যে হারিয়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষে ক্ষমতাধরের প্রশংসা ও গুণগাণ না করে সে পারে না। সে জীবন জীবিকার ভয়ে অন্যায়ে জড়িয়ে পড়ে, অথচ আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথ ভয় করতে, তাহলে তিনি তোমাদেরকে ঐভাবে রিযিক্ব দিতেন যেভাবে একটি পাখিকে দিয়ে থাকেন। সে সকালে খালি পেটে বের হয় আর বিকেলে পূর্ণ পেটে ফিরে আসে’ (তিরমিযী, হা/২৩৪০)

আর ক্ষমতাধর ভয়ের সংস্কৃতি চালু করে সাধারণ মানুষের মনের কষ্ট দমিয়ে রাখে। প্রতিশোধপরায়ণতা ও ব্যক্তিগত আক্রশ তাকে বিপথগামী করে তোলে। রক্তপিপাসা আর জিঘাংসার আগ্রাসন তাকে জেদি ও প্রতিশোধি বানিয়ে দেয়। সে তার জীবন বাজি রেখে হলেও মনের ক্ষোভ মিটাতে পিছপা হয় না। ফলে তার জীবনে বিপর্যয় ও অশান্তি নেমে আসে। নানান প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় তাকে। ক্ষমতা হারানোর ভয় ও নানান প্রতিকূলতার দুশ্চিন্তা তাকে তাড়িত করে। তখন সে ভরসা বা আস্থার জায়গা খুঁজে পায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল’ (আল-আনআম, ৬/৪৪)

যখন করোনা (কোভিড-১৯) মহামারি রোগের আবির্ভাব ঘটে এবং উক্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যু হয়; তখন মানুষ বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়। অন্যের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মুছল্লীগণ মসজিদে ফাঁকা ফাঁকা হয়ে ছালাত আদায় করেন। ডাক্তারগণ পর্দার আড়ালে থেকে চিকিৎসা সেবা দেন। মাস্ক পরিধান করা কিংবা করোনা ভাইরাস নিরাপত্তা পোশাক পরা ব্যতীত তখন মানুষ বাসা থেকে বের হতো না। অথচ আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সংক্রামক কোনো ব্যাধি আর শুভ-অশুভ কোনো লক্ষণ নাই’ (বুখারী, হা/৫৭১৭)। যদিও তিনি বিশ্বাসে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় চুলকানি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার স্থানে যেতে নিষেধ করেছেন’ (বুখারী, হা/৫৭১৭)

করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলো প্রথম ডোজ, দ্বিতীয় ডোজ, তৃতীয় ডোজ ও বুস্টারডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণ করা চলমান থাকে। ব্যাপক আতঙ্ক আর বিধিনিষেধের মধ্যে মানুষকে জীবনযাপন করতে থাকে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সাহায্যে এগিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা খুব নগণ্য ছিল। তার শরীরের ভাইরাস সাহায্যকারীর শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক এখানে কাজ করে। একটা লম্বা সময় ধরে খাওয়া, পান করা, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ইত্যাদি সবকিছু ব্যাহত হয়। সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কি আমরা কোনো শিক্ষা নিয়েছি? আমাদের আচরণ, চরিত্র, কৃষ্টি-কালচার, বিশ্বাস ইত্যাদিতে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে? না, আসেনি। এখন এদেশে দাবদাহ চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দাবদাহ সামনেও চলমান থাকতে পারে।

এভাবে মানুষের পাপের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে তার ভাগ্যে বিভিন্ন বিপর্যয় নেমে আসে। এক দুই বছর আগেও মানুষ তার আয়ের পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য একটা নির্দিষ্ট অংশ সঞ্চয় করত। এখন কিন্তু খুব কম মানুষ খুঁজে পাবেন যে তার আয়ের কিছু অংশ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখতে পারছে। তার আয়ের অধিকাংশই বা পুরোটাই সংসারের প্রয়োজনে খরচ হয়ে যাচ্ছে। সে আত্মীয়স্বজন অথবা ঘনিষ্ঠজন কাউকেও কিছু সাহায্য করতে পারছে না। এত প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মানুষের মানসিকতার কোনো পরিবর্তন নেই। সে আগের মতোই পাপের মধ্যে ডুবে আছে। বৃষ্টির অভাব ও প্রচণ্ড রৌদ্রে জনজীবন অতিষ্ঠ তবুও ছালাতুল ইস্তিস্কা আদায়ের চেতনা আমাদের মধ্যে জাগ্রত হয় না। প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে শিশুদের বাসায় রেখে বাঁচাতে চাই। প্রচণ্ড দাবদাহ বা গরমে ডায়রিয়া হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে বলে বলা হচ্ছে; ঐ সময়ে কিছু মানুষের মৃত্যু আল্লাহ লিখে রেখেছেন তাই তারা মারা যাচ্ছে অথবা আল্লাহ তাআলা প্রচণ্ড দাবদাহে কিছু মানুষ মারা যাবে লিখে রেখেছেন তাই তার মৃত্যু হয়েছে। সুতরাং প্রতিষ্ঠান ও কাজ বন্ধ করে ঘরে আবদ্ধ থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আল্লাহর পরীক্ষা মনে কর্মক্ষেত্রে যাওয়া এবং কঠিন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে তাদেরকে কষ্টসহ্য করতে অভ্যস্ত করা ও আল্লাহর উপর ভরসা রাখা একজন আদর্শ মুসলিমের দায়িত্ব।

যখন মানুষ আল্লাহর উপর ভরসার পরিবর্তে মানুষের উপর ভরসা করবে এবং ঈমান ও আমলের পরিবর্তে অন্যায় এবং পাপে জড়িয়ে যাবে; তখন তারা দুই ধরনের দুর্যোগের মুখোমুখি হবে— একটি মানুষের সৃষ্ট দুর্যোগ আর অপরটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এমন ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে কর্তৃত্ব দেওয়া হবে, যে ব্যাপক অপরাধপ্রবণ হবে; সে অন্যায় করাকে ন্যায় বলে বর্ণনা করবে। অহরহ মিথ্যা বলা তার অভ্যাসে পরিণত হবে। সে মনে করবে এইভাবেই হয়তোবা রক্ষা পাওয়া যাবে। আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ক্বিয়ামত ততদিন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতক্ষণ না দুনিয়ায় সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি ভাগ্যবান হবে’ (তিরমিযী, হা/২২০৯)। অপরদিকে তার জীবনে, অভাব, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, লুহাওয়া, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার জীবন দুর্বিষহ হবে।

মানুষ যখন তাদের নবীদের কষ্ট দিয়েছিল এবং পৃথিবীকে সীমালঙ্ঘন করেছিল, তখন তাদের প্রত্যেক জাতি শাস্তির যোগ্য হয়েছিল। তাই আল্লাহ তাআলা তাদের উপর তাঁর ক্রোধ চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর বিরোধিতা এবং পৃথিবীতে সীমালঙ্ঘনের কারণে তিনি তাদের শাস্তি দিয়েছিলেন। নূহের সম্প্রদায় প্লাবন ডুবান, ‘সম্প্রদায়ের উপর প্রবল বাতাসে প্রেরণ করেন, ছালেহ ও শুআইবের লোকেরা প্রচণ্ড ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয় এবং ফেরাউন ও আদ তার সৈন্যরা সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু বরণ করে। আর কারুন ও তার বাসভবন ভূগর্ভস্থ ধসিয়ে বিলীন করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি প্রত্যেককেই তার অপরাধের কারণে পাকড়াও করেছি। তাদের কারও প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচণ্ড বাতাস, কাউকে পেয়েছে বজ্রপাত, কাউকে আমি বিলীন করেছি ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছি নিমজ্জত। আল্লাহ তাদের প্রতি যুলুম করেননি; কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে’ (আল-আনকাবূত, ২৯/৪০)

অধীনস্থদের শাসন ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সততা ও আন্তরিকতার পন্থা অবলম্বন করতে হবে। অন্যায়ভাবে কারো প্রতি যুলুম ও নির্যাতন করা যাবে না। সীমালঙ্ঘন করলে, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করলে, মানুষকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে আল্লাহর পক্ষ হতে অবশ্যই শাস্তি অবতীর্ণ হবে। তাই পরকালের কথা ভেবে সৎভাবে জীবনযাপন করার জন্য নিজেকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে এবং অন্যকে তা করার জন্য বলতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাঁর বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করার তাওফীক্ব দান করুন- আমীন! (স.)

Magazine