কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২) : আমি একজন অমুসলিম। তবে আমি গোপনে আল্লাহর ইবাদত করি ও যাবতীয় শিরক থেকে বিরত থাকি। বিষয়টি জানতে পেরে মা আমার প্রতি চাপ সৃষ্টি করছে এবং শিরক করতে বাধ্য করছে। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী?

উত্তর : এমতাবস্থায় গোপনে কালেমা পড়ে মুসলিম হয়ে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। কেননা প্রকাশ্যে হোক আর অপ্রকাশ্যে হোক কোনো অবস্থাতেই অমুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করলে ও যাবতীয় শিরক হতে বিরত থাকলে তাতে বিন্দুমাত্রও কোনো উপকার সাধিত হবে না। কেননা অমুসলিম ব্যক্তির কোনো আমল আল্লাহর নিকট গৃহীত হয় না। এমর্মে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে কুফরী করবে, অবশ্যই তার আমল নিষ্ফল হবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (আল-মায়েদা, ৫/৫)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুসলিম ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ (ছহীহ বুখারী, হা/৩০৬২; ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৮)। অন্য হাদীছে এসেছে, যদি কাফের ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো ভালো আমল করে তাহলে এর বিনিময়ে দুনিয়াতেই তাকে রিযিক্ব প্রদান করা হয়। আর মুমিন ব্যক্তির ভালো কর্মের ফলাফল দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে প্রদান করা হয় (ছহীহ মুসলিম, হা/২৮০৮; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৭৭০)। উল্লেখ্য যে, মুসলিম অমুসলিম যে কোনো অবস্থায় হোক না কেন যদি বাবা-মা খারাপ কাজের জন্য চাপ সৃষ্টি করে তাহলে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির আনুগত্য নেই’ (শারহুস সুন্নাহ হা/২৪৫৫; মিশকাত হা/৩৬৯৬)। অপর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আল্লাহর নাফরমানীর কাজে কোনোরূপ আনুগত্য নেই। আনুগত্য করতে হয় কেবল ন্যায়সঙ্গত কাজে’ (ছহীহ বুখারী, হা/৭২৫৭; ছহীহ মুসলিম, হা/১৪৮০)। তবে অন্যান্য সময় তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে।

-এস এইচ খান

রংপুর।

Magazine