কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২৪) : কোনো কোনো হাদীছ বর্ণনার ক্ষেত্রে আনাস বিন মালেক লেখা হয়। এভাবে বলা ও লেখা কি ঠিক হবে? নাকি আনাস বিন আব্দুল মালেক বলতে ও লিখতে হবে?

উত্তর : কোনো কোনো নাম হাক্বীক্বী (প্রকৃত) ও মাজাযী (রূপক) উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। হাদীছে আনাস বিন মালিক নামটি রূপক অর্থে ব্যবহার হয়েছে। এটা হাক্বীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বিধায় এভাবে বলা ও লেখা যাবে। কেননা ‘মালিক’ শব্দটির অর্থ যখন হাক্বীক্বী তথা ‘আল্লাহ’ নেওয়া হবে তখন তার সাথে ‘আব্দুন’ ব্যবহার করে বলতে হবে ‘আব্দুল মালিক’। কিন্তু যখন তা রূপক অর্থে ব্যবহার হবে তখন ‘আব্দুন’ (বান্দা) ব্যবহার হবে না। যেমন ছহীহ বুখারী ও মুসলিমসহ অসংখ্য হাদীছগ্রন্থে ‘মালিক’ নামটি রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং বলা হয়েছে أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ এবং তার জীবনীতেও এভাবেই লেখা আছে। অনুরূপ ‘মাওলা’ অর্থ ‘প্রভু’। আবার ‘মাওলা’ অর্থ ‘গোলাম’। যেমন হাদীছে এসেছে- سالم مولى عبد الله بن عمرو এখানে ‘মাওলা’ শব্দটি ‘প্রভু’ অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বরং তা ‘গোলাম’ বা (দাস) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার আরবসহ বহু মুসলিম দেশের অনেক ব্যক্তির নাম ‘নাছির’, যার অর্থ সাহায্যকারী। যদি এর হাক্বীক্বী অর্থ নেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই عبد الناصر বা ‘আব্দুন নাছির’ বলতে হবে। কিন্তু তারা ‘নাছির’-কে রূপক অর্থে ব্যবহার করে। যেমন আমরা বলি এই বাড়ির ‘মালিক’ কে? তাহলে অর্থ নেওয়া হবে এই বাড়ির কর্তা কে? এটা রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। কাজেই হাদীছে ‘আনাস বিন মালিক’ রূপক অর্থে ব্যবহার হয়েছে এবং তার ব্যবহারটাও সঠিক আছে।

-মুহাম্মাদ কাউছার

কালাই, জয়পুরহাট।


Magazine