আল্লাহর পথে হজ্জ-উমরা করতে বের হয়ে মারা গেলে তার ফযীলত :
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ وَكَانَ اللهُ غَفُورًا رَحِيمًا ‘আর যে ব্যক্তি নিজ ঘর হতে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে হিজরত করার জন্য বের হবে এবং পথে তার মরণ হবে, আল্লাহর উপর তাকে ছওয়াব দেওয়া যরূরী হয়ে যাবে। আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু’ (নিসা, ৪/১০০)। এই আয়াতে প্রমাণিত হয়, মানুষ আল্লাহর পথে বের হয়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ছওয়াব দিবেন। অতএব মানুষ হজ্জ-উমরায় বের হয়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে বড় প্রতিদান দিবেন। তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন।
عنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ بَيْنَمَا رَجُلٌ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ إِذْ وَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ فَوَقَصَتْهُ أَوْ قَالَ فَأَوْقَصَتْهُ قَالَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِى ثَوْبَيْنِ وَلاَ تُحَنِّطُوهُ وَلاَ تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ فَإِنَّهُ يُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا.
ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা এক ব্যক্তি আরাফার মাঠে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি তার বাহন হতে পড়ে যান। এতে তার ঘাড় মটকে যায়। তাতে তিনি মারা যান। তখন নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও। তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কারণ ক্বিয়ামতের দিন সে তালবিয়া পাঠ করতে করতে উঠবে।[1] এই হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয়, ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে ইহরামের কাপড় দিয়েই কাফন দিতে হয়, সুগন্ধি দিতে হয় না, মাথা খোলা রাখতে হয়। এমন ব্যক্তি যখন ক্বিয়ামতের মাঠে উঠবে, তখন اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ দু‘আটি পড়তে থাকবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ حَاجًّا فَمَاتَ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ أَجْرَ الْحَاجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ خَرَجَ مُعْتَمِرًا فَمَاتَ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ الْمُعْتَمِرِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَمَنْ خَرَجَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللهِ فَمَاتَ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ الْغَازِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জ করার জন্য বের হয়ে মারা গেল, তার জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত হজ্জের ছওয়াব লেখা হবে। যে ব্যক্তি উমরার জন্য বের হয়ে মারা যায়, ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার জন্য উমরার ছওয়াব লেখা হতে থাকবে। যে ব্যক্তি জিহাদের জন্য বের হয়ে মারা যায়, তার জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্ত গাযীর ছওয়াব লেখা হবে’।[2] এই হাদীছ থেকে বুঝা যায়, কেউ হজ্জ-উমরা করতে গিয়ে মারা গেলে তার জন্য অনেক ছওয়াব রয়েছে। যে ছওয়াব ক্বিয়ামত পর্যন্ত লেখা হতে থাকবে।
হজ্জ ও উমরাতে টাকা-পয়সা খরচ করার ফযীলত :
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهَا فِى عُمْرَتِهَا إِنَّ لَكِ مِنَ الأَجْرِ عَلَى قَدْرِ نَصَبِكِ وَنَفَقَتِكِ.
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উমরার ব্যাপারে তাকে বলেছিলেন, তোমার জন্য উমরাতে তোমরা কষ্ট ও টাকা-পয়সা খরচের সমপরিমাণ ছওয়াব রয়েছে।[3] এই হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয়, মানুষ হজ্জ-উমরা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে যে কষ্টের সম্মুখীন হয়, আল্লাহ তার সে কষ্টের পরিমাণ ছওয়াব তাকে দান করেন এবং তার পয়সা খরচের সমপরিমাণ নেকী দান করেন।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ خَرَجَ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا أَوْ غَازِيًا ثُمَّ مَاتَ فِي طَرِيقِهِ كَتَبَ اللهُ لَهُ أَجْرَ الْغَازِي وَالْحَاجِّ وَالْمُعْتَمِرِ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ্জ-উমরা অথবা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের নিয়্যতে বের হবে, অতঃপর পথিমধ্যে মারা যাবে, তার জন্য গাযী, হাজী ও উমরাকারীর ছওয়াব লেখা হবে’।[4]
তালবীয়া পাঠের ফযীলত :
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضي الله عنهما قَالَ قَال رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُلَبِّى إِلاَّ لَبَّى مَنْ عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ مِنْ حَجَرٍ أَوْ شَجَرٍ أَوْ مَدَرٍ حَتَّى تَنْقَطِعَ الأَرْضُ مِنْ هَا هُنَا وَهَا هُنَا.
সাহ্ল ইবনে সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার সাথে সাথে তার ডান ও বাম পাশের পাথর, গাছ, মাটিসহ সবকিছু তালবিয়া পাঠ করে। এমনকি পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকে’।[5] এই হাদীছে প্রমাণিত হয় যে, যখন কেউ তালবিয়া পাঠ করে, তখন পৃথিবীর সব কিছুই তার সাথে তালবিয়া পাঠ করে।
عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ خَلاَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَانِى جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِى أَنْ آمُرَ أَصْحَابِى أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلاَلِ وَالتَّلْبِيَةِ.
খাল্লাদ ইবনে সায়েব রাযিয়াল্লাহু আনহুমা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জিবরীল আমার নিকটে আসলেন এবং আমাকে আদেশ করলেন যে, আমি আমার ছাহাবীদেরকে আদেশ করব, তারা তাদের ইহরাম এবং তালবিয়া উচ্চৈঃস্বরে বলবে’।[6] এই হাদীছ দ্বারা বুঝা যায়, ইহরাম বাঁধতে হবে এবং উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করতে হবে। তবে মহিলারা নিঃশব্দে তালবিয়া পাঠ করবে।
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسَوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَهَلَّ مُهِلٌّ قَطُ إِلَّا بُشِّرَ وَلَا كَبَّرَ مُكَبِّرٌ قَطُّ إِلَّا بُشِّرَ قِيْلَ بِالْجَنَّةِ قَالَ نَعَمْ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি ইহরাম বাঁধে, তাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়। আর যখন কোনো ব্যক্তি তালবিয়া পাঠ করে, তখন সুসংবাদ দেওয়া হয়’। বলা হলো, জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয় কি? নবী কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ।[7] এই হাদীছ থেকে বুঝা যায় যে, তালবিয়া পাঠের ফলাফল হলো জান্নাত।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَهَلَّ مُهِلٌّ قَطُّ إِلَّا آبَتِ الشَّمْسُ بِذُنُوبِهِ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি (উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করে) ইহরাম বাঁধলেই সূর্য তার পাপসমূহসহ অস্তমিত হয়’।[8]
عَنْ أَبِى بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَىُّ الْحَجِّ أَفْضَلُ قَالَ الْعَجُّ وَالثَّجُّ.
আবুবকর ছিদ্দীক্ব রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী করীম রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল সবচেয়ে উত্তম হজ্জ কোন্্টি? নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘উত্তম হজ্জ হলো উচ্চৈঃস্বরে বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা এবং কুরবানীর রক্ত প্রবাহিত করা’।[9]
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِىِّ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَنِى جِبْرِيلُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ! مُرْ أَصْحَابَكَ فَلْيَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ فَإِنَّهَا مِنْ شِعَارِ الْحَجِّ.
যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জিবরীল আলাইহিস সালাম আমার নিকট এসে বললেন, আপনি আপনার ছাহাবীদেরকে আদেশ করুন, তারা যেন উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করে। কারণ তালবিয়া হচ্ছে হজ্জের প্রতীক’।[10]
যুলহিজ্জার ১০ দিনের আমলের ফযীলত :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَا الْعَمَلُ فِى أَيَّامِ الْعَشْرِ أَفْضَلَ مِنَ الْعَمَلِ فِى هَذِهِ قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ وَلاَ الْجِهَادُ إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَىْءٍ.
ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যুলহিজ্জার ১০ দিনের সৎ আমল আল্লাহর নিকট যত প্রিয় আর কোনো দিনের আমল আল্লাহর নিকট তত প্রিয় নয়’। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পথে জিহাদ কি আল্লাহর কাছে তত প্রিয় নয়? রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও আল্লাহর নিকট তত প্রিয় নয়। তবে সেই ব্যক্তি যে নিজ জীবন ও অর্থ-সম্পদ নিয়ে জিহাদে বের হয়ে সে আর ফিরে আসল না’ (অর্থাৎ শহীদ হয়ে গেল)।[11]
عَنِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ عَمَلٍ أَزْكَى عِنْدَ اللهِ عَزَّ وَ جَلَّ وَلَا أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ خَيْرٍ يُعْمَلُهُ فِيْ عَشَرِ الأَضْحى.
ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পবিত্র এবং সবচেয়ে বেশি ছওয়াবের আমল হচ্ছে যুলহিজ্জার ১০ দিনের আমল’।[12] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মানুষ যুলহিজ্জা মাসে যে সব আমল করে তার ছওয়াব সবচেয়ে বেশি এবং আল্লাহর নিকট অতীব পবিত্র ও প্রিয়।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمَ عِنْدَ اللهِ وَلاَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنَ الْعَمَلِ فِيهِنَّ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ الْعَشْرِ فَأَكْثِرُوا فِيهِنَّ مِنَ التَّهْلِيلِ وَالتَّكْبِيرِ وَالتَّحْمِيدِ.
ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট যুলহিজ্জা মাসের প্রথম ১০ দিন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। আর এই ১০ দিনের আমল আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল। অতএব তোমরা এ দিনগুলোতে বেশি বেশি তাসবীহ, তাহমীদ, তাহলীল এবং তাকবীর পাঠ করো’।[13]
পাথর নিক্ষেপের ফযীলত :
عَنِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَمَيْتَ الْجِمَارَ كَانَ لَكَ نُوْرًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তুমি জামরায় যে পাথর নিক্ষেপ করবে সেটি তোমার জন্য ক্বিয়ামতের দিন আলো হয়ে আসবে’।[14] এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, মানুষ হজ্জের আমল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মিনার জামরায় যে পাথর নিক্ষেপ করে, সে পাথর ক্বিয়ামতের দিন তার জন্য আলো হয়ে উপস্থিত হবে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَفَعَهُ قَالَ لَمَّا أَتَى إِبْرَاهِيمُ خَلِيلُ الرَّحْمَنِ الْمَنَاسِكَ عَرَضَ لَهُ الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْجَمْرَةِ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى سَاخَ فِي الْأَرْضِ ثُمَّ عَرَضَ لَهُ عِنْدَ الْجَمْرَةِ الثَّانِيَةِ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى سَاخَ فِي الْأَرْضِ ثُمَّ عَرَضَ لَهُ فِي الْجَمْرَةِ الثَّالِثَةِ فَرَمَاهُ بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ حَتَّى سَاخَ فِي الْأَرْضِ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ الشَّيْطَانُ تَرْجُمُونَ وَمِلَّةُ أَبِيكُمْ تَتَّبِعُونَ.
ইবেন আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন হজ্জের নিয়মাবলি পালন করতে আসলেন, তখন শয়তান প্রথম জামরার নিকটে তার সামনে আসল। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাকে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। এতে শয়তান মাটিতে দেবে গেল। শয়তান আবারো দ্বিতীয় জামরার নিকটে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর সামনে আসল। তিনি তাকে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। এতে শয়তান মাটিতে দেবে গেল। শয়তান আবারো তৃতীয় জামরার নিকটে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর সামনে আসল। তিনি তাকে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। এতে শয়তান মাটিতে দেবে গেল। ইবনে আববাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা তোমাদের পিতা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর নীতির অনুসরণ করো’।[15] এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম শয়তানকে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন। এটা সকল মুসলিমের জন্য হজ্জে পালনীয় এক যরূরী বিধান। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন পাথর নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন শয়তান মাটির নিচে দেবে গিয়েছিল।
মাথা মু-ন করার ফযীলত :
عَنْ يَحْيَى بْنِ الْحُصَيْنِ رضي الله عنهما عَنْ جَدَّتِهِ رضي الله عنهما أَنَّهَا سَمِعَتِ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِى حَجَّةِ الْوَدَاعِ دَعَا لِلْمُحَلِّقِينَ ثَلاَثًا‘ وَلِلْمُقَصِّرِينَ مَرَّةً.
উম্মুল হুছাইন রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু‘আ করতে শুনেছি। তিনি বিদায় হজ্জে মাথা মু-নকারীদের জন্য তিন বার দু‘আ করেন। আর চুল ছোটকারীদের জন্য একবার দু‘আ করেন।[16] এই হাদীছ প্রমাণ করে যে, হজ্জ-উমরায় চুল ছোট করার চেয়ে মাথা মুণ্ড করা অনেক বেশি ছওয়াবের কাজ। কেননা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য তিন বার দু‘আ করেন।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ قَالُوا وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُحَلِّقِينَ قَالُوا وَلِلْمُقَصِّرِينَ قَالَهَا ثَلاَثًا قَالَ وَلِلْمُقَصِّرِينَ.
আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! মাথা মুণ্ডকারীদের ক্ষমা করো। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা চুল ছোট করে তাদের জন্য? রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! যারা মাথা মুণ্ডন করে তাদেরকে ক্ষমা করো। ছাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করে তাদের জন্য? রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! যারা মাথা মু-ন করে তাদের ক্ষমা করো। ছাহবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করে তাদের জন্য? তখন তিনি বললেন, তাদের জন্যও।[17] এই হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মাথার চুল ছোট করার চেয়ে মাথা মু-ন করা অনেক গুণে ভালো ও অধিক ছওয়াবের কাজ।
(চলবে)
[1]. বুখারী, হা/১২৬৫, মুসলিম, হা/২৯৪৯; আবুদাঊদ, হা/৩২৪০; মিশকাত, হা/১৬৩৭।
[2]. আবু ইয়া‘লা, ১১/২৩৮, ৬৩৫৭; তারগীব, হা/১২৬৭, আলবানী হাদীছটিকে হাসান লিগায়রিহি বলেছেন।
[3]. হাকেম, ১/৬৪৪, হা/১৭৩৩, হাদীছ ছহীহ।
[4]. বায়হাক্বী, হা/৩৮০৬; সিলসিলা ছহীহাহ, হা/২৫৫৩; মিশকাত, হা/২৫৩৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/২৪২৪।
[5]. তিরমিযী, হা/৮২৮, হাদীছ ছহীহ; ইবনে মাজাহ, হা/২৯২১; মিশকাত, হা/২৫৫০।
[6]. আবুদাঊদ, হা/১৮১৪; তিরমিযী, হা/৮২৯, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/২৫৪৯।
[7]. মু‘জামুল আওসাত্ব, হা/৭৭৭৯; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৬২১।
[8]. সিলসিলা ছহীহা, হা/১৬২১; জামেঊল হাদীছ, হা/১৯৮৮১; শু‘আবুল ঈমান, হা/৩৭৪০।
[9]. ইবনে মাজাহ, হা/২৯২৪; তিরমিযী, হা/৮২৭, হাদীছ ছহীহ; মিশকাত, হা/২৫২৭।
[10]. ইবনে মাজাহ, হা/২৯২৩, হাদীছ ছহীহ; মু‘জামুল কাবীর, হা/৫১৭০; মুসনাদে বাযযার, হা/৩৭৬৩।
[11]. বুখারী, হা/৯৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩২২৮; মুসনাদে বায্যার, হা/৫০০০।
[12]. দারেমী, হা/১৭৭৪, হাদীছ ছহীহ; জামেঊল হাদীছ, হা/২০৬৩৯।
[13]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৫৪৪৬, সনদ ছহীহ; শু‘আবুল ঈমান, হা/৩৪৭৪।
[14]. ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৫৫৭; সিলসিলা ছহীহা, হা/২৫১৫।
[15]. শু‘আবুল ঈমান, হা/৫০৬; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১১৫৬।
[16]. মুসলিম, হা/৩২১০; বায়হাক্বী কুবরা, হা/৯১৮১; মিশকাত, হা/২৬৪৯।
[17]. বুখারী, হা/১৭২৮; মুসলিম, হা/৩২০৮।
