উত্তর: প্রতিটি পিতামাতার উচিত সন্তানদের মাঝে ইনছাফপূর্ণ আচরণ করা। তার সন্তানদের মাঝে বৈষম্য করা কোনো পিতামাতার উচিত নয়। যদি কেউ তার সন্তানদের মাঝে বৈষম্য করে, তাহলে তা যুলম বলে গণ্য হবে। নু‘মান ইবনু বাশীর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তার পিতা তাকে একটি দাস উপহার দিলেন। তখন তার মা বললেন, আমি এতে সন্তুষ্ট নই, যতক্ষণ না তুমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সাক্ষী রাখ। অতঃপর বাশীর ইবনু সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহু নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তিনি যা করেছেন তা জানালেন। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তুমি কি তোমার সব সন্তানকে নু‘মানকে যেভাবে দিয়েছ সেভাবেই দিয়েছ?’ তিনি বললেন, না। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায়বিচার করো’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৩৯৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৩০৫৫)। ইসলামে মাতাপিতার অধিকার অনেক বেশি। তারা অন্যায় করলে বা সন্তানের প্রতি বৈষম্য করলেও সে কারণ দেখিয়ে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা, কথা না বলা, খোঁজখবর না নেওয়া হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করো’ (আল-ইসরা, ১৭/২৩)। আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শরিক করতে বাধ্য করে, তবে তাদের কথা মানবে না; কিন্তু দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে চলবে’ (লুকমান, ৩১/১৫)। আবূ দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পিতা জান্নাতের মধ্যবর্তী (সর্বোত্তম) দরজা। সুতরাং তুমি চাইলে এ দরজাটি নষ্ট করে দিতে পার, অথবা চাইলে তা সংরক্ষণ করো’ (ইবনু মাজাহ, হা/৩৬৬৩; তিরমিযী, হা/১৯০০)। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই রবের সন্তুষ্টি, আর পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই রবের অসন্তুষ্টি’ (তিরমিযী, হা/১৮৯৯)।
-সাব্বির আহমাদ ওসমানী
