উত্তর: আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য (আয-যারিয়াত, ৫১/৫৬)। তাঁর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হলো ইসলাম (আলে ইমরান, ৩/১৯)। তিনি ‘ইসলামের ব্যানারে’ সকল মুসলিমদের একতাবদ্ধ ও সুসংগঠিত হতে আদেশ করেছেন এবং দ্বীনের ভিত্তিতে বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا ‘আর তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (আলে ইমরান, ৩/১০৩)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতনা ও মতানৈক্যের সময় তাঁর সুন্নাত এবং খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ প্রদান করেছেন (আবূ দাঊদ, হা/৪৬০৭)। অতএব, কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফে ছালিহীনের মানহাজ (পথ ও পদ্ধতি) এর ভিত্তিতে ‘ইসলামের ব্যানারে’ সংগঠিত ও একতাবদ্ধ হওয়া মুসলিমদের উপর ফরয আর এটিই জামাআতবদ্ধ জীবনযাপন। পাঁচ ওয়াক্ত ছালাতের মাধ্যমে মসজিদের সাথে জামাআতবদ্ধ থাকা জামাআতবদ্ধ জীবন যাপনের সর্বনিম্ন স্তর। পাশাপাশি মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনেতার আনুগত্যে থাকাও জামাআতবদ্ধ জীবন যাপন। সংগঠন জামাআতবদ্ধ জীবন যাপনের কোনো শারঈ ভিত্তি নয়। তবে দ্বীনের প্রচারে যেমন মাদরাসা, ফাউন্ডেশন, গবেষণা সংস্থা তৈরি হয়েছে, জালসা-সম্মেলন ইত্যাদি আয়োজন হয়ে থাকে; ঠিক তেমনি দ্বীনের প্রচারের একটি অসীলা হতে পারে সংগঠন। তবে সংগঠনের ভিত্তিতে অনেক সময় অলা-বারা তৈরি হয় যা হারাম। তথা শুধু সংগঠনের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্ব এবং সংগঠনের না হলে হিংসা-বিদ্বেষ বা বাধা ইত্যাদি সম্পূর্ণরূপে হারাম। সারমর্ম হিসেবে বলা যায়, কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে সংগঠন করা যায়-
১. সংগঠনকে জামাআতবদ্ধ জীবন যাপনের মানদণ্ড মনে করা হবে না।
২. ভ্রাতৃত্বের মানদণ্ড হবে ইসলাম, নির্দিষ্ট সংগঠন নয়।
৩. সংগঠনের নেতা বা আমীরকে রাষ্ট্রের আমীর মনে করা যাবে না এবং রাষ্ট্রনেতার মতো আনুগত্যের বায়আত করা যাবে না।
৪. সংগঠনকে শুধুমাত্র দাওয়াতী প্লাটফর্ম হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকটি বুঝার তাওফীক দান করুন- আমীন!
প্রশ্নকারী : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
