কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

রামাযানের গুরুত্ব ও ফযীলত

ভূমিকা :

শান্তি-শৃঙ্খলা, রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও ছওয়াবের পসরা নিয়ে প্রতি বছর হাযির হয় পবিত্র রামাযান মাস। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক বরকতপূর্ণ মাস হল এই রামাযান। এ মাসে বিশব মানবতার চূড়ান্ত সংবিধান পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ মাসেই রয়েছে হাযার মাস অপেক্ষা উত্তম রজনী ‘লায়লাতুল ক্বদর’। তাই এ মাসের গুরুত্ব ও ফযীলত অন্যান্য মাসের তুলনায় অনেক বেশী। অতএব তাক্বওয়াপূর্ণ ক্বলব তৈরির লক্ষ্যে এ মাসে ছিয়াম পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একান্ত কর্তব্য। এটি আল্লাহ তা‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌রআন ও ছহীহ হাদীছে রামাযান মাসের গুরুত্ব-মর্যাদা ও ফযীলত সম্পর্কে এ প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

রামাযানের পরিচয় :

‘রামাযান’ رَمَضَانُ আরবী মাসের নবমতম মাস। মূল শব্দ رَمَضَ হতে নির্গত। যার অর্থ পুড়ে যাওয়া, জ্বলে যাওয়া, তীক্ষ্ম, প্রখর, আগুনে ঝলসানো। যেমন বলা হয়- رَمِضَتِ اَلْاَرْضُ ‘যমীন সূর্যতাপে পুড়ে গেছে’, رَمِضَتْ قَدَمُه ‘তার পা গরমে পুড়ে গেছে’, رَمِضَ الصَّائِمُ ‘ছায়েমের পেট ক্ষুৎ-পিপাসায় জ্বলে গেছে’। অতএব অধিক জ্বলেপুড়ে খাক হওয়াকে রামাযান رَمَضَانُ বলা হয়। কেননা একটানা একমাস ছিয়াম সাধনার ফলে মুমিনের জৈব প্রবৃত্তিকে ক্ষুৎ-পিপাসার আগুনে জ্বালিয়ে দুর্বল করে ফেলা হয় বলে এ মাসটিকে ‘রামাযান’ মাস বলা হয়’।[1] এটি আরো একটি আরবী শব্দ ‘রামাযাহ’ থেকে এসেছে। এর অর্থ ‘সূর্যের প্রখর তাপে গরম হয়ে যাওয়া বালি’। ব্যাপক অর্থে রামাযান বলতে একজন ছায়েম ছিয়াম রাখার ফলে তার পাকস্থলীতে পিপাসার কারণে যে প্রখর তাপের সৃষ্টি হয়, সেটাকে বুঝানো হয়েছে। রামাযানের আরেকটি অর্থ হল- রামাযান একজন মুসলিমের ভাল কাজের মাধ্যম। কেননা এটি সকল গুনাহকে পুঁড়িয়ে দেয়।

পরিভাষায় রামাযান বলতে বুঝানো হয়েছে,اَلْاِمْسَاكُ عَنِ الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَسَائِرِ الْمُفْطَرَاتِ مَعَ النِّيَّةِ مِنْ طُلُوْعِ الْفَجْرِ الصَّادِقِ إِلَي غُرُوْبِ الشَّمْسِ. ‘ছুবহে ছাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ছিয়াম রাখার নিয়তে পানাহার এবং সমস্ত ছিয়াম ভঙ্গকারী বিষয় হতে বিরত থাকার নাম ছিয়াম’।[2]

ছিয়ামের রুকন :

ছিয়ামের সংজ্ঞা থেকে প্রমাণিত হয় যে, ছিয়ামের রুকন দু’টি: (১) নিয়ত করা। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى ‘নিশ্চয় সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক কাজ তাই হয়, যা সে নিয়ত করে’।[3] (২) ছুবহে ছাদিক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস এবং ছিয়াম ভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকা। মহান আল্লাহ বলেন,

فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ.

‘সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস কর এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন, তা কামনা কর। আর তোমরা পানাহার কর, যতক্ষণ রাত্রির কালো রেখা হতে সকালের সাদা রেখা স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর তোমরা রাত্রি (সূর্যাস্ত) পর্যন্ত ছিয়াম পূর্ণ কর’ (বাক্বারাহ, ২/১৮৭)

রামাযান মাসের ছিয়ামের হুকুম :

প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ও জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিমের উপর রামাযানের একমাস ছিয়াম পালন করা ফরয। এটি ইসলামের পাঁচটি রুকনের অন্যতম একটি রুকন। মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ.

‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর ছিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমনভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপরও ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাক্বওয়া অর্জন করতে পার’ (বাক্বারাহ, ২/১৮৩)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ.

‘রামাযান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষদের জন্য হেদায়াত, হেদায়াতের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। অতএব যে এই মাস পাবে, সে যেন ছিয়াম রাখে’ (বাক্বারাহ, ২/১৮৫)। হাদীছে এসেছে,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بُنِىَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالْحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ.

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত: (১) এই মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ্র রাসূল (২) ছালাত আদায় করা (৩) যাকাত প্রদান করা (৪) হজ্জ সম্পাদন করা এবং (৫) রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করা’।[4]

অন্য হাদীছে এসেছে, ত্বালহা ইবনে ওবাইদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তাকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (ইসলাম হল) দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত ছালাত আদায় করা। তিনি বললেন, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে কি? তিনি বললেন, নেই; তবে নফল হিসাবে পড়তে পার। অতঃপর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, আর রামাযান মাসের ছিয়াম পালন করা। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে কি? তিনি বললেন, নেই; তবে নফল হিসাবে পালন করতে পার। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বললেন, যাকাত আদায় করা। তিনি জানতে চাইলেন, আমার উপর আরও কিছু ওয়াজিব আছে কি? তিনি বললেন, নেই; তবে নফল হিসাবে দিতে পার। অতঃপর সেই লোকটি এই বলে চলে গেলেন যে, আল্লাহ্র কসম! এতে আমি কোন কম-বেশী করব না। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে যদি সত্য বলে থাকে, তাহলে সে সফলকাম হয়ে গেল।[5]

সুধী পাঠক! উপরিউক্ত কুরআনের আয়াত ও হাদীছ থেকে প্রমাণিত হল যে, প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক ও জ্ঞানসম্পন্ন মুসলিমের উপর ছিয়াম পালন করা ফরয। এছাড়া এটি অস্বীকারকারী কাফের এবং ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত।[6]

ছিয়াম ফরয হওয়ার শর্তাবলী :

ছিয়াম ফরয হওয়ার কতগুলো শর্ত রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, (১) মুসলিম হওয়া। কেননা কাফেরদের উপর ছিয়াম ফরয নয়।[7] (২) প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। কেননা অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের উপর ছিয়াম রাখা ফরয নয়।[8] (৩) জ্ঞান সম্পন্ন হওয়া। কেননা পাগলের উপর থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।[9] (৪) সুস্থ থাকা। কেননা অসুস্থ ব্যক্তির উপর ছিয়াম ফরয নয়। তবে সুস্থ হলে অন্য সময়ে তা আদায় করে নিবে (বাক্বারাহ, ২/১৮৫)। (৫) মুক্বীম হওয়া। কেননা মুসাফির ইচ্ছা করলে ছিয়াম ছেড়ে দিতে পারে। তবে অন্য সময়ে মুক্বীম অবস্থায় ক্বাযা আদায় করে নিবে (বাক্বারাহ, ২/১৮৫)। যদি কোন মুসাফির ছিয়াম রাখে, তবে ছিয়াম হবে। (৬) হায়েয ও নিফাস থেকে পবিত্র থাকা। কেননা যে সমস্ত মহিলা হায়েয ও নিফাস অবস্থায় দিন অতিবাহিত করে, তাদের উপর ছিয়াম ফরয নয়।[10] তবে উক্ত সময়ের ছিয়াম পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করতে হবে, কিন্তু ছালাত ক্বাযা আদায় করতে হবে না।[11]

ছিয়ামের প্রকারভেদ :

ইসলামী শরী‘আতে ছিয়াম প্রধানতঃ দুই প্রকার। যথা : (ক) ফরয ছিয়াম (খ) নফল ছিয়াম। ফরয ছিয়াম আবার তিন প্রকার। যেমন- (এক) রামাযানের ছিয়াম। (দুই) কাফফারার ছিয়াম। (তিন) নযর বা মানতের ছিয়াম।

রামাযানের গুরুত্ব ও ফযীলত :

(ক) রামাযান মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয় :

রামাযান মাস একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। এ মাসে জান্নাত এবং রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়। জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয়। শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়, যাতে করে সে মানব জাতিকে বিপথগামী করতে না পারে। হাদীছে এসেছে,

عَنِ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ .

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রামাযান মাস আগমন করে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়’।[12] অন্য বর্ণনায় এসেছে, فُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ ‘জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়’[13] এবং فُتِحَتْ أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ ‘রহমতের দরজা সমূহ খুলে দেওয়া হয়’।[14]

(খ) জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ :

রামাযান মাস বান্দাদের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি অন্যতম মাস। বরকত ও মাগফিরাত দ্বারা পরিপূর্ণ এ মাসে বান্দাদের দু‘আ কবুল করা হয় এবং অসংখ্য জাহান্নামীকে মুক্তি দেওয়া হয়। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا كَانَتْ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ وَمَرَدَةُ الْجِنِّ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ وَنَادَى مُنَادٍ يَا بَاغِىَ الْخَيْرِ أَقْبِلْ وَيَا بَاغِىَ الشَّرِّ أَقْصِرْ وَلِلهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ وَذَلِكَ فِى كُلِّ لَيْلَةٍ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন রমাযান মাসের প্রথম রাত্রি আসে, শয়তান ও অবাধ্য জিন সকলকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, অতঃপর তার কোন দরজাই খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয়, অতঃপর তার কোন দরজাই বন্ধ করা হয় না। এ মাসে এক আহবানকারী আহবান করতে থাকে, হে কল্যাণের অমেবষণকারী! অগ্রসর হও, হে মন্দের অন্বেষণকারী! থাম। আল্লাহ তা‘আলা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেন, আর এটা প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে’।[15] 

عَنْ أَبِى سَعِيدٍ هُوَ شَكَّ يَعْنِى الأَعْمَشَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ لِلهِ عُتَقَاءَ فِى كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ لِكُلِّ عَبْدٍ مِنْهُمْ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু ও আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলা রামাযান মাসের প্রত্যেক দিন ও রাতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দু‘আ কবুল করেন’।[16]

(গ) আল্লাহ্ক্ষ থেকে ক্ষমা লাভের সুবর্ণ সুযোগ :

রামাযান মাস ক্ষমা ও তাক্বওয়া অর্জনের মাস। আল্লাহ তা‘আলা এই মাসে অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি এ মাসে আল্লাহ্র পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করতে পারল না, তার জন্য চরম দুর্ভোগ। হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَىَّ وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ أَدْرَكَ عِنْدَهُ أَبَوَاهُ الْكِبَرَ فَلَمْ يُدْخِلاَهُ الْجَنَّةَ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘ঐ ব্যক্তির নাক ধূলায় ধূসরিত হোক, যার সামনে আপনার কথা আলোচিত হয় তথাপি সে আপনার ওপর দরূদ পড়ে না। ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক, যে রামাযান মাস পেল, অথচ তা শেষ হওয়ার আগে তাকে ক্ষমা করা হল না। এরপর তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক, যে তার পিতা-মাতাকে কিংবা যেকোন একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল, অথচ জান্নাতে যেতে পারল না।[17]

অন্য হাদীছে এসেছে, কা‘ব ইবনু উজরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা বললেন, তোমরা মিম্বার নিয়ে আস। আমরা নিয়ে আসলে তিনি প্রথম স্তরে বসেন এবং ‘আমীন’ বলেন। অতঃপর যখন তিনি দ্বিতীয় স্তরে উঠেন তখনও আমীন বলেন। যখন তৃতীয় স্তরে উঠেন তখনও আমীন বলেন। তারপর যখন খুৎবা শেষ করে মিম্বার থেকে অবতরণ করলেন, তখন আমরা জিজ্ঞেস করলাম, আপনার কাছে আজ এমন কিছু শুনলাম, যা এর পূর্বে শুনিনি। তিনি বললেন, আমার কাছে জিবরীল এসে বললেন, ঐ ব্যক্তি অপমাণিত হোক, যে ব্যক্তি রামাযান মাস পেল, কিন্তু তাকে ক্ষমা করা হল না। আমি বললাম, আমীন। আমি যখন দ্বিতীয় স্তরে উঠলাম, তখন তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি অপমাণিত হোক, যে ব্যক্তির কাছে আমাকে উল্লেখ করা হল, অথচ আমার উপর দরূদ পড়ল না। তখন আমি বললাম, আমীন। অতঃপর যখন তৃতীয় স্তরে উঠলাম, তখন তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি অপমাণিত হোক, যে ব্যক্তি পিতা-মাতা উভয়কে বা তাদের একজনকে বার্ধক্য অবস্থায় পেল অথচ তারা দু’জন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না। আমি বললাম, আমীন (আল্লাহ কবুল করুন) ।[18]

(ঘ) ছিয়াম বান্দার জন্য সুপারিশকারী :

ক্বিয়ামতের ময়দানে বান্দার জন্য যখন কোন সুপারিশকারী থাকবে না, তখন কুরআন এবং ছিয়াম সুপারিশ করবে। অতঃপর আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ اَلصِّيَامُ وَالْقُرْآَنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَقُوْلُ الصِّيَامُ أَي رَبِّ إِنِّي مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهْوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفَعَنِي فِيْهِ وَيَقُوْلُ الْقُرْآَنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفَعَنِي فِيْهِ فَيُشْفَعَانِ.

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছিয়াম ও কুরআন ক্বিয়ামতের দিন মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে, ছিয়াম বলবে, হে প্রতিপালক! আমি দিনের বেলায় তাকে পানাহার ও যৌনতা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। কুরআন বলবে, হে প্রতিপালক! আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবুল কর। অতঃপর উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে।[19]

(ঙ) সব ধরনের পাপাচার থেকে বিরত থাকা :

ছিয়ামের মূল লক্ষ্য ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভ করতে হলে শুধুমাত্র বৈধ পানাহার ও বৈধ কামাচার থেকে বিরত থাকলেই যথেষ্ট হবে না, বরং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব ধরনের পাপাচার ও মন্দ কার্যক্রম থেকেও অন্তর ও দেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অবশ্যই হেফাযত করতে হবে। হাদীছে এসেছে-

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِى أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ .

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ছিয়াম থাকাবস্থায় মিথ্যা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে পারল না, তার খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ করাতে আল্লাহ্র কোন প্রয়োজন নেই’।[20]

(চ) ছিয়াম বান্দার জন্য ঢালস্বরূপ :

ছিয়াম দুনিয়াতে যেমন বান্দাকে যাবতীয় পাপ হতে রক্ষা করে, ঠিক তেমনি আখেরাতে জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন হতে তাকে হেফাযত করবে। যেমন-

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّى صَائِمٌ مَرَّتَيْنِ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ تَعَالَى مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِى الصِّيَامُ لِى وَأَنَا أَجْزِى بِهِ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌’।[21]

ছিয়ামকে ঢাল বলার কারণ হল- যুদ্ধে ঢাল যেমন শত্রুর তলোয়ার ও তীর বলস্নম থেকে যোদ্ধাকে হেফাযত করে, ছিয়ামও তেমনি ছায়েমকে যাবতীয় পাপ কাজ ও শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। সত্যিকারের ছায়েম তাক্বওয়ার অনুশীলন করতে গিয়ে হাত, পা, চোখ, কান ও নাকের ছিয়াম রেখে থাকে। অর্থাৎ পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে, যা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার সুরক্ষিত দুর্গ হিসাবে কাজ করে। অর্থাৎ একজন ছিয়াম পালনকারী জাহান্নামের উত্তপ্ত আগুন থেকে রক্ষা পাবে।

(ছ) জান্নাত লাভের মাধ্যম :

ইসলামের অন্যান্য আহকামের প্রতি পরিপূর্ণ আমল করার পাশাপাশি ছিয়ামের উপর পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে জান্নাত লাভ করা যায়। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ t أَنَّ أَعْرَابِيًّا أَتَى النَّبِىَّ r فَقَالَ دُلَّنِى عَلَى عَمَلٍ إِذَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ قَالَ تَعْبُدُ اللهَ لاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ الْمَكْتُوبَةَ وَتُؤَدِّى الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ وَتَصُومُ رَمَضَانَ قَالَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لاَ أَزِيدُ عَلَى هَذَا فَلَمَّا وَلَّى قَالَ النَّبِىُّ r مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَلْيَنْظُرْ إِلَى هَذَا.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা একজন বেদুঈন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। অতঃপর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, আমাকে এমন আমলের কথা বলুন, যে আমল করলে আমি জান্নাতে যেতে পারব। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ্র ইবাদত করবে, তার সাথে কাউকে শরীক করবে না, ফরয ছালাত আদায় করবে, যাকাত দিবে এবং রামাযানের ছিয়াম পালন করবে। তখন ঐ ব্যক্তি আল্লাহ্র শপথ করে বললেন, আমি এর বেশী করব না। যখন লোকটি চলে গেলেন, তখন রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি একজন জান্নাতী ব্যক্তিকে দেখে আনন্দিত হতে চায়, সে যেন এই ব্যক্তির দিকে দেখে।[22]

(জ) ছিয়ামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত হল- এটি বান্দার পূর্ববর্তী সকল গুনাহের কাফফারা। তবে শর্ত হল ঈমানের সাথে ও নেকী অর্জনের আশায় ছিয়াম রাখতে হবে। যেমন হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকী অর্জনের আশায় রামাযানের ছিয়াম রাখবে, আল্লাহ তার অতীতের সকল (ছগীরা) গুনাহ মাফ করে দিবেন’।[23]

(ঝ) ছিয়ামের ফযীলত এত বেশি যে, আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের জন্য এ মাসে ১০ থেকে ৭শ গুণ পর্যন্ত ছওয়াব প্রদান করা হয়। এমনকি ছিয়াম পালনকারীকে আল্লাহ নিজ হাতে পুরস্কৃত করবেন। এছাড়া তার মুখের গন্ধ মিশকে আম্বরের চেয়ে সুগন্ধিময়। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ رضى الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ الصَّوْمَ فَإِنَّهُ لِى وَأَنَا أَجْزِى بِهِ يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِى لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ. وَلَخُلُوفُ فِيهِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ.

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের জন্য ১০ থেকে ৭শ গুণ পর্যন্ত ছওয়াব নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন, ছিয়াম এর ব্যতিক্রম। কেননা সেটা একমাত্র আমার জন্যই রাখা হয় এবং আমি নিজ হাতেই এর পুরস্কার দেব। সে আমার জন্যই যৌন বাসনা ও খানা-পিনা ত্যাগ করেছে। ছিয়াম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দঘন মুহূর্ত রয়েছে। একটা হচ্ছে ইফতারের সময় এবং অন্যটি হচ্ছে আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাতের সময়। আল্লাহ্র কাছে ছায়েমের মুখের গন্ধ মিশক-আম্বরের সুঘ্রাণের চাইতেও উত্তম’।[24]

উক্ত হাদীছে অন্যান্য ইবাদতের ছওয়াবের পরিমাণ উল্লেখ করে ছিয়ামকে ভিন্নধর্মী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, তিনি নিজ হাতে ছিয়ামের পুরস্কার দান করবেন এবং সেটা হবে প্রচলিত হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ আল্লাহ ছিয়াম পালনকারীকে অনেক বেশি ছওয়াব, পুরস্কার ও উত্তম বিনিময় দান করবেন।

(ঞ) ছিয়াম পালনকারীর জন্য জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা আছে। এই দরজা দিয়ে কেবলমাত্র ছিয়াম পালনকারী ব্যতীত অন্য কোন মানুষ প্রবেশ করতে পারবে না। হাদীছে এসেছে,

عَنْ سَهْلٍ رضى الله عنه عَنِ النَّبِىِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ فِى الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ.

সাহ্ল ইবন সা‘দ রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা আছে। ক্বিয়ামতের দিন ছিয়াম পালনকারী ব্যতীত অন্য কেউ উক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। বলা হবে, কোথায় ছিয়াম পালনকারীরা? অতঃপর তারা দ-ায়মান হবে এবং ঐ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না। যখন তারা প্রবেশ করবে, তখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ঐ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না’।[25]

হাদীছে বর্ণিত হয়েছে ‘রাইয়ান’ শব্দটি আরবী ري শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ চূড়ান্ত তৃপ্তি সহকারে পান করা। ছায়েমরা জান্নাতে প্রবেশের পর সুস্বাদু পানীয় পান করবে, যার ফলে কোন দিন তারা তৃষ্ণার্ত হবে না। যেমন, ‘যারা প্রবেশ করবে, তারা পান করবে। আর যে পান করবে, সে আর কোনদিন তৃষ্ণার্ত হবে না’।[26] এটাই ছিয়াম পালনকারীর জন্য জান্নাতের দরজার রাইয়ান নামকরণের তাৎপর্য। তাছাড়া ‘রাইয়ান’-এর শাব্দিক অর্থের সাথে তাৎপর্যেরও মিল রয়েছে।

ছিয়াম পালনকারীর ক্ষুধার চেয়ে পিপাসার কষ্টই বেশী। তাই ক্ষুধার তৃপ্তির পরিবর্তে পানীয় পান করার তৃপ্তি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও জান্নাতে সকল খাবারই মওজূদ রয়েছে।

সুধী পাঠক! উপরিউক্ত হাদীছসমূহে বিভিন্ন ইবাদতের মধ্যে ছিয়ামকে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছিয়ামের ছওয়াব অগণিত ও অসংখ্য। আল্লাহ কী পরিমাণ ছওয়াব বান্দাকে দেবেন, তা তিনিই ভাল জানেন। অথচ অন্যান্য ইবাদতের ছওয়াবের পরিমাণ পূর্বেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে ছিয়ামের বিনিময় ও পুরস্কার রহস্যময়। অতএব আমরা যেন ছিয়ামের এই রহস্যময় বিনিময় থেকে উদাসীন না থাকি।

(ট) ছিয়ামের সমতুল্য কোন আমল নেই। এটি সরাসরি জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। হাদীছে এসেছে,

عَنْ أَبِى أُمَامَةَ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ مُرْنِى بِأَمْرٍ آخُذُهُ عَنْكَ. قَالَ عَلَيْكَ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لاَ مِثْلَ لَهُ.

আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে এমন একটি কাজের আদেশ দিন, যার দ্বারা আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ছিয়াম রাখ। কেননা ছিয়ামের সমতুল্য কিছুই নেই।[27]

আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ছিয়ামের গুরুত্ব :

পবিত্র কুরআনে কারীমে মহান আল্লাহ বলেন,وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ ‘আর যদি তোমরা ছিয়াম রাখ, তাহলে তা হবে তোমাদের জন্য বিশেষ কল্যাণময়, যদি তোমরা বুঝতে পার’ (বাক্বারাহ, ২/১৮৪)। এ আয়াতের মূল বক্তব্য পর্যালোচনা করলে বুঝা যায় যে, ছিয়ামের মধ্যে শুধু পারলৌকিক কল্যাণ নয়, বরং পার্থিব কল্যাণও নিহিত রয়েছে।

আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ছিয়ামের গুরুত্ব অত্যধিক। ছিয়াম শরীরে প্রবহমান পদার্থসমূহের মধ্যে ভারসাম্য সংরক্ষণ করে। যেহেতু ছিয়ামের দ্বারা মানবদেহের বিভিন্ন প্রবহমান পদার্থের পরিমাণ হ্রাস পায়। তাই এদের কার্যক্রমে ব্যাপক প্রশান্তির সৃষ্টি হয়।

ছিয়াম রাখার মাধ্যমে স্নায়ুবিক প্রক্রিয়ায় আসে পূর্ণ প্রশান্তি। ইবাদত-বন্দেগী পালনের দ্বারা অর্জিত প্রশান্তি আমাদের মনের যাবতীয় পঙ্কিলতা ও ক্রোধ দূরীভূত করে দেয়। তাছাড়া ছিয়াম ও ওযূর সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার যে শক্তিশালী সমন্বয় সাধিত হয়, তার দ্বারা মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের এক অতুলনীয় ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। এজন্যই নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রামাযান মাসের ছিয়াম ছাড়াও প্রতি মাসে তিনটি করে ছিয়াম রাখতেন[28] এবং প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার ছিয়াম রাখতেন।[29] ছিয়াম সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা করেছেন। যেমন-

(এক) অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মূর পাল্ড দিল বলেন, ‘ইসলাম যদি স্বীয় অনুসারীদেরকে অন্য আর কিছুই শিক্ষা না দিয়ে শুধুমাত্র এই ছিয়ামের ফর্মুলাই শিক্ষা দিত, তাহলে এর চেয়ে উত্তম আর কোন নে‘মত তাদের জন্য হত না’। উল্লেখ্য, ছিয়াম রাখার মাধ্যমেই তিনি পেট ফুলা রোগ থেকে অনেকটা নিষ্কৃতি পেয়েছিলেন।

(দুই) বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী সিগমল্ড নারায়াড বলেন, ‘ছিয়াম মনস্তাত্ত্বিক ও মস্তিষ্ক রোগ নির্মূল করে। মানবদেহের আবর্তন-বিবর্তন আছে। কিন্তু ছিয়াম পালনকারী ব্যক্তির শরীর বারংবার বাহ্যিক চাপ গ্রহণ করার ক্ষমতা অর্জন করে। ছায়েম কখনও দৈহিক খিঁচুনী এবং মানসিক অস্থিরতার মুখোমুখি হয় না’।

(তিন) আধুনিক যুগের ডাক্তার ও চিকিৎসকগণ ছিয়ামের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার কথা এবং ছিয়ামের নানাবিধ উপকারিতার কথা স্বীকার করেন। এ মর্মে তারা বলছেন যে, ‘কখনও কখনও পাকস্থলী খালি রাখা উচিত। যেন ক্ষুধার মাধ্যমে পাকস্থলীর দূষিত পদার্থ জ্বলেপুড়ে পরিষ্কার হতে পারে। কেননা শারীরিক সুস্থতা পাকস্থলীর উপর নির্ভর করে। তাই তো আমরা দেখতে পাই, দুনিয়ার প্রায় সকল ধর্ম ও শরী‘আত তার অনুসারীদের জন্য এই পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে।

(চার) ১৯৫৮-১৯৬৩ সাল পর্যন্ত ডাক্তার মুহাম্মাদ গোলাম মুয়ায্যাম সহ কয়েক জন ডাক্তার ঢাকা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ছিয়ামের বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা করেছেন। এ গবেষণায় দেখা গেছে, পাকস্থলীর অম্ল রসের উপর প্রভাব শতকরা প্রায় ৮০ জন ছায়েমের বেলায় গ্যাস্ট্রিক এসিড স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। শতকরা প্রায় ৩৬ জনের অস্বাভাবিক এসিডিটি স্বাভাবিক হয়েছে। প্রায় শতকরা ১২ জন ছিয়াম পালনকারীর এসিড একটু বেড়েছে, তবে কারো ক্ষতিকর পর্যায়ে যায়নি। সুতরাং ছিয়াম রাখলে পেপটিক আলসার হতে পারে এমন ধারণা ভুল ও মিথ্যা।

একমাস ছিয়াম রাখার সময় দৈনিক গড়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা লিভার, অগ্নাশয়, প্লিহা, কিডনী ও মূত্রথলি একমাস পূর্ণ বিশ্রাম পায়। এতে অঙ্গগুলোর বেশ উপকার হয়। ছিয়ামের ফলে কিডনী ও মুত্রথলির নানা প্রকার উপসর্গ ভাল হবার সম্ভাবনা থাকে।

অনেক মানুষ অস্বাভাবিক মোটা। একমাস ছিয়াম সাধনা এ ধরনের মোটা হওয়া থেকে রক্ষা করে। পুরো একমাস ছিয়াম রাখার ফলে দেহে বাড়তি মেদ বা চর্বি হতে দেয় না। ফলে রক্তে কলেষ্টোরলের পরিমাণও স্বাভাবিক থাকে। মোটা লোকদের শরীরে বেশী মেদ বা চর্বি থাকাতে রক্তে কলেষ্টোরলের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃৎপিণ্ড, ধমনি ও অন্যান্য অঙ্গে রোগ দেখা দিতে পারে। স্ট্রোকে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বর্তমানে পশ্চিমা দেশে দেহের ওযন কমানোর জন্য ১০ দিন কেবল চা, কফি, পানি ও বিস্কুট ছাড়া অন্য কিছু খেতে দেওয়া হয় না। তাদের মতে সহজ উপায়ে ওযন কমানোর জন্য ছিয়াম নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে। মাঝে মাঝে নফল ছিয়ামের মাধ্যমে শরীরের অতিরিক্ত ওযন হ্রাস করা যেতে পারে বলে মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ মনে করেন। ছিয়াম পালন করলে শরীরের ওযন আস্তে আস্তে কমতে থাকে। ছিয়াম রাখলে শরীরের ওযন কমে যাওয়াতে কোন ক্ষতি হয় না। এভাবে শরীরের ওযন কমে যাওয়া খুবই উপকারী। শরীরের অধিক ওযন কমানোর জন্য ছিয়াম এক প্রকার থেরাপিটিক ব্যবস্থা।

প্রফেসর ডাক্তার মুহাম্মাদ গোলাম মুয়ায্যাম সহ কয়েকজন ডাক্তার ৬ বৎসর (১৯৫৮-১৯৬৩) ব্যাপী গবেষণা করে দেখেছেন যে, ছিয়াম পালনের ফলে শতকরা প্রায় ৮০ জন ছিয়াম পালনকারীর শরীরের ওযন কিছু কমেছে। এই ওযন হ্রাসের পরিমাণ ১ মাসে এক থেকে দশ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু কোন ছায়েম এতে দুর্বলতার অভিযোগ করেননি, বরং বেশি ওযনের লোকদের অনেকে ওযন হ্রাসের কারণে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ছিয়াম দেহের অণ্ডকোষ এবং গ্রন্থিসমূহের জীবনীশক্তি প্রবাহিত করে দেয়। ছিয়ামের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদাকে সাময়িকভাবে নিস্তেজ করে মনকে পবিত্র ও ভাল কাজের দিকে মনোনিবেশ করতে সহায়তা করে। ছিয়াম মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে উজ্জীবিত করে। এতে ধ্যান-ধারণা পরিষ্কার ও সহজ হয়। বিশিষ্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাক্তার আলেক্স হেইগ (Dr. alex Heig) বলেছেন, ‘ছিয়াম হতে মানুষের মানসিক শক্তি এবং বিশেষ বিশেষ অনুভূতিগুলো উপকৃত হয়, স্মরণ শক্তি বাড়ে, মনোযোগ ও যুক্তি শক্তি পরিবর্ধিত হয়, প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, সহানুভূতি, অতীন্দ্রিয় এবং আধ্যাত্মিক শক্তির উন্মেষ ঘটে। ঘ্রাণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি বেড়ে যায়। ইহা খাদ্যে অরুচি ও অনীহা দূর করে। ছিয়াম শরীরের রক্তের প্রধান পরিশোধক। রক্তের পরিশোধন এবং বিশুদ্ধি সাধন দ্বারা দেহ প্রকৃতপক্ষে জীবনীশক্তি লাভ করে। যারা রুগ্ন তাদেরকেও ছিয়াম পালন করা উচিত।[30]

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ছিয়াম পালন কোন ক্ষতিকর নয়; বরং উপকারী তা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে যত গবেষণা হবে ততই ছিয়ামের উপকারী দিকগুলো সুস্পষ্টভাবে আমাদের সামনে ফুটে উঠবে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ আল্লাহ্র এই নে‘মতকে খুশি মনে করেই পালন করবে। আল্লাহ্র এ ফরয ইবাদত মানুষের রোগ মুক্তি, আধ্যাত্মিক উন্নতি ও সুস্থতার গ্যারান্টি হিসাবে ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

উপসংহার :

পরিশেষে বলা যায়, আধ্যাত্মিক ইবাদতের দৃষ্টিতে মৌলিক ইবাদতগুলোর মধ্যে ছিয়াম অন্যতম গুরুত্বের দাবীদার। কেননা দৃশ্যতঃ এটি বাহ্যিক ইবাদত হলেও ছিয়াম মূলত আত্মিক ও আধ্যাত্মিক ইবাদত। আল্লাহ তা‘আলা তাক্বওয়া অর্জন, আত্মসংযম ও আত্মসংশোধনের দুর্লভ গুণ তৈরির জন্যই মৌলিকভাবে এ ইবাদতটির বিধান প্রবর্তন করেছেন। তাই আল্লাহ্র নিকট প্রাণখোলা দু‘আ হল- আল্লাহ যেন আমাদের ছিয়াম কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের আত্মাকে সংশোধন ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের তাওফীক্ব দান করেন- আমীন!


[1]. মাসিক আত-তাহরীক, (রাজশাহী : হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জানুয়ারী ১৯৯৮, ১ম বর্ষ, ৫ম সংখ্যা), পৃঃ ৪; ঐ, (৩য় বর্ষ, ডিসেম্বর ১৯৯৯, ৩য় সংখ্যা), পৃঃ ১৫।

[2]. কিতাবুল ফিক্বহিল মুইয়াস্সার, পৃঃ ১৪৯ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-৪।

[3]. বুখারী, হা/১; আবুদাঊদ, হা/২২০১; ইবনু মাজাহ, হা/৪২২৭; মিশকাত, হা/১; কিতাবুল ফিক্বহুল মুওয়াস্সার, পৃঃ ১৪৯ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-৪।

[4]. বুখারী, হা/৮; মুসলিম, হা/১২২; তিরমিযী, হা/২৬০৯; নাসাঈ, হা/৫০০১; মিশকাত, হা/৪।

[5]. বুখারী, হা/২৬৭৮; মুসলিম, হা/১০৯; নাসাঈ, হা/৪৫৮; মিশকাত, হা/১৬।

[6]. কিতাবুল ফিক্বহিল মুইয়াস্সার, পৃঃ ১৫০ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-৪।

[7]. প্রাগুক্ত, পৃঃ ১৫১।

[8]. আবুদাঊদ, হা/৪৩৯৮; ইবনু মাজাহ, হা/২০৪১; তিরমিযী, হা/১৪২৩; মিশকাত, হা/৩২৮৭, সনদ ছহীহ; কিতাবুল ফিক্বহিল মুইয়াস্সার, পৃঃ ১৫১।

[9]. আবুদাঊদ, হা/৪৪০৩; ইবনু মাজাহ, হা/২০৪১; নাসাঈ, হা/৩৪৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৪৭৩৮; দারেমী, হা/২২৯৬, সনদ ছহীহ।

[10]. কিতাবুল ফিক্বহিল মুইয়াস্সার, পৃঃ ১৫২ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-৪।

[11]. মুসলিম, হা/৭৮৯; আবুদাঊদ, হা/২৬৩; নাসাঈ, হা/২৩১৮, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/২০৩২।

[12]. বুখারী, হা/১৮৯৯; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হা/১৯৫৬।

[13]. বুখারী, হা/১৮৯৮, ৩২৭৭; নাসাঈ, হা/২০৯৭; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হা/১৯৫৬।

[14]. মুসলিম, হা/২৫৪৮; নাসাঈ, হা/২১০০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৭৬৭; মিশকাত, হা/১৯৫৬।

[15]. তিরমিযী, হা/৬৮২; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৪২; মিশকাত, হা/১৯৬০।

[16]. মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৪৩; ছহীহুল জামে‘, হা/২১৬৯; ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০০২।

[17]. তিরমিযী, হা/৩৩৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৪৪৪; ইমাম বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হা/৬৪৬; ছহীহ ইবন খুযায়মাহ, হা/১৮৮৮; মিশকাত, হা/৯২৭; ছহীহুল জামে‘, হা/৩৫১০, সনদ ছহীহ।

[18]. হাকেম, হা/৭২৫৬; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, হা/১৪৭১; ছহীহ তারগীব, হা/১৬৭৭, সনদ ছহীহ।

[19]. বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, মিশকাত, হা/১৯৬৩, সনদ ছহীহ।

[20]. বুখারী, হা/১৯০৩, ৬০৫৭; আবুদাঊদ, হা/২৩৬২; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৮৯; তিরমিযী, হা/৭০৭; মিশকাত, হা/১৯৯৯।

[21]. বুখারী, হা/১৮৯৪; নাসাঈ, হা/২২১৫।

[22]. বুখারী, হা/১৩৯৭ ‘যাকাত’ অধ্যায়; মুসলিম, হা/১১৬ ‘ঈমান’ অধ্যায়; মিশকাত, হা/১৪।

[23]. বুখারী, হা/৩৮ ও ২০১৪ ‘ছিয়াম’ অধ্যায়; মুসলিম, হা/১৮১৭; মিশকাত, হা/১৯৫৮।

[24]. মুসলিম, হা/২৭৬৩; ইবনু মাজাহ, হা/১৬৩৮; মুত্তাফাক্ব আলাহই, মিশকাত, হা/১৯৫৯।

[25]. مَنْ دَخَلَهُ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا-নাসাঈ, হা/২২৩৭, সনদ ছহীহ।

[26]. বুখারী, হা/১৮৯৬; মুসলিম, হা/২৭৬৬।

[27]. নাসাঈ, হা/২২২০-২১; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৯৮৬, সনদ ছহীহ।

[28]. মুসলিম, হা/২৮০১; আবুদাঊদ, হা/২৪৫৩; মিশকাত, হা/২০৪৬।

[29]. তিরমিযী, হা/৭৪৭; নাসাঈ, হা/২৩৫৮; মিশকাত, হা/২০৫৬; ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১০৪১, সনদ ছহীহ।

[30]. বিঃ দ্রঃ- ‘আধুনিক বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ছিয়ামের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনাটি ডাঃ মুহাম্মাদ তারেক, সুন্নাতে রাসূল [সাঃ] ও আধুনিক বিজ্ঞান (ঢাকা : আল কাউসার প্রকাশনী এবং ডাঃ মুহাম্মাদ গোলাম মুয়াযযাম, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও ইসলাম (ঢাকা : আধনিক প্রকাশনী, তাবি) গ্রন্থদ্বয় থেকে গৃহীত।

Magazine