উত্তর : না, পারে না। কেননা রাত্রির বিশেষ নফল ছালাত একটিই যা ‘তারাবীহ’ ও ‘তাহাজ্জুদ’ নামে পরিচিত। রামাযানে এশার পর প্রথম রাতে পড়লে তাকে ‘তারাবীহ’ এবং রামাযানে ও অন্যান্য সময়ে শেষ রাতে পড়লে তাকে ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয় (ফায়যুল বারী, ২/৪২০ পৃঃ)। মূলত ‘তারাবীহ’ ও ‘তাহাজ্জুদ’ একই ছালাত। এ জন্য মুহাদ্দিছগণ একই হাদীছ ‘তাহাজ্জুদ’ অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন, ‘তারাবীহ’ অধ্যায়েও বর্ণনা করেছেন (ছহীহ বুখারী, হা/২০১৩, ৩৫৬৯, ১১৪৭; ১/২৬৯, ১৫৪, ৫০৪ পৃঃ)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই রাতে তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ পড়েননি। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার ছালাত শেষ করার পর হতে ফজর পর্যন্ত মাত্র ১১ রাক‘আত ছালাত আদায় করতেন’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৭১৮)। অন্য হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয় দিন ২৭-এর রাতে সাহারীর সময় পর্যন্ত তারাবীহর ছালাত দীর্ঘ করেছিলেন, যাতে ছাহাবায়ে কেরাম সাহারী খাওয়া ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন। যেমন হাদীছে এসেছে, فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِيْنَا أَنْ تَفُوْتَنَا الْفَلَاحُ ‘আমাদের নিয়ে তিনি এত দীর্ঘ সময় ধরে ছালাত পড়লেন, যাতে আমরা সাহারী খাওয়া ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা করছিলাম’ (আবুদাঊদ, হা/১৩৭৫; তিরমিযী, হা/৮০৬, সনদ ছহীহ; মিশকাত, হা/১২৯৮)। তাহলে এই রাতে তাহাজ্জুদ কখন পড়লেন? সুতরাং উক্ত হাদীছ থেকে স্পষ্ট হল যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার ছালাতের পর থেকে ফজর পর্যন্ত ১১ রাক‘আতের বেশী ছালাত কখনো পড়তেন না।
উল্লেখ্য যে, ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দটি কুরআনে আছে, হাদীছেও আছে। ‘ক্বিয়াম’ শব্দটি কুরআনে আছে, হাদীছেও আছে। পক্ষান্তরে ‘তারাবীহ’ শব্দটি কুরআনেও নেই এবং হাদীছেও নেই। এটা পরবর্তী বিদ্বানদের পরিভাষা। অতএব যারা বলছে যে, আল্লাহ্র নবী রামাযান মাসে তারাবীহ পড়েছেন তাহাজ্জুদ পড়েননি। তাদের এ কথাটি নিতান্তই ভুল ও কুরআন হাদীছ বিরোধী মন্তব্য। তাছাড়া তারাবীহ বিশ রাক‘আত আর তাহাজ্জুদ আট রাক‘আত মর্মে সমাজে প্রচলিত কথাটি আদৌ ঠিক নয়।
-আদনান বিন দেলোয়ার
নওগাঁ সদর, নওগাঁ।
