কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৩) : মাসবূকের ছালাতের নিয়ামাবলী দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : মাসবূক মুছল্লী ইমামকে যে অবস্থায় পাবে, সে অবস্থায় ছালাতে যোগদান করবে। আলী ও মু‘আয ইবনু জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তাঁরা দু’জন বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ছালাতে উপস্থিত হবে, তখন ইমাম যে অবস্থায় যা করতে থাকবে সেও যেন তাই করে’ (তিরমিযী, হা/৫৯১; মিশকাত, হা/১১৪২; ছহীহুল জামে‘, হা/২৬১)। ইমামের সাথে যে অংশটুকু পাবে, ওটুকুই তার ছালাতের প্রথম অংশ হিসাবে গণ্য হবে। রুকূ অবস্থায় পেলে শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা পড়ে রুকূতে শরীক হবে। ‘ছানা’ পড়তে হবে না। সূরা ফাতিহা পড়তে না পারলে রাক‘আত গণনা করা হবে না। মুসাফির কোন মুক্বীমের ইক্বতিদা করলে পুরা ছালাত আদায় করবে। অতএব রুকূ, সিজদা, বৈঠক যে অবস্থায় ইমামকে পাওয়া যাবে, সেই অবস্থায় জামা‘আতে যোগদান করবে। তাতে সে জামা‘আতের পূর্ণ নেকী পেয়ে যাবে। আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ওযূ করেছে এবং উত্তমরূপে তা সম্পন্ন করেছে। অতঃপর মসজিদে গিয়ে লোকদেরকে ছালাত সম্পন্ন করা অবস্থায় পেল। তাকে আল্লাহ তা‘আলা সেই ব্যক্তির পরিমাণ ছওয়াব দান করবেন, যে ব্যক্তি জামা‘আতে হাযির হয়ে ছালাত সম্পন্ন করেছে, অথচ এটা তাদের ছওয়াবের কোন অংশ হ্রাস করবে না’ (আবুদাঊদ, হা/৫৬৪; নাসাঈ, হা/৮৫৫; মিশকাত, হা/১১৪৫)। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ‘ছালাতের যে অংশটুকু তোমরা পাও সেটুকু আদায় কর এবং যেটুকু বাদ পড়ে, সেটুকু পূর্ণ কর’ (ছহীহ বুখারী, হা/৯০৮; ছহীহ মুসলিম, হা/৬০২; মিশকাত, হা/৬৮৬)।

-লুৎফর রহমান

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী, রাজশাহী।


Magazine