কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

সতর্ক থাকুন! ভেজাল খাদ্যে সয়লাব দেশ

এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এবং সিন্ডিকেট ভয়ংকর অপরাধে নেমেছে। তারা ফল থেকে শুরু করে মুড়ি ও পিঁয়াজু পর্যন্ত সকল পণ্যের মধ্যেই ভেজাল ও বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে বিক্রি করছে। হাইড্রোসালফাইড মিশিয়ে তারা মুড়িকে সাদা ও আকারে বড় করছে। সয়াবিনে পামওয়েল, হলুদ-মরিচে ইটের গুড়া, কলা-আমে কার্বাইড মেশাচ্ছে। সম্প্রতি এক রিপোর্টে দেখা গেল যে, কাউনের চালের গুড়োর সাথে কাপড়ের রং মিশিয়ে হলুদ-মরিচের গুড়ো হিসাবে বিক্রি করা হচ্ছে। সাদা ডিম বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে লাল করা হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ খামারে গরুকে খাওয়ানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ও খাবার সোডা। এতে গরু দ্রুত মোটাতাজা হলেও এর গোশত মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়ছে। এসব গরুর গোশত খেলে তাৎক্ষণিক কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না দিলেও মানুষের লিভার ও কিডনি ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে বলে চিকিৎসকরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

বেশিরভাগ কোমলপানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বস্ত্রকলের বিষাক্ত রং, ইথিলিন গ্লাইকল নামে একজাতীয় বিষ, স্যাকারিন, দূষিত কার্বনডাই অক্সাইড, ফসফরিক এসিড, সাইট্রিক এসিড ও ডিস্টিল ওয়াটার। কার্বলিক ও বেনজয়িক এসিডের ব্যবহারও চলছে বেশুমার। আইসক্রিম কারখানায় চিনির বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত সোডিয়াম সাইক্লামেট। ওয়াসার পানির সাথে সোডিয়াম সাইক্লামেট, টেক্সাটাইলের রং, ফ্লেভার ও কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জুস। তাতে তিল পরিমাণ ফলের রস না থাকলেও সেটি টাটকা ও তাজা ফলের জুস বলেই বিক্রি করা হচ্ছে। পাউরুটি, কেক, চানাচুর, পেস্ট্রি তৈরির বেকারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে বিষাক্ত রং, কেমিক্যাল, সোডিয়াম সাইক্লামেট, ইউরিয়া সার, পোড়া মবিল, শাল্টু, অ্যামোনিয়া হাইড্রোক্সাইড, পঁচা ডিম ও গ্যাসযুক্ত পোড়া তেল। বেকারিতে পোড়া মবিল দিয়ে চানাচুর ভাজা ও ইউরিয়া সার দিয়ে বিস্কুটসহ নানা ধরনের খাদ্য সামগ্রী তৈরির নমুনা মিলেছে। মিষ্টির কারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে টেক্সটাইল মিলের রং, পঁচা ময়দা, হোয়ে পাউডার, সোডিয়াম সাইক্লামেট ও দীর্ঘ দিনের জমানো গাদযুক্ত সিরা। পামওয়েল, গুড়ো হুইল পাউডার, গরুর চর্বি, রং দানা নামে বিষাক্ত কেমিক্যাল ও সেদ্ধ আলু পেস্ট করে মিশিয়ে তৈরি করা হচেছ নকল ঘি। সে নকল ঘি-ই আবার ‘খাঁটি গাওয়া ঘি’ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। কলা ও আম পাকানো হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বাইড দিয়ে। অন্যান্য ফলও ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে। ফল দ্রুত পাকাতে কপার সালফেট ছাড়াও ইথোপেন স্প্রে করা হচেছ। ইথাইলিন, ইথ্রিল, ইথোপেন কার্বাইড ব্যবহার করে পেঁপে ও আনারস পাকানো হচ্ছে। আনারস তাড়াতাড়ি পাকাতে স্প্রে করা হচ্ছে হরমোন। অপরদিকে জাতীয় ফল কাঁঠাল তাড়াতাড়ি পাকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে আর্সেনিক বা তুঁতে। আমদানীকৃত আপেল ও কমলায় দেয়া হচ্ছে কীটনাশক ঔষধ। তরমুজে বিষাক্ত ডাইং কালার ইনজেকশন দিয়ে ক্রেতাদের কাছে লাল টকটকে করে তোলা হচ্ছে। টমেটো পাকাতে স্প্রে করা হচ্ছে ইথোপেন ও প্রফিট নামের রাসায়নিক পদার্থ। একশ্রেণির প্রতারক ব্যবসায়ী ফল পাকার আগেই ফল পাকানি বলে পরিচিত রাইপেন, সারাগোল্ড ও অক্সিফ্রেলসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে কাঁচা ফলকে রাতারাতি কৃত্রিমভাবে পাকিয়ে দেদার মুনাফা লুটছে। ভোজ্য তেলের মিলগুলোতে সয়াবিন ও পামওয়েলের সাথে বিষাক্ত কেমিক্যাল মাস্টার ওয়েল মিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নকল সরিষার তেল। মাছে বিষাক্ত ফরমালিন বা শাক-সবজিতে বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারে বিক্রির বিষয়টি এখন আর গোপন নেই। ফল পাকানো বিষয়টিও সবার জানা। আনারস চাষে ক্রপসকেয়ার অথবা প্রানোফিকস নামে হরমোন স্প্রে করা হচ্ছে। এতে আনারস বড় ও আকর্ষণীয় রং ধারণ করছে। কিন্ত এতে হারিয়ে যাচ্ছে আনারসের আসল মিষ্টি, স্বাদ ও গন্ধ। শুধু বিষাক্ত পাউডারের সঙ্গে রং মিশিয়ে নকল গুড়া ট্যাং তৈরি করে দেদার বাজারজাত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের চকোলেট তৈরি হচ্ছে পাউডার ও চিনির সাথে বিষাক্ত রং মিশিয়ে।

এমন কোন খাদ্য নেই যাতে ভেজাল নেই। শাক-সবজি, ফলমূল খুব কমই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে, যার উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হয়নি। ব্যবসায়ী নামের এই দুর্বৃত্তরা পেঁপে, কমলা, আঙ্গুর, খেজুর, বাঙ্গি, বেল, আনারস ও তরমুজেও ফরমালিন ছাড়াও কার্বাইড ও রাইপেন নামের বিষাক্ত রাসায়নিক মিশিয়ে পাইকারী বাজারে পাঠাচ্ছে। সেগুলোই বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে। সাধারণ মানুষের পক্ষে এসবের কিছুই জানা বা বুঝে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। সুন্দর মোড়ক, প্যাকেট ও বয়ামের গায়ে উপকরণ ও ছবি দেখে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। তারা ফলের নামে প্রকৃতপক্ষে মারাত্মক ধরনের বিষ কিনে ভক্ষণ করছেন। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, একদিকে খাদ্য দ্রব্য কেনার সামর্থ্য সাধারণ মানুষের সাধ্যের অনেক বাইরে চলে গেছে, অন্যদিকে খাদ্য দ্রব্যে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক।

এ দেশে ভেজাল পণ্যকে আর ভেজাল মনে করার উপায় নেই। বাজারে প্রচলিত যেসব ব্রান্ডের নিত্য পণ্য জনপ্রিয়, সেগুলোর মধ্যে ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমানের প্রমাণিত হয়েছে বিএসটিআই এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষায়। দুধসহ খাদ্যে ভেজাল মেশানো মারাত্মক দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। তাই উচ্চতর আদালত ভেজাল ও নিমণমানের চিহ্নিত পণ্যসমূহের উৎপাদন বন্ধসহ সেগুলো বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এজন্য আদালত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভোক্তা সাধারণ অবশ্যই কৃতজ্ঞ। ভেজাল ও মানহীন পণ্যের যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে নযর দিলে দোকানে গিয়ে সওদা নেওয়ার সত্যিই আর রুচি থাকছে না। যেটাই তালিকার সঙ্গে মেলাচ্ছি সেটাই ভেজাল। যাব কোথায়? কিনব কী? অর্থাৎ এতোদিন আমরা নামি-দামি কোম্পানীর বিভিন্ন ব্রান্ডের পণ্য হজম করে দেহের বারোটা বাজিয়েছি।

কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি নামের একটি বেসরকারি ভোক্তা অধিকার সংস্থা এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট করলে সেই রিট আবেদন শুনানির পর তীর ব্রান্ডের সরিষার তেল, জিবি ব্রান্ডের সরিষার তেল, পুষ্টির সরিষার তেল, রুপচাঁদার সরিষার তেল, সান ব্রান্ডের চিপস, আরা ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, আল সাফি ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, মিজান ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, মর্ণ ডিউ ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, ডান কানের ন্যাচারাল মিনারেল ওয়াটার, আর আর ডিউ ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, দিঘী ব্রান্ডের ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রাণের লাচ্ছা সেমাই, ডুডলি ব্রান্ডের নুডলস, টেস্টি তানি তাসকিয়া ব্রান্ডের সফট ড্রিংকিং ওয়াটার, প্রিয়া সফট ড্রিংক পাউডার, ড্যানিশ ব্রান্ডের হলুদের গুড়া, প্রাণের হলুদের গুড়া, ফ্রেশ ব্যান্ডের হলুদের গুড়া, এসিআই পিওর ব্রান্ডের ধনিয়া গুড়া, প্রাণ ব্রান্ডের কারী পাউডার, ড্যানিস ব্রান্ডের কারী পাউডার, বনলতা ব্রান্ডের ঘি, পিওর হাটহাজারির মরিচের গুড়া, মিষ্টি মেলার লাচ্ছা সেমাই, মধুবনের লাচ্ছা সেমাই, মিঠাই এর লাচ্ছা সেমাই, ওয়েল ফুডের লাচ্ছা সেমাই, এসিআইয়ের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মোল্লা সল্টের আয়োডিনযুক্ত লবণ, কিং ব্রান্ডের ময়দা, রূপসা ব্রান্ডের দই, মক্কা ব্রান্ডের চানাচুর, মেহেদি ব্রান্ডের বিস্কুট, বাঘাবাড়ী স্পেশালের ঘি, নিশিতা ফুডসের সুজি, মধু ফুলের লাচ্ছা সেমাই, মঞ্জিল ফুডের হলুদের গুড়া, সান ব্রান্ডের হলুদের গুড়া, গ্রীনলেনের মধু, কিরণ ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ডলফিন ব্রান্ডের মরিচের গুড়া, ডলফিন ব্রান্ডের হলুদের গুড়া, সূর্য ব্রান্ডের মরিচের গুড়া, জেদ্দা ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই, অমৃত ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই, দাদা সুপারের আয়োডিনযুক্ত লবণ, তিন তীরের আয়োডিনযুক্ত লবণ, মদিনা, স্টারশীপের আয়োডিনযুক্ত লবণ, তাজ ব্রান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, নূর স্পেশালের আয়োডিনযুক্ত লবণ-পরীক্ষায় নিমণমানের বলে প্রমাণিত এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে এসব খাদ্য পণ্য বিক্রি ও সরবরাহে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছে।[1] উল্লেখ্য, ১৩২ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভেজাল ও মানহীন পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের দায়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আশা করি, এসব ব্যবসায়ীর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। কারণ, যারা ভোক্তা সাধারণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তারা ব্যবসায়ী নয়। তারা দুর্বৃত্ত। তারা ভয়ঙ্কর প্রতারক। তারা মানুষ হন্তারক।

তবে সাম্রাজ্যবাদী কোন শক্তি প্রতিদ্বন্দ্বীবিহীন একচেটিয়া ব্যবসা করার জন্য দেশীয় শিল্প ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গুজব রটাতে অন্তরালে ভূমিকা রাখছে কিনা এবং ভেজাল খাদ্য অভিযানে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের কোন অবহেলা আছে কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কেননা, এর আগে ২০১৪ সালে দেশি ফল নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। যেমন, ফরমালিন আছে বলে গুজব রটিয়ে প্রায় ৬০ হাযার টন ফল, আম আর মাছ নষ্ট করা হয়েছিল। কিন্তু পরে জানা গেল যে, যেই যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন মাপা হয়েছিল, সেটাই নষ্ট ছিল। আর প্রাকৃতিকভাবে সকল ফলে কিছু ফরমালিন থাকে।[2]

প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও গত ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে বাংলাদেশে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালিত হল। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ‘সুস্থ সবল জাতি চাই, পুষ্টি সম্মত নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প নাই।’ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ছিল নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সর্বসাধারণকে অবহিতকরণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিষয়ে সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

গত ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ তারিখে নিরাপদ খাদ্য দিবসের অনুষ্ঠানে রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খাদ্যে ভেজাল দিয়ে মানুষের জীবন ধ্বংসের অধিকার কারও নেই। খাদ্যে ভেজাল দেওয়াও এক ধরনের দুর্নীতি, এটা বন্ধ করতে হবে’।[3] এ দিকে গত ২০ মে ২০১৯ সোমবার বিশ্ব মেটেরোলজি দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআই মিলনাতয়নে ‘আন্তর্জাতিক পরিমাপ পদ্ধতির একক মৌলিকভাবে উত্তম’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন পণ্যের মানের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-কে নির্দেশ দিয়েছেন। যা বাস্তবায়িত হলে দেশ ও জাতি ভেজাল খাদ্য পণ্য থেকে অনেকাংশে রেহাই পাবে।

ইসলামের দৃষ্টিতে ভেজাল খাদ্য ও পণ্য দ্রব্য উৎপাদন, বিপণন ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ, অবৈধ এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।[4] ক্রয়-বিক্রয়ের সর্বস্তরে ইসলামী বিধানের অনুসরণ ব্যতীত এসব প্রতারণা ও দুর্নীতি দূর করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। আমরা আশা করছি, সরকারের সকল সংস্থা যরূরী ভিত্তিতে এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে উঠবে এবং আকাশচুম্বী মূল্য ও জীবনবিনাশী খাদ্য পণ্যের কবল থেকে জনগণকে রক্ষা করবে। সেই সাথে সর্বস্তরের জনগণ এই ব্যাপারে সচেতন হবে।


[1]. বিবিসি বাংলা: ঢাকা, ১২ মে ২০১৯ ইং।

[2]. দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ইং।

[3]. দৈনিক ইনকিলাব, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, পৃঃ ১২।

[4]. সুনানে তিরমিযী, অধ্যায় ১৪, ‘ক্রয়-বিক্রয়ে খিয়ানত ও প্রতারণা করা’ অনুচ্ছেদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হা/১৩১৮।

Magazine