কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (২২) : কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ওয়াক্ত ছালাত ছেড়ে দেয়, তাহলে কি সে কাফের হিসাবে গণ্য হবে? তার বিধান কী?

উত্তর : ইচ্ছাকৃতভাবে ছালাত পরিত্যাগকারী অথবা ছালাতের ফরযিয়াতকে অস্বীকারকারী ব্যক্তি কাফের ও জাহান্নামী। ঐ ব্যক্তি ইসলাম হতে বহিষ্কৃত (ইবনু মাজাহ হা/৪০৩৪; ছহীহাহ হা/৯১৪)। তবে সাধারণভাবে ছালাত পরিত্যাগ করাকে হাদীছে ‘কুফরী’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে (মুসলিম হা/৮২; মিশকাত হা/৫৬৯)। ছাহাবায়ে কেরামও একে ‘কুফরী’ হিসাবে গণ্য করতেন (তিরমিযী হা/২৬২২; মিশকাত হা/৫৭৯)। তারা নিঃসন্দেহে জাহান্নামী। তবে এই ব্যক্তিগণ যদি খালেছ অন্তরে তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতে বিশ্বাসী হয় এবং ইসলামের হালাল-হারাম ও ফরয-ওয়াজিব সমূহের অস্বীকারকারী না হয় এবং শিরক না করে, তাহলে তারা ‘কালেমায়ে শাহাদাত’কে অস্বীকারকারী কাফেরগণের ন্যায় ইসলাম থেকে খারিজ নয় বা চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়। কেননা এই প্রকারের মুসলমানেরা কর্মগতভাবে কাফের হলেও বিশ্বাসগতভাবে কাফের নয়। বরং খালেছ অন্তরে পাঠ করা কালেমার বরকতে এবং কবীরা গোনাহগারদের জন্য শেষ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর শাফা‘আতের ফলে শেষ পর্যায়ে এক সময় তারা জান্নাতে ফিরে আসবে (বুখারী হা/৭৫১০; মুসলিম হা/১৯৩)। তবে তারা সেখানে ‘জাহান্নামী’ বলেই অভিহিত হবে (বুখারী হা/৬৫৫৯)। যেটা হবে খুবই অপমানজনক বিষয়।

প্রশ্নকারী : শেখ মুহাম্মাদ আলী আলম

বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।


Magazine