কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

তরুণ সমাজের প্রতি আহবান (পূর্ব প্রকাশিতের পর)

হে তরুণ নওজোয়ান!

ইসলাম একটি বিশ্বজনীন ও সর্বজনীন কল্যাণময় জীবন বিধান। মানুষের সার্বিক জীবনের সকল দিক ও বিভাগের সুস্পষ্ট দিক নির্দেশিকা হিসাবে ইসলাম স্বমহিমায় চির ভাস্বর। ইসলামী আদর্শ প্রভাব বিস্তারকারী ও হৃদয় আকৃষ্টকারী সমাজের ভ্রান্ত আক্বীদা ও সংশোধিত আমলের সুসংহত, পরিপাটি ও সুদৃঢ় করার এক অতুলনীয় আদর্শ। পারস্পরিক সহানুভূতি, হৃদ্যতা, সহমর্মিতা বা চারিত্রিক ভূষণে ভূষিত একজন খাঁটি মুসলিমের মৌলিক চেতনা হল ইসলাম। সমাজে বা রাষ্ট্রে চলমান বিভিন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাস, কুসংস্কার, অপসংস্কৃতি ও প্রবৃত্তির অনুগামী হয়ে আমলের প্রতি যথেচ্ছা স্বেচ্ছাচারী জীবনকে সঠিক পথে আনয়ন করার জন্য, অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে, জাহান্নামের পথ থেকে জান্নাতের পথে এবং মিথ্যার পথ থেকে সত্য পথে ও বিশুদ্ধ আক্বীদা ও সংশোধিত এবং গ্রহণযোগ্য আমলের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য যুগে যুগে সময়ের বিবর্তনে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। সেই সকল মহান ব্যক্তিরা তাঁদের স্ব স্ব উম্মতদের জন্য এক একজন শিক্ষক হিসাবে আবির্ভূত হন। তাঁরা উম্মতদেরকে হাতে কলমে আল্লাহর ওয়াহদানিয়াত ও উলূহিয়্যাতের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর উম্মতের জীবনকে সুষমামণ্ডত ও সাফল্যমণ্ডত করতে অনেকগুলো আদব-কায়দা, নিয়ম-নীতি, বৈশিষ্ট্য ও উপাদান বর্ণনা করেছেন। আর সেই বর্ণিত বিষয়গুলো যদি কোন মানুষ তার পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র বা জাতি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে গ্রহণ করে, তাহলে আধুনিক এই তথাকথিত সভ্যতা সহ রাষ্ট্রিক, অর্থনৈতিকসহ সকল বিষয়ে উন্নতির চূর্ণ-শিখরে আরোহণ করতে সক্ষম হবে। অথচ মুসলিম জাতি হিসাবে আমরা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ক্রমবর্ধমানহারে ভুলতে বসেছি। আদর্শিক দুর্ভিক্ষ ও আদব-কায়দাবিহীন অনিয়ন্ত্রিত জীবন সমাজ জীবনকে বিষময় করে তুলেছে। অগ্নিদগ্ধ যন্ত্রণায় কাতর সমগ্র বিশ্ব মুসলিম।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অবুঝ শিশুরা এবং জাতির প্রাণ সদৃশ তরুণ নওজোয়ানরা। শৈশবকালে তাদেরকে যা বুঝানো বা শিখানো হয়, তারা কেবল তাই বুঝে। তাই মানব রচিত থিওরি, মারেফতী ভ-াবী, ফযীলতের মিথ্যা ধোঁকা, রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের রঙ্গিন স্বপ্ন, শিরক ও বিদ‘আতের মত অসংখ্য ভ্রান্ত আক্বীদা সুকৌশলে তাদের অন্তর জগতে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ সন্তানদেরকে যদি বিশুদ্ধ ইসলামী আক্বীদা শিক্ষা না দেয়া যায় কিংবা ইসলামী আদর্শে গঠন ও প্রতিপালন না করা যায় তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র বা জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। অতএব তাদেরকে যদি বিশ্ব মানবতার মুক্তির কাণ্ডারী, বাতিলের আতঙ্ক, হক্বের অতন্দ্রপ্রহরী, অত্যাচারের বিরুদ্ধে খড়্গ, বিশ্ব মানবাধিকার রক্ষার অগ্রদূত, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার এক অন্যন্য ব্যক্তিত্ব বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বিশ্ববিজয়ী ও কালজয়ী আদর্শে আদর্শবান করা যায়, তাহলে তাদের জীবন হবে সুন্দর, পরিপূর্ণ ও সৌন্দর্যমণ্ডীত। যার আচরণে জাহিলিয়াতে নিমজ্জিত অজ্ঞ মানুষেরা তার একান্ত অনুচরে পরিণত হয়েছিল; যার অমায়িক ব্যবহারে কাফির-মুশরিকরা মুগ্ধ হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল; যার অপ্রতিরোধ্য সাহিত্য ব্যঞ্জনা, বাক্যের অলংকারিত্ব, সারগর্ভ ও ছন্দময় বাক্যের অবতারণা সমৃদ্ধ বক্তব্যে সাহিত্যগর্ভী আরব জাতি হয়েছিল পরাস্ত। এজন্য রাসূল (ছাঃ)-এর অনুসৃত আক্বীদা-বিশ্বাস, আদর্শ ও আদব-কায়দা পূর্ণাঙ্গরূপে তরুণদের নিকটে পেশ করা একান্ত যরূরী। যা সকল মানুষের জীবন চলার পথের আলোর দিশারী হিসাবে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। অতএব হে তরুণ নওজোয়ান! সময় ক্ষিপণ না করে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বিশ্ব বিজয়ী আদর্শের নিকট নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ কর। তুমি তো জাত-পাত সকল ভেদাভেদ ভুলে পায়ে পা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রামকারী, তুমি তো মনুষ্য তৈরি সকল অস্পূর্ণ আদর্শকে দলিত-মথিত করে চির শাশ্বত ও চিরন্তন কল্যাণময় আদর্শ ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য জীবন দিয়েছ, তোমার পূর্বপুরুষদের ইতিহাস তো চির ভাস্বর। অতএব তুমি আজ অথর্ব ও জড় পদার্থের ন্যায় অকেঁজো হয়ে পড়ে আছ কেন? তোমার সেই ঈমানী শক্তির তেজে উদ্ভাসিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে জাগ্রত হও। যাবতীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডর মূলে কুঠারাঘাত করে হক্বকে বিজয়ী করার ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়। কেননা তোমার যৌবনের অপ্রতিরোধ্য গতিময়তার কাছে বিশ্বের সকল শক্তিই পরাস্ত। অতএব জাগ্রত হও, নিরপেক্ষ ও নিঃস্বার্থবাদীতার মহিরূহের আকার ধারণ করে উন্মোচিত হও ঈমানী শক্তিতে...

হে বিপ্লব সৃষ্টিকারী যুবসমাজ!

তোমার ফুলের মত সুন্দর জীবন তখনই সুশোভিত ও আনন্দময় হবে, যখন তোমার আক্বীদা বা বিশ্বাস হবে স্বচ্ছ, নির্মল ও বিশুদ্ধ। তোমার গৃহীত আদর্শ হবে বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুনির্মল আদর্শ। তোমার আক্বীদা হবে নবী সম্রাট রাসূল মুহাম্মাদ (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম, তাবে‘ তাবেঈন এবং পরবর্তীতে সালাফে ছালেহীনদের গৃহীত আক্বীদা। এ জন্য যখন তুমি জন্ম গ্রহণ করেছিলে, তখন তোমার নিকট এই বিশ্বজগতের একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নাম তোমার হৃদয়ে গ্রোথিত করে দেয়া হয়। তুমি তোমার জন্মগত বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে ইসলামের পথে দৃঢ় থাকতে চাও। কিন্তু তোমার পিতা-মাতার লালিত আদর্শ এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তোমাকে এক অন্ধকার নিগড়ে নিক্ষেপ করে। কেননা পিতা-মাতার কারণেই একটি শিশু খ্রিষ্টান হয়, ইহূদী হয় কিংবা অগ্নিপূজক হয়। ফলে তুমি প্রকৃত ফিতরাত তথা ইসলাম থেকে বহুদূর চলে যাও। যাত্রা শুরু কর এক অনিশ্চিত গন্তব্য পানে। জর্জরিত হও বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতে।

শুন! সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত আক্বীদা ও কুসংস্কার তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। তুমি ভ্রান্ত আক্বীদার হিংস্র শিকারে পরিণত হয়েছ। তোমাদের মধ্যে কেউ পীর-ফকীরদের নোংরা পরিবেশে বেড়ে উঠছে, কেউ মাযার পূঁজারীদের ভ-ামীর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, কেউ তথাকথিত মাযহাবের গণ্ডমুক্ত হতে না পেরে জীবনটাকে তাক্বলীদী অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। কেউ ফযীলতের মিথ্যা ধোঁকায় প্রতারিত হচ্ছে, কেউ শবেবরাত, শবেমে‘রাজ, ঈদে মীলাদুন্নবী, ফরয ছালাতের পর সম্মিলিত মুনাজাত, ছয় তাকবীরে ঈদের ছালাত আদায়, আট রাক‘আতের পরিবর্তে বিশ রাক‘আত তারাবীহ্র ছালাত আদায় ইত্যাদির মত বিদ‘আতে হাবুডুবু খাচ্ছে, কেউ রাতারাতি রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের শয়তানী তন্ত্রের হিংস্র খোরোকে পরিণত হচ্ছে, কেউবা আবার শী‘আ, খারেজী, মু‘তাযেলা, কাদারিয়া, মুরজিয়া, ছূফীবাদ, রাফেযীদের মত বিভিন্ন ভ্রান্ত আক্বীদায় জীবন গড়ে তুলছে। কেউ ব্রেলভী, দেওবন্দী, চিশতিয়া, নকশাবন্দীয়া, মুজাদ্দেদিয়া, চরমোনাই, ছারছিনা, আটরশী, উজানী, মাইজভা-ারীর মত বিভিন্ন ভ্রান্ত তরিকায় নিজের জীবনটাকে শেষ করে দিচ্ছে। ফলে তোমরা তোমাদের পরিবারের সদস্যদের লালন করা রীতি-নীতির মাধ্যমে চরমভাবে প্রভাবিত হচ্ছো। তোমার জীবন হয়ে উঠছে বিপন্ন ও তুমি নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছো। আর এসব কিছু হচ্ছে কেবল তোমার পিতা-মাতা, ভাই-বোন কিংবা নিকটাত্মীয়দের অযোগ্যতা, মূর্খতা ও নির্বুদ্ধিতার কারণে। যা আগামী তরুণ প্রজন্মদের ইসলামের প্রকৃত আদর্শ থেকে বিমুখ করে এক জগাখিচুরী ও বিষপাষ্প সমাজে পরিণত করতে বাধ্য করছে।

হে বিপ্লবী! উপরিউক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির মূলে মূলত তোমার পিতা-মাতা তথা পরিবারই দায়ী। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্পষ্টরূপে সেটাই বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু ফিতরাতের (ইসলাম ধর্মের) উপরে জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতা-মাতার কারণে সে ইহূদী হয়, খ্রিষ্টান হয় এবং অগ্নী উপাসক হয়’ (ছহীহুল বুখারী, হা/১৩৮৫; আবুদাঊদ, হা/৪৭১৪)। যদিও সে রূহ জগতে আল্লাহকে প্রতিপালক হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করেই পৃথিবীতে আগমন করে থাকে (আল-আ‘রাফ, ১৭২)। অথচ প্রকৃত মুসলিম হওয়ার গূঢ় রহস্য হল মানুষ তার জীবনের বিসত্মীর্ণ ক্ষেত্রে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও খুশি করার জন্য তাঁরই ইবাদত করবে। এটা তাঁর সৃষ্টিকর্তা হিসাবে একান্ত দাবী। মানুষ তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে চিনে-জেনে-বুঝে তাঁর প্রতি বিশ্বাসকে দৃঢ় করবে। তাহলে সে পৃথিবীতে সফলকাম ও পরকালে মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যথা নয়। যেমন শিরকের বিরুদ্ধে আপোসহীন সংগ্রাম মুখর এবং নির্ভেজাল তাওহীদী চেতনার মূর্তপ্রতিক ইবরাহীম (আঃ) তার জ্বলন্ত সাক্ষী। তিনি তাঁর সন্তান ইসমাঈলকে নির্ভেজাল তাওহীদী চেতনায় উজ্জীবিত করেছিলেন। উভয়ই আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ফলে আল্লাহর রাহে কুরবানীর মত আত্মত্যাগের ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছিল। একারণেই তারা আল্লাহর নিকট হয়েছেন প্রশংসিত এবং জগদ্বাসীর নিকট হয়েছেন নন্দিত। অতএব হে বিপ্লবী সংস্কারক তরুণ নওজোয়ান! সমাজে যে সমস্ত বিভিন্ন ভ্রান্ত আক্বীদা, অপসংস্কৃতি ও কুসংস্কার রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে তোমাদেরকে সেখান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তা উচ্ছেদের প্রচেষ্টা অব্যহত রাখতে হবে। ইসলামের সুন্দর, স্বচ্ছ ও সুনির্মল বিশ্বাস যদি তোমার অন্তর জগতে একবার ঢুকিয়ে দেয়া যায়, তাহলে তুমি তোমার পূর্ণাঙ্গ জীবনকে এই বিশ্বাসের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারবে। তখন তুমি তোমার জীবনের সমস্ত চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙক্ষা নিবেদন করবে একমাত্র আল্লাহর নিকটে। অতঃপর তোমার জীবন হবে সুখী, সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দময়। অতএব তোমার শঙ্কা কিসের? হতাশা ও অলসতা কেন তোমাকে কাঁবু করে ফেলবে? কেন তুমি ভ্রান্ত আক্বীদায় বিশ্বাসী হয়ে দুনিয়াতে ও আখেরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে? সুতরাং ফিরে এসে সত্যের পথে! সংশোধিত হও চিরন্তন সুখ ও শান্তির আশায়! জাতি আজ তাক্বওয়াশীল এক যুবকাফেলার দিকে অবাক নেত্রে তাকিয়ে আছে। জাতিকে সত্য, সুন্দর ও শান্তির পথ তোমাকেই দেখাতে হবে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ তো তোমার হাতেই প্রতিষ্ঠিত হবে। অতএব প্রস্ত্তত হও, এগিয়ে এস সম্মুখ পানে। তোমার অপেক্ষায় জাতি...

হে ইসলামী সংস্কৃতির ধারক-বাহক!

আধুনিকতা, অপসংস্কৃতি ও সভ্যতা নামের অন্ধকার বেড়াজালে বন্দী মুসলিম জাতি আজ হতাশাগ্রস্ত ও সংকিত। মুসলিম জাতি হারিয়েছে গৌরবান্বিত ঐতিহ্য, নিঃশেষ হয়েছে তাদের উন্নত সংস্কৃতি। ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী সাম্রাজ্যবাদ, ইহুদীবাদ ও ব্রাহ্মণ্যবাদী দর্শনের হিংস্র থাবা মুসলিম জাতির সামনে পুঁজিবাদের টোপ ফেলে ধনীকে আরো ধনী এবং গরীবকে আরো গরীব বানানোর সুদূরপ্রসারী জালে আটকে ফেলেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিধ্বংসী হুংকার মুসলিম জাতিকে করেছে পর্যুদস্ত, নির্লিপ্ত ও পরনির্ভরশীল। পুঁজিবাদের খপ্পরে ঋণের জালে আটকে পড়ে আইএমএফ বিশ্বব্যাংক প্রভৃতি বিশ্ব শোষকদের হাতে বন্দী হয়েছে। তেমনি সংস্কৃতির নামে অপসংস্কৃতির মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে গৌরব, ঐতিহ্য ও নির্মল চরিত্র হয়েছে কলুষিত। তাইতো প্রগতিবাদীরা মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংস করার জন্য তাদের উন্নত সংস্কৃতি ও নৈতিক চরিত্রে ভাঙ্গন ও বিপর্যয় সৃষ্টির জন্য ধীর অথচ দৃঢ়ভাবে নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছে। তাদের এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংস্কৃতির নোংরা হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করছে কিছু মুসলিম নামধারী এদেশীয় দোসর, তল্পিবাহক ও ক্রীড়নকদের। ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্প্রদায়িকতা ও প্রগতিবাদীরা সংস্কৃতির নামে মুসলিম আক্বীদা-বিরোধী কিছু অপসংস্কৃতির মায়াজালে মুসলিম সংস্কৃতিকে তারা বন্দী করে ফেলেছে।

মূর্তি ও ভাস্কর্য সংস্কৃতি মূলত বর্বর ও অন্ধকার যুগের সংস্কৃতি। যা আধুনিক সেক্যুলারদের মাঝে প্রত্যক্ষ ও সুদৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। তৎকালীন সময়ে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ হত পাথর, মাটি বা কোন ধাতব বস্ত্ত খোদাই করে। বর্তমানে উল্লেখিত উপাদান ছাড়াও আধুনিক নানা ধরনের রঙ্গিন উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে ডিজিটাল মূর্তি ‘সোফিয়া’ রোবটের আবিষ্কার হচ্ছে। সে যুগে মূর্তি ও ভাস্কর্য তৈরি করা হত উপাসনা, আরাধনা করতে। নযর-নেয়াজ পেশ করে, মনের আকাঙিক্ষত বিষয় চাইতে। বর্তমানে এ সমস্ত কার্যাবলীর চেয়ে আরও ভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যা দেখে শুধুই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। আর এ সমস্ত কাজের শীর্ষে রয়েছে দেশের তথাকথিত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। শুধু তাই নয় এ জঘন্য শিরক ও অপরাধমূলক কাজে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশের যুবসমাজ। অথচ তা সম্পূর্ণ কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ বিরোধী। ইসলাম এ ব্যাপারে পরিষ্কার বক্তব্য ও মর্মন্তুদ শাস্তির কথা বর্ণনা করেছে। ছবি-মূর্তি ভেঙ্গে ফেলার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আলী (রাঃ)-কে বলেন, ‘(যখনই কোন মূর্তি দেখবে), তা ভেঙ্গে টুকরো না করে ছাড়বে না। আর যখনই কোন উঁচু কবর দেখবে, তখন তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে না দেয়া পর্যন্ত ছাড়বে না’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৬৯; মিশকাত হা/১৬৯৬)। অন্যদিকে বর্তমানে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ প্রবণতা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাছে। ইংরেজী নববর্ষের পূর্বরাত ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’, ভ্যালেন্টাইনস ডে, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন প্রভৃতির বেলেল্লাপনার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় ও খবরের কাগজের পাতায় যেভাবে প্রদর্শিত ও প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে দেশ পাশ্চাত্য দেশগুলোর ন্যায় অনৈতিক দেউলিয়াত্বের শিকারে পরিণত হবে। যেখানে সতীত্ব ও বিশুদ্ধ চরিত্র বলে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। অথচ এসব অনুষ্ঠান ইসলামী শরী‘আত সমর্থিত নয়। মুসলিম জাতির আধ্যাত্মিকতাকে ধ্বংস করার জন্য ব্রিটিশ শাসকদের লক্ষ্য বর্ণনায় লর্ড মেকলে ১৯৩৬ সালে বলেছিলেন, ‘বর্তমানে আমাদের সর্বাধিক প্রচেষ্টা হবে, এমন একটি গোষ্ঠী সৃষ্টি করা, যারা আমাদের ও আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রজার মধ্যে দূত হিসাবে কাজ করতে পারে। এরা রক্তে ও বর্ণে হবে ভারতীয়। কিন্তু মেজাযে, মতামতে, নৈতিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তিতে হবে ইংরেজ’। হে ইসলামী সংস্কৃতির ধারক ও বাহক তরুণ সমাজ! ইহুদী-খ্রিষ্টান ও ব্রাক্ষ্মণ্যবাদীদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে তোমাদের নৈতিকতা আজ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তাই সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও প্রতিষ্ঠা বর্তমানে একান্ত প্রয়োজন, যা তোমাদের মাধ্যমেই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

হে তরুণ! সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে জাগ্রত হও

সত্য ও মিথ্যার সংঘাত চিরন্তন। ন্যায়ের অনুসারীরা চিরদিন প্রশংসিত ও সম্মানিত। কেননা তারা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম করেন। হাযারো বিপদ-আপদ, দুঃখ-যন্ত্রণা, যুলুম-অত্যাচার ও নিপীড়নের মধ্যেও তারা সত্য থেকে পিছপা হন না। সত্য প্রতিষ্ঠায় তারা থাকেন চিরদিন আপোসহীন। বাতিলপন্থীদের উপর্যুপরী মিথ্যা অপবাদ, ষড়যন্ত্র-সংঘাত, গীবত-তোহমত, অপমান-অপদস্ত, মিথ্যাচার ও হিংসাত্মক আক্রমণে হক্বপন্থীগণ থাকেন সর্বদা পাহাড়সম ধৈর্যশীল। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রেখে আল্লাহ প্রদত্ত চিরন্তন সত্যের পথে অবিচল থাকেন চিরস্থায়ী বাসস্থান জান্নাত লাভের আশায়। দুনিয়ার সমস্ত বিপদ-আপদ ও অপমানকে তারা হাসিমুখে বরণ করে নেন। তাই পৃথিবীর সমস্ত বাতিল শক্তি একত্রিত হলেও তারাই হন চিরদিন বিজিত। পক্ষান্তরে অন্যায়ের অনুসারীরা চিরদিন লাঞ্ছিত ও অপমানিত। তারা অন্যায় ও ত্বাগূতের পক্ষে সংগ্রাম করে। হক্বপন্থীগণের গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান-মর্যাদা, সহজ-সরলতা, নমনীয়তা এবং নম্র আচরণকে নষ্ট ও ধ্বংস করতে তারা থাকে সদা জাগ্রত। তারা বিপদের মুহূর্তে দিশেহারা হয়ে যায়। হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়। ন্যায়-অন্যায় বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। নিজের সম্মানের কথা বিমালুম ভুলে যায়। ফলে একসময় অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে আফসোসের চোরাবালুতে পতিত হয়। এসময় তাদের অভিভাবক হয় ইবলীস শয়তান। অলসতা থেকে ইবলীস তাদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে হক্বপন্থীদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলে। ফলে তারা শয়তানের সঙ্গী হয়ে সত্যকে গ্রাস করার অপচেষ্টা করে থাকে। দুনিয়ার এই অস্থায়ী ক্ষমতা ও জোরপূর্বক আহরিত তথাকথিত সম্মান-মর্যাদার অহংকারে বুঁদ হয়ে তারা নিজেদেরকে সকল ক্ষমতার অধিকারী মনে করে। সম্মান-মর্যাদার মালিক বনে যায়। নিজেদের চিন্তা-চেতনাকে সত্যের মাপকাঠি হিসাবে মনে করে থাকে। ফলে তারা নমরূদ, ফেরআঊন, আবু জাহাল, আবু লাহাবের মত পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। নিক্ষিপ্ত হয় ইতিহাসের নোংরা আস্তাকুঁড়ে।

হে তরুণ! মতবাদ বিক্ষুব্ধ অশান্ত এ পৃথিবী আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। অনৈতিকতার তা-ব নৃত্য, পারস্পরিক হিংসা-প্রতিহিংসার প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, ক্ষমতার দম্ভ, আপোষকামিতার নোংরা গন্ধ, বিভক্তির শয়তানি প্ররোচনা, দখলদারিত্বের উন্মাদনা, বর্বর মানসিকতা, মিথ্যাচারের গভীরতা, সংকীর্ণতার মায়াজাল, সূদ-ঘুষ ও প্রতারণাপূর্ণ পূঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, মস্তিষ্ক প্রসূত রাজনৈতিক ও সামাজিক মতবাদের হিংস্রতা, বৈষয়িকতার নামে ধর্মহীনতা, ধর্মীয় বাড়াবাড়ি, মাযহাব কেন্দ্রীক দলাদলী, জঙ্গীবাদের ভয়ঙ্কর উত্থান, দুর্নীতি-চাঁদাবাজীর বন্যতা, অশস্নীল ও বেহায়াপনার লজ্জাহীনতা, আতঙ্ক-ভয়-শঙ্কা ও দুর্বিনীত সন্ত্রাসী কর্মতৎপরতায় সমগ্র বিশ্ব আজ অন্ধকারের অতল গহবরে নিমজ্জিত। ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের দিকে ধাপমান। প্রতিনিয়ত যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুকূপের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে অসহায় মানবতা। প্রশ্ন হল, এখান থেকে কি কোন মুক্তি নেই, বাঁচার কোন ক্ষীণ আশারও প্রদীপ জ্বালাতে পারবে কি কেউ?

হে চির অজেয় তরুণ সমাজ! বিশ্ব আজ অবাক নেত্রে তাঁকিয়ে রয়েছে তারুণ্যদীপ্ত উজ্জ্বল তারকা সদৃশ একঝাঁক দীপ্তিময় তীক্ষ্মবুদ্ধি সম্পন্ন তরুণদের পানে। যারা হবে আল্লাহর ভয়ে ভীতু, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল অন্যায় থেকে মুক্ত, চির শাশ্বত সত্য ইসলামী আদর্শের সনিষ্ঠ অনুসারী, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীন, সকল প্রভঞ্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, ধর্মীয় ও বৈষয়িক জ্ঞানে পরিপক্ক, নৈতিকতার ময়দানে অবিচল সৈনিক, সত্য ও ন্যায়ের অতন্দ্রপ্রহরী, জাতীয় ও বিজাতীয় মতবাদসমূহের মূলোৎপাটনকারী, সূদ-ঘুষ ও প্রতারণাপূর্ণ অর্থনীতি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামকারী, ইহূদী-খ্রীষ্টান ও সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর চালু করা নানাবিধ অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে গণজোয়ার সৃষ্টিকারী নিবেদিত প্রাণ কর্মীবাহিনী। যাদের সত্যনিষ্ঠ প্রবুদ্ধে সাধারণ জনগণকে হক্ব ও ন্যায়ের পক্ষাবলম্বনে উজ্জীবিত করবে। যাদের ব্যাঘ্র হুংকারে বাতিলপন্থীদের হৃদয় প্রকম্পিত হবে, নাস্তানাবুদ হয়ে যাবে দাম্ভিকতার দুর্বল প্রাচীর, চূর্ণ-বিচূর্ণ হবে অহঙ্কারীর আস্ফালন, খণ্ডবিখণ্ড হবে ক্ষমতাগর্ভীদের নিজ গৃহ। অতএব হে যুবক! ক্লান্তিহীন চেতনায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চল মহা সত্যের সন্ধানে।

হে হক্বপন্থী তরুণ ছাত্রসমাজ! হক্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তোমাকেই সম্মুখে অগ্রসর হতে হবে। তোমাকেই বাতিলশক্তির মোকাবেলায় নির্ভীক সৈন্যের ভূমিকা পালন করতে হবে। মিথ্যাকে নস্যাৎ করে হক্ব প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তোমাকেই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ঐ শোন মহান আল্লাহর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও’ (তওবাহ, ১১৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সত্য পুণ্যের পথ দেখায় এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়... এবং মিথ্যা পাপের পথ দেখায় আর পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়...’ (মুত্তাফাক্ব আলাহই, মিশকাত, হা/৪৮২৪)। তিনি আরো বলেন, ‘সত্য প্রশাস্তির কারণ এবং মিথ্যা সন্দেহের কারণ’ (তিরমিযী হা/২৫১৮; মিশকাত হা/২৭৭৩, সনদ ছহীহ)

হে যুবক! তোমার কিসের এত শঙ্কা! কী কারণে তুমি থেমে আছ! তোমার যৌবনের তেজদ্বীপ্ত খুন কি বাতিল শক্তিকে পর্যদুস্ত করার জন্য ব্যয়িত হবে না? জান্নাত পাওয়ার প্রবল আকাঙক্ষা কি তাহলে তোমার বক্ষ পিঞ্জরে করাঘাত করবে না? হৃদয়ের প্রগাঢ় বিশ্বাস কি তাহলে এভাবেই ধুলিসাৎ হয়ে যাবে? তুমি কি লক্ষ্য করনি, তোমার পূর্বসূরীরা হক্বকে বিজয়ী করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকত, যাদের তপ্ত লহু যমীনকে করেছে রক্তাক্ত, জ্বলন্ত অঙ্গারে নিক্ষিপ্ত হয়েছে হাসিমাখা নয়নে, শি‘আবে আবু তালেবে সাড়ে তিন বছর নির্বাসিত জীবন-যাপন করেছে, ফাঁসির মঞ্চে হাসিমুখে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে, জ্বলন্ত আগুনে উত্তপ্ত লোহার উপরে চিৎ করে শুইয়ে রেখে বুকের উপর ভারী পাথর চাপা দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে, ফলে পিঠের চামড়া ও গোশত গলে লোহার আগুন নিভে গিয়েছিল, প্রচণ্ড দাবদাহে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুরাশিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উপুড় হয়ে শুয়ে থেকে শাস্তি ভোগ করেছে, দু’পা রশি দিয়ে বেঁধে ঘোড়ার লাগামের সাথে লাগিয়ে দু’দিকে ঘোড়া হাঁকিয়ে দিয়ে শরীরকে দ্বি-খণ্ডত করে হত্যা করা হয়েছে, জ্বলন্ত আগুনে লোহা উত্তপ্ত করে গুপ্তাঙ্গের ভিতর ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছে, কালাপানির আন্দামানে নির্বাসিত হতে হয়েছে, লোহার করাত দিয়ে জীবন্ত মানুষকে দ্বিখণ্ডত করে দিয়েছে, লোহার চিরুণী দিয়ে শরীরের হাড় থেকে গোশত তুলে নিয়েছে। শুধু তাই-ই না, ইমাম আহমাদ ইবনু তায়মিয়াকে আটবার কারাগারে বন্দি করেছে, ইমাম আবু হানীফাকে কাযির পদ না নেয়ায় বিষ প্রয়োগে হত্যা হতে হয়েছে, ইমাম বুখারীতে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, শাহ ইসমাঈল শহীদকে হত্যা করেও বিরোধীপক্ষ ক্ষ্যান্ত হয়নি। তার লাশ টুকরা টুকরা করে কেটে সমুদ্রের পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এভাবে অসংখ্য মুমিন-মুসলিম নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তবুও তারা কেউ হক্ব থেকে বিচ্যুত হয়নি। স্তিমিত হয়নি হক্ব আন্দোলনের গতিধারা। বরং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহলে তুমি কেন ভয়ে লুকিয়ে রয়েছে? কেন পাশ্চাত্য দর্শন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছ? কেন সূদের ন্যায় হারাম অর্থীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছ? কেন প্রবৃত্তিপূজারী হয়েছ? তোমার কিসের চিন্তা! তুমি তো সত্য ও ন্যায়ের অনুসারী। যার শেষ ঠিকানা জান্নাত! অতএব প্রস্ত্ততি গ্রহণ কর, হক্ব ও ন্যায়ের পক্ষে জাগ্রত হও।

উদাত্ত আহবান!

শিরক ও বিদ‘আতের বিরুদ্ধে অগ্নি স্ফুলিঙ্গ সদৃশ, বিজাতীয় ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী আহবান, ইসলামী সাহিত্য ও লেখক সৃষ্টির চূড়ান্ত ঠিকানা, মুসলিম মিল্লাতের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রয়াসী, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বৈষয়িক কিংবা ধর্মীয় ক্ষেত্রে যাবতীয় ষড়যন্ত্রের বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সোচ্চার, যুগ-জিজ্ঞাসার দলীল ভিত্তিক জবাবদানে সিদ্ধহস্ত, যার ব্যাঘ্র হুংকারে পর্যুদস্থ হয় বাতিলের প্রাসাদ, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, হরতাল, ধর্মঘট, খুন-রাহাজানি, ভাংচুর-লুটপাট, গুম-হত্যা-ধর্ষণ প্রভৃতির বিরুদ্ধে আদর্শিক স্বাতন্ত্র্যবোধে উজ্জীবিত এক আপোসহীন আদর্শের নাম ইসলাম। ইসলাম যাবতীয় জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থা ও মস্তিষ্ক প্রসূত যাবতীয় ভ্রান্ত মতবাদ চিরতরে উৎখাত করছে এবং যুবকরাই ইসলামের চির শাশ্বত ও চিরন্তন বিধান প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। অতএব ইসলাম ঐ সমস্ত হক্বপিয়াসী নিরপেক্ষ মানবতার পস্নাটফরম, যারা নিজের চিন্তা-চেতনা ও বুদ্ধিমত্তার উপরে কেবল অহি-র জ্ঞানকে বিনা শর্তে গ্রহণ করে, আল-কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত প্রত্যেকটি নির্দেশকে সানন্দে মাথা পেতে নেয়, সর্বক্ষেত্রে আখেরাতকে দুনিয়ার উপরে প্রাধান্য দেয়। মূলত আধুনিক জাহিলিয়াতের গাঢ় তমিস্রায় নিমজ্জিত মুসলিম মানবতাকে জাগ্রত করা ও বিলুপ্ত প্রায় ঈমানী চেতনাকে পুনরুদ্ধারে প্রত্যয়েই তরুন সমাজের আত্মপ্রকাশ হওয়া যরূরী। সমাজ সংস্কারে নিবেদিত হক্ব পিয়াসী তরুণ সমাজ সর্বদা দেশের আইন-শৃংখলা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে এবং সকল প্রকার নেতিবাচক আন্দোলনের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

পরিশেষে বলব, হে তরুণ ও যুবসমাজ! বিশ্ব আজ চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিভক্তির উৎকণ্ঠা, ধর্মীয় বাড়াবাড়ি, যান্ত্রিক সভ্যতা, আদর্শ ও চেতনাহীন কর্মতৎপরতার বাহুল্য এবং জঙ্গীবাদ ও চরমপন্থার রাহুগ্রাসে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব মানবতা। কোথায়ও এতটুকু শাস্তি নেই। নেই জীবন ও ধর্ম পালনের পূর্ণ নিশ্চয়তা। আছে শুধু উৎকণ্ঠা, ভয়-ভীতি আর নোংরা সাম্প্রদায়িকতার নগ্ন আক্রমণ। তাই জাতির এই ক্রান্তি লগ্নে একক তাওহীদী চেতনায় উদ্ভাসিত, আপোষহীন চেতনা সমৃদ্ধ, সত্য প্রকাশের অন্যতম পথিকৃত, বাতিলের বিরুদ্ধে আদর্শ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চেতনার উন্মেষ সাধন এবং শাস্তি ও নিরাপত্তার আলোকবর্তিকা সদৃশ ইসলামের শাশ্বত আদর্শ তোমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

এসো হে বিশ্বের যুব সম্প্রদায়! সত্যের পক্ষে জাগ্রত হও। মিথ্যাকে পদানত কর। হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকারকে অবদমিত কর। ন্যায় ও ইনছাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ন্যায়ানুগ পন্থায় জীবন বাজি রেখে সম্মুখ পানে অগ্রসর হও। তোমার সুচিস্তিত অভিমত জাতির সামনে পেশ কর। তোমার মাধ্যমেই আবির্ভাব ঘটবে মেঘমুক্ত আকাশে আলোকময় চন্দ্রের উজ্জ্বলতা। সংঘটিত হবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। প্রস্ফুটিত হবে ন্যায় ও সত্যে ভরপুর এক নতুন বিশ্বের।

অতএব হে তরুণ ও যুবকাফেলা! ন্যায়, সত্য, আদর্শ ও অস্থিত্ব রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপে অগ্রসর হও। বিশ্বের যুব সম্প্রদায় ও সকল শ্রেণীর মানুষের নিকট এটিই আমাদের চূড়ান্ত আহবান। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন-আমীন!!

Magazine