কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৬): আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এরবর্ণনাকরাবেশকিছুহাদীছপ্রত্যাখ্যানকরেছিলেন। এ কথাকিঠিক? এব্যাপারেবিস্তারিতজানতেচাই।

উত্তর: আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণনাকৃত কোনো হাদীছ প্রত্যাখ্যান করেননি। বরং তার সূত্রে বর্ণিত কিছু হাদীছের ব্যাপারে আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা ইস্তিদরাক করেছেন। ইস্তিদরাক অর্থ কোনো বিষয় বুঝতে ভুল হলে তা শুধরিয়ে দেওয়া। উদাহরণস্বরূপ, ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদীছে এসেছে, আবূ বকর বিন আব্দুর রহমান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-কে তার আলোচনায় বলতে শুনেছি যে, ‘জানাবাত (গোসল ফরয হওয়া) অবস্থায় কারো ভোর হলে তার ছিয়াম হবে না’। এরপর এ কথাটি আমি আব্দুর রহমান ইবনু হারিছ রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট বর্ণনা করলাম। কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। এরপর আব্দুর রহমান চললেন। আমিও তার সাথে সাথে চললাম। আমরা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা ও উম্মু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহা-এর নিকট গেলাম। এরপর আব্দুর রহমান তাদের উভয়কে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলেন। তারা বললেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহতিলাম (স্বপ্নদোষ) ব্যতীত জানাবাত অবস্থায় ভোর করতেন এবং ছিয়াম পালন করতেন। তারপর আমরা মারওয়ানের নিকট আসলাম এবং আব্দুর রহমান তার সাথে এ নিয়ে আলোচনা করলেন। এরপর মারওয়ান বললেন, আমি তোমাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলছি, তুমি আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট যাও এবং তার বক্তব্য তার সামনে উপস্থাপন করো। এরপর আমি আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট গেলাম। এ সময় আবূ বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু আব্দুর রহমানের সাথে ছিলেন। আব্দুর রহমান এ নিয়ে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর সঙ্গে আলোচনা করলেন। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমাকে তারা (আয়েশা এবং উম্মু সালামা রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়েই কি এ কথা বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যা, তারা উভয়েই এ কথা বলেছেন। তখন আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বস্তুত তারাই এ ব্যাপারে আমার চেয়ে অধিক অবগত। তারপর আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু তার এ কথাটিকে ফাজল ইবনু আব্বাসের প্রতি সম্পর্কিত করে বললেন, আমি এ কথাটি ফাজলের (ইবনু আব্বাস) থেকে শুনেছিলাম, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনিনি। রাবী বলেন, এরপর আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু এ বিষয়ে তার পূর্বের মত থেকে ফিরে আসেন (ছহীহ মুসলিম, হা/১১০৯)। এ হাদীছে আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর যে বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে, তার একাধিক ব্যাখ্যা মুহাদ্দিছগণ উল্লেখ করেছেন। অধিকতর উপযুক্ত ব্যাখ্যা হলো, ইমাম বায়হাক্বী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এই বিধানটি ইসলামের শুরুর যুগে ছিল, যখন রামাযান মাসের রাতে ঘুমিয়ে যাবার পর ঘুম থেকে উঠে সহবাস করা জায়েয ছিল না। পরবর্তীতে এই বিধান মানসূখ তথা রহিত হয়ে যায় (শারহু মুসলিম, ইমাম নববী, ৭/২২১)।

প্রশ্নকারী : আবু হুরায়রা সিফাত

মান্দা, নওগাঁ।

Magazine