উত্তর: আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছেন (আয-যারিয়াত, ৫১/৫৬)। ইবাদত বলা হয়, আল্লাহ তাআলার যাবতীয় নির্দেশ পালন করা এবং যাবতীয় নিষেধ মান্য করা। আল্লাহ তাআলা হালাল উপার্জনের নির্দেশ প্রদান করেছেন (আল-জুমুআহ, ৬২/১০)। তাই আল্লাহর এই নির্দেশ পালনের নিয়্যতে ব্যবসা করা বা চাকরি লাভের উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের ক্ষেত্রে এই নিয়্যত করতে হবে যে, এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অর্জন হবে, যা সুন্দরভাবে ইবাদত পালনে সহায়তা করবে। মুআয বিন জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, أحتسب نومتي كما أحتسب قومتي ‘আমি ঘুমের ক্ষেত্রেও ছওয়াব প্রত্যাশা করি যেমনিভাবে রাতের ছালাতের ক্ষেত্রে ছওয়াব প্রত্যাশা করি’ (ছহীহ বুখারী, হা/৪৩৪১)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি এশার ছালাত জামাআতের সাথে আদায় করল, সে যেন অর্ধরাত দাঁড়িয়ে (ক্বিয়ামুল লায়ল বা তাহাজ্জুদ) ছালাত আদায় করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের ছালাত জামাআতের সাথে আদায় করল, সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করল’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৬৫৬)। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, ‘মুমিনের ব্যাপার আশ্চর্যজনক। অবশ্যই তার সকল বিষয় তার জন্য কল্যাণময়। আর এটি মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য হতে পারে না। যদি তার কোনো আনন্দ আসে, তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণময়। আর যদি তার উপরে কোনো দুঃখজনক কিছু আপতিত হয়, তাহলে সে ছবর করে, সেটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’ (ছহীহ মুসলিম, হা/২৯৯৯)।
প্রশ্নকারী : কাওছার আহমেদ
টাউনহল, ময়মনসিংহ।
