উত্তর: একজন মুশরিককে ইসলামের দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে তাকে বুঝাতে হবে যে, মূর্তিপূজা শিরক। আর শিরকের ফলাফল জাহান্নাম। রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩)। এছাড়া দাওয়াতের ক্ষেত্রে কুরআনী পদ্ধতি অবলম্বন করা অধিক ফলপ্রসূ। কুরআনী পদ্ধতি হলো প্রথমে সৃষ্টিকর্তা বিষয়ে আলোচনা করা। কারণ এই বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত যে, সৃষ্টিকর্তা একজনই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি আপনি তাদেরকে (মুশরিকদের) জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও যমিন সৃষ্টি করেছে এবং কে সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছে? তাহলে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ’ (আল-আনকাবূত, ২৯/৬১)। এরপর বলা হবে, মুশরিকরা যাদের পূজা করে তাদের কেউ সৃষ্টিকর্তা নয়; বরং তারা সবাই একত্রিত হয়ে একটি মাছিও সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَن يَخْلُقُوا ذُبَابًا وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ ‘নিশ্চয় তোমরা (মুশরিকরা) আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক (পূজা করো), তারা কখনো একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না; যদিও এই কাজে তারা একতাবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করে’ (আল-হাজ্জ, ২২/৭৩)। সুতরাং যারা সৃষ্টি করতে পারে না তারা ইবাদতের যোগ্য নয়; বরং আল্লাহ তাআলাই ইবাদতের যোগ্য, কারণ তিনিই সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ তাআলা বলেন, أَفَمَن يَخْلُقُ كَمَن لَّا يَخْلُق أَفَلَا تَذَكَّرُونَ ‘যিনি সৃষ্টি করেন তিনি কি তাদের মতো, যারা সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?’ (আন-নাহল, ১৬/১৭)। এর পাশাপাশি কুরআনে বর্ণিত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে যে, তিনি কীভাবে মুশরিকদের দাওয়াত দিয়েছেন এবং শিরকের অসারতা প্রমাণ করেছেন।
প্রশ্নকারী : জোবায়ের আহমেদ
পিরিজপুর, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।
