ধূমপান একটি মরণব্যাধি। বর্তমানে এর কারণে ধূমপায়ী ব্যক্তিসহ আশেপাশের মানুষজন সাথে পরিবেশের ভারসাম্যও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু তা কীভাবে? এই নিবন্ধে সংক্ষেপে তা জানার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
ধূমপান করলে কী হবে?
‘যক্ষ্মা হবে এ পর্যন্তই’। ‘ক্যান্সার হবে আর কী?’ ‘আরে সকলের ক্যান্সার হয় না-কি!’ ‘কতজন তো ধূমপান করে!’ এ রকম আরো অনেক কথা আমরা প্রায় শুনতে পাই ধূমপায়ীদের কাছ থেকে। আমরা শুধু এটুকু জানি যে, ধূমপান করলে যক্ষ্মা, ক্যান্সার হয়। প্রকৃতপক্ষে কি ক্যান্সার পর্যন্তই শেষ? আসুন, এ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
‘ধূমপান’ শব্দটি ‘ধূম’ এবং ‘পান’ শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত। ধূম হলো ধোঁয়া বা বাষ্পের প্রতিশব্দ। যেহেতু তামাকজাতীয় পদার্থের ধোঁয়া গ্রহণ করা বা পান করা হয়, তাই একে ধোঁয়া পান বলা হয়।
ধূমপান হচ্ছে তামাকজাতীয় দ্রব্যাদির বিশেষ উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শ্বাসের সাথে তার ধোঁয়া শরীরে গ্রহণের প্রক্রিয়া। সাধারণ যে কোনো দ্রব্য পোড়ানো ধোঁয়া শ্বাসের সাথে প্রবেশ করলে তাকে ধূমপান বলা হলেও মূলত তামাকজাতীয় দ্রব্যাদি পোড়ানো ধোঁয়া গ্রহণকেই ধূমপান বলা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সিগারেটের ধূমপানে নিকোটিনসহ ৫৬টি বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ বিরাজমান।[1]
ধূমপানের প্রকারভেদ :
ধূমপান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা : (১) সক্রিয় ধূমপান (২) নিষ্ক্রিয় ধূমপান।
(১) সক্রিয় ধূমপান : ধূমপায়ী যে অবস্থায় জ্বলন্ত সিগারেট বা বিড়ি থেকে উদ্ভূত ধোঁয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে টেনে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করায়, তাকে সক্রিয় ধূমপান বলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে প্রতি বছর ৬ কোটি মানুষ মৃত্যুবরণ করে ধূমপানজনিত কারণে।[2] এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রতি বছর ধূমপানজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে ১ লক্ষ ৬১ হাজার ২৫৩ জন।[3]
এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে যদি জরুরী ব্যবস্থা গৃহীত না হয়, তবে আগামী কয়েক দশকে এর হার দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। সর্বশেষ পরিসংখ্যাণ (২৯ এপ্রিল, ২০২১) অনুযায়ী বিশ্বে করোনায় মোট মৃত্যু ৩১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫৫৪ জন।[4] এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেছে ১১২২৮ জন।[5] তাহলে এখানে একটু চিন্তা করুন যে, কোনটি বেশি মারাত্মক? ধূমপান নাকি করোনা? প্রশাসনের উচিত, করোনার বিধিনিষেধের চেয়ে আরো কঠোর নিয়ম ধূমপানের ক্ষেত্রে করা।
(২) নিষ্ক্রিয় ধূমপান : ধূমপানের সময় ধোঁয়ার যে অংশ চারপাশের পরিবেশে ছড়িয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানুষের দেহে নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করে, তাকে নিষ্ক্রিয় ধূমপান বলে। মানুষের মধ্যে অন্যের ধূমপানের (পরোক্ষ ধূমপান) প্রভাবে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ মারা যায়।[6] এর মধ্যে ১ লক্ষ ৬৫ হাজারই হলো শিশু।[7] শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নিউমোনিয়া ও এ্যাজমায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর দিকে ঝুঁকে পড়ে। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগও দেখা যায়। গবেষণায় এটিও বেরিয়ে এসেছে যে, পরোক্ষ ধূমপান পুরুষের তুলনায় নারীর উপর বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৮১ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করে। এর আগে ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে পরিচালিত এ জাতীয় আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল যে, পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হওয়ার ব্যক্তিদের ৪০% শিশু, ৩৩% অধূমপায়ী পুরুষ এবং ৩৫% অধূমপায়ী নারী রয়েছে।[8]
অর্থাৎ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে কেউ ধূমপান করলে তার আশপাশের ব্যক্তিদেরও নিশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। বিআরটিএ এবং বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে ঢাকা থেকে সারা দেশে প্রায় ৩০ হাজার আন্তঃজেলা বাস চলাচল করে। যার মধ্যে প্রচুর সংখ্যক যাত্রী থাকে, কমলাপুর রেল স্টেশনে একটি তাৎক্ষণিক সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, এই স্টেশন দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করে। একইভাবে রাজধানী ঢাকায় ১৬৮টি রুটে ৪৫০০টি পাবলিক বাস চলাচল করে, যার মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যায়।[9]
ফলস্বরূপ ধূমপায়ীদের দ্বারা প্রতিনিয়ত অসংখ্য অধূমপায়ী ব্যক্তি পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের স্বীকার হতে হচ্ছে। গ্যাটস সার্ভে ২০১৮ অনুযায়ী প্রায় ৪৪ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পাবলিক পরিবহনের চলাচলের ক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছে।[10] যদিও বাংলাদেশের আইনে পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ।
ধূমপানের ক্ষতিকর দিক :
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, ধূমপান যক্ষ্মা, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানা ধরনের মারাত্মক রোগের প্রধান কারণ। এর ক্ষতিকর কিছু দিক-
(১) ক্যান্সার উৎপাদনে ধূমপানের প্রভাব : সিগারেটের ধোঁয়ায় ক্যান্সার সৃষ্টিকারী মিউটাজেন থাকে। এরা মানুষের মুখ, শ্বাসনালী, গ্রাসনালী এবং ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টি করে।
(২) ব্রংকাইটিস : ধূমপান থেকে শ্বাসনালীতে প্রদাহ এবং কাশির সৃষ্টি হয়, একে ব্রংকাইটিস বলে। এতে শ্বাসনালী ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়। হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি হয়, ফুসফুস অনেকাংশে নিষ্ক্রিয় হয়।
(৩) এমফাইসিমা : ধূমপানের ফলে শ্বাসনালীগুলোর বায়ূপথসমূহ সরু হয় এবং ফুসফুসে অতি স্ফীত দেখা দেয়। এতে এমফাইসিমা বলে। এর ফলে ফুসফুসে জটিল পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।
(৪) উদগারি কাশি : ধূমপানের জন্য অনেকের প্রচণ্ড কাশি এবং কাশির সাথে ফুসফুস থেকে মিউকাশ বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, একে উদগারি কাশি বলে।[11]
(৫) সন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ : জার্মানীর সারলান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ধূমপায়ীদের বীর্যকোষের জিনমের মেমব্রেনে পরিবর্তন প্রমাণ করতে পেরেছেন। অর্থাৎ যে পুরুষ সন্তানের পিতা হতে চান, তাকে ধূমপান এড়িয়ে চলা উচিত। বায়োক্যামিস্টিক অধ্যাপক মাটিয়াস মন্টেনার বলেন, সিগারেটের ধোঁয়ায় এমন পদার্থ থাকে, যা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জিনম পরিবর্তন করে, ফলে তা আর ডিম্বাণুকে নিসিক্ত করতে পারে না। তাছাড়া বীর্যের আকার, ডিম্বাণু পর্যন্ত পৌঁছানোর গতি বদলে দেয়। ফলে স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। এ কারণে অনেক ধূমপায়ী সন্তানের জন্ম দিতে পারে না।[12]
ধূমপানের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
আল্লাহ তাআলা বলেন,وَأَنْفِقُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ وَأَحْسِنُوا إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ ‘আর তোমরা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো এবং নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না। আর সৎ কর্ম করো। নিশ্চয় আল্লাহ সৎ কর্মশীলদের ভালোবাসেন’ (আল-বাক্বারা, ২/১৯৫)।
ধূমপানের ক্ষতিকর দিক এবং ধূমপানের মাধ্যমে নিজেকে ক্ষতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়, যা আল্লাহ নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘প্রত্যেক নেশাদার বস্তু হারাম’।[13] ইবনু উমার রযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, সকল প্রকারের নেশা সৃষ্টিকারী দ্রব্যই হারাম।[14] হাদীছ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, যেটা বেশি গ্রহণ করলে নেশা হয়, সেটার অল্প গ্রহণ করাও হারাম।
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আখেরাতে বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়’।[15] যে মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম ধূমপান। এছাড়াও ধূমপান ক্ষুধা নিবারণ করে না বা উপকারও করে না। সুতরাং এটি একটি অপচয়। আর এই অপচয়ের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন,إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا ‘নিশ্চয় অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ’ (বনী ইসরাঈল, ১৭/২৭)।
ধূমপান ত্যাগ করার উপায় :
ধূমপান থেকে মুক্তির কয়েকটি উপায় নিম্নে আলোচনা করা হলো :
(১) আজ থেকেই ধূমপান ছাড়ার প্রতিজ্ঞা করুন। কেউ যদি সত্যি ধূমপান থেকে নিবৃত হতে চায়, তাহলে হৃদয়ে এই বিশ্বাস আনা জরুরী যে, ইসলামে ধূমপান হারাম। আর কেউ যদি জেনে-বুঝে হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে সে যেন নিজেকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে ঠেলে দেয়। সাথে এটাও বিশ্বাস করতে হবে যে, ইসলাম যা কিছু নিষিদ্ধ করেছে, তাতে অবশ্যই মানুষের ক্ষতি রয়েছে।
(২) ধূমপান হারাম— এ বিশ্বাস পোষণের পর যা করণীয়, তা হলো- একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখেরাতে প্রতিদান পাওয়ার উদ্দেশ্যে তা সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করার জন্য মনের মধ্যে সুদৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। কারণ সুদৃঢ় সিদ্ধান্তের কাছে আল্লাহর ইচ্ছায় প্রবৃত্তির হাতছানি ও শয়তানের কূটকৌশল পরাভূত হতে বাধ্য।
(৩) এ পথ থেকে ফিরে আসার জন্য মহান রবের কাছে আন্তরিকভাবে দু‘আ করা। কারণ আল্লাহ মানুষের অন্তরের নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি যদি মনকে হারাম থেকে ঘুরিয়ে দেন, তাহলে তা আর সেদিকে মোড় নিবে না।
(৪) প্রচুর পরিমাণে যিকির-আযকারের মাধ্যমে জিহ্বাকে সতেজ রাখা। কারণ যিকির দ্বারা অন্তরের প্রশান্তি অর্জিত হয়। আল্লাহ বলেন,الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখো আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়’ (আর-রা‘দ, ১৩/২৮)। সুতরাং যারা হতাশা, অস্থিরতা, ব্যর্থতা ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য ধূমপান করে মনে শান্তি খোঁজেন, তাদের উচিত- এসব হারাম থেকে তওবা করা এবং আল্লাহর যিকিরের প্রতি মনোযোগী হওয়া। তাহলে তারা নিশ্চিতভাবেই অন্তরে অনাবিল শান্তি লাভ করবে।
(৫) ধূমপান করে এমন বন্ধুর সঙ্গ এড়িয়ে চলুন। ভালো বন্ধুর সাথে মেশার চেষ্টা করুন। প্রবাদে আছে— ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’ অথবা ‘সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে’। সুতরা ভালো বন্ধুর সাথে চলার চেষ্টা করুন।
(৬) মনের মধ্যে ধূমপান করার ইচ্ছা জাগ্রত হলেই আঊযুবিল্লাহি মিনাশ শায়ত্বনির রজীম পাঠ করুন।
(৭) ধূমপানের ক্ষতিকর দিকগুলো স্মরণ করুন। (যেগুলো প্রথম দিকে উল্লেখ করা হয়েছে)
(৮) যারা ধূমপান ত্যাগ করেছে, তাদের পরামর্শ নিন।
(৯) অনেকে পত্রিকা বা বই পড়ার সময় সিগারেট পান করে, এক্ষেত্রে সিগারেটের জায়গায় চা বা কফি আনুন।
(১০) মটিভেশনাল ভিডিও অথবা ভালো বই পড়ুন।
আমাদের আহ্বান : সমাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ম করে আপনি, আমি বা আমরা পরোক্ষভাবে ধূমপানের বিপক্ষে অর্থাৎ ধূমপানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধসহ প্রতিকার করতে পারি। যা শুরু হতে পারে সমাজ, পাড়া, মহল্লা, থানা, উপজেলা, জেলা বিভাগ ক্রমানুসারে দেশ পর্যায়ে। যারা প্রশাসনে আছেন, সবার আগে তাদের ধূমপান বন্ধ করার জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে বিজ্ঞাপন, আর্টিকেলসহ এর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জনগণের কাছে প্রচার করতে হবে। মসজিদের খত্বীব, বক্তা, আলোচকগণ খুৎবা, মাহফিল বা বিভিন্ন আলোচনা সভাতে ধূমপানের কুফল সম্পর্কে প্রচার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। বিশেষ করে সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠিন করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। বাস-ট্রাক, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় মোবাইল কোর্ট বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভুক্তভোগী খুব সহজেই অভিযোগ করতে পারে।
পরিশেষে আমরা আল্লাহর কাছে দু‘আ করি, আল্লাহ যেন আমাদের ধূমপানসহ যাবতীয় নেশাদার দ্রব্য থেকে হেফাযত করেন- আমীন!
আবূ রায়হান বিন জাহিদুল ইসলাম
ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, আর.পি.আই।