এক পরিবারে চারজন সদস্য ছিল। পিতা-মাতা ও দুই ছেলে। মায়ের আশা দু’ছেলেকেই মাদরাসায় পড়াবেন। কিন্তু বাবা তাদের মাদরাসায় পড়াতে চান না। তাই স্বামী-স্ত্রী ঠিক করলেন, একজনকে মাদরাসায় পড়াবেন আর অপরজনকে জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। তারা বললেন, তোমাদের মধ্যে কে মাদরাসায় পড়বে? বড় ছেলে বলল, আমি মাদরাসায় পড়ব না। মা তার ছোট ছেলেকে বললেন, সোনামণি! আমি তোমাকে মাদরাসায় পড়াতে চাই, তোমার মত কী? ছেলে বলল, মা আমি তোমার প্রস্তাবে রাযী। একথা শুনে তার মা তার উপর খুব খুশি হলেন এবং তাকে মাদরাসায় ভর্তি করে দিলেন। পিতা তার বড় ছেলেকে নিয়ে পৃথক হয়ে গেলেন। এভাবেই অনেক বছর চলে গেল। লেখাপড়া শেষে কর্মজীবনে ছোট ছেলে তার মা এবং পরিবার নিয়ে অনেক সুখে জীবন যাপন করতে থাকে। বড় ছেলে আধুনিক শিক্ষা পেয়ে আধুনিক মেয়েকে বিয়ে করেছে। তার মাঝে ইসলামী জ্ঞান নেই। তাই সে স্ত্রীর কথাতে বাবাকে বাড়ী হতে বের করে দিয়েছে। একথা শুনতে পেয়ে ছোট ছেলে খুব কষ্ট পেল। ছুটে গেল বাবার কাছে। বাবা তার ছোট ছেলেকে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললেন আর বললেন, হায়! আমি যদি বড় ছেলেকেও মাদরাসায় পড়াতাম এবং ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করতাম, তাহলে আমাকে এ দুর্ভোগ ভোগ করতে হত না।
শিক্ষা :
(১) প্রকৃত ইসলামী শিক্ষায় সন্তানকে শিক্ষিত করা পিতা-মাতার কর্তব্য।
(২) ছোট থেকেই সন্তানকে পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে গড়ে তুলতে হবে।
যাকিরুল ইসলাম
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
