সুধী পাঠক! একজন সাধারণ মুসলিম মাত্র এই বিষয়টি জানার কথা যে, শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় অপরাধ। আমরা যে তাওহীদে বিশ্বাস করি, এর বিপরীত হলো শিরক। তাওহীদ হলো আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করা, একমাত্র আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা; পক্ষান্তরে শিরক হলো আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করা। কোনো মুসলিমের অন্তরে তাওহীদ ও শিরকের বিশ্বাস একসাথে থাকতে পারে না। একজন মানুষ সত্যিকারার্থে তাওহীদে বিশ্বাসী হলে সে কখনো শিরকী বিশ্বাস ও কাজকর্মের প্রতি নমনীয়তা ও মুগ্ধতা প্রকাশ করতে পারে না।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে নিজেকে তাওহীদে বিশ্বাসী দাবি করে এমন অনেক নামধারী মুসলিম শিরকী উৎসব অথবা মূর্তিপূজা উপলক্ষ্যে মুশরিকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব যে একদিকে তারা বিশ্বাস করে আল্লাহ এক, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অপরদিকে তারা বহু ইলাহের পূজারিদের শিরকী আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে তাদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করছে, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে যাচ্ছে? তারা নিজেদের নেতাকর্মীদের মুশরিকদের শিরকী উৎসবে সাহায্য-সহযোগিতা করার নির্দেশ দিচ্ছে, তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে পূজামণ্ডপে উপস্থিত হচ্ছে, নাঊযুবিল্লাহ! কোথায় তাদের ঈমানের গায়রত? কেমন তাদের তাওহীদের বিশ্বাস? তারা কি কখনো তাদের মা-বাবার প্রতি অসম্মানকারীদের শুভেচ্ছা জানাবে? কেউ কি তাদের মা-বোনদের সম্মান লঙ্ঘন করলে তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে? তাহলে তারা কীভাবে মহান রাব্বুল আলামীনের সাথে অংশীদার সাব্যস্তকারীদের প্রতি শুভেচ্ছা জানায়?
শুনুন! হাজারো খুন-ধর্ষণের চেয়েও বড় অপরাধ যেই শিরক, সেই ভরপুর শিরকের আয়োজনে একজন মুসলিম কীভাবে শুভেচ্ছা জানাতে পারে? বস্তুত, এদের অন্তরে যদি আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও আযমতের অনুভূতি থাকত, সত্যিকার অর্থে যদি তারা তাওহীদের বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করত; তাহলে কিছুতেই তারা শিরকী উৎসবের প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে পারত না এবং মুশরিকদের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হতো না। মুশরিকদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও মুগ্ধতা দেখে রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই কথা স্মরণ হয়,لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَلْحَقَ حَيٌّ مِنْ أُمَّتِي بِالْمُشْرِكِينَ، وَحَتَّى تَعْبُدَ فِئَامٌ مِنْ أُمَّتِي الْأَوْثَانَ ‘আমার উম্মতের কিছু সংখ্যক লোক মুশরিকদের সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আমার উম্মতের কিছু গোত্র মূর্তিপূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না’।[1]
আমার প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন! আগে আমরা দেখতাম সেক্যুলার রাজনৈতিক দলের নেতারা এমন ঈমান বিধ্বংসী কাজ করত, কারণ তাদের কাছে ঈমান ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কোনো গুরুত্ব নেই; কিন্তু এখন ইসলামের নামে রাজনীতি করা গণতান্ত্রিক দলের নেতাকর্মীরাও শিরকী উৎসব উপলক্ষ্যে মুশরিকদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন’ (আন-নিসা, ৪/৪৮)। আর পবিত্র কুরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ ‘নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য জান্নাত হারাম, তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর যালেমদের কোনো সাহায্যকারী নেই’ (আল-মায়েদা, ৫/৭২)।
শিরক হলো সবচেয়ে বড় যুলম। পবিত্র কুরআনে লুক্বমান হাকীমের উপদেশ উল্লেখ করে শুরুতেই বলা হয়েছে, يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ ‘হে আমার বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক করো না; নিশ্চয়ই শিরক বড় যুলম’ (লুক্বমান, ৩১/১৩)। শিরক সমস্ত আমলকে বিনষ্ট করে দেয়। নবীদের দ্বারা শিরক সংঘটন হওয়া সম্ভবই নয়, তবুও আল্লাহ তাআলা বান্দাদের সতর্ক করার জন্য নবীদের কাছ থেকে উদাহরণ তুলে বলেছেন, যদি তারা শিরক করত; তাহলে তাদের সব কৃতকর্ম বিনষ্ট হয়ে যেত। এমনকি নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ বলেন,وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ‘আপনার প্রতি ও আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আপনি আল্লাহর শরীক স্থির করেন; তবে আপনার কর্ম নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন’ (আয-যুমার, ৩৯/৬৫)।
আমাদের নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরকের ভয়াবহতা ও পরিণাম বহু হাদীছে উল্লেখ করে উম্মতকে সতর্ক করেছেন।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ أَتَى النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا الْمُوجِبَتَانِ فَقَالَ مَنْ مَاتَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ وَمَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ.
জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! অবধারণকারী দুটি বিষয় কী কী? রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে যাবে’।[2] এভাবে দুনিয়াতে যত নবী-রাসূল আগমন করেছেন, প্রত্যেকে তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন এবং কুফর-শিরক থেকে মানুষকে বিরত থাকতে বলেছেন।
কুরআনুল কারীমে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর দু‘আ বর্ণিত হয়েছে, رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানসন্ততির মধ্য থেকে আমাদের জন্য চোখজুড়ানো (নেককার) সাথী দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাক্বীদের জন্য অনুসরণযোগ্য আদর্শস্বরূপ করুন’ (আল-ফুরক্বান, ২৫/৭৪)। আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীদের আদর্শের প্রশংসা করে আল্লাহ বলেন,قَدْ كَانَتْ لَكُمْ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ فِىٓ إِبْرَٲهِيمَ وَٱلَّذِينَ مَعَهُ ‘ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (আল-মুমতাহিনাহ, ৬০/৪)। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর এই বিশেষ মর্যাদার কারণ হলো শিরকের বিরুদ্ধে তার বলিষ্ঠ অবদান। যখন তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের ইবাদত কর, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের প্রত্যাখ্যান করছি। আমাদের আর তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ শুরু হয়ে গেছে, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।
আজকের প্রেক্ষাপটে এটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, ইবরাহীমী আদর্শ চায় শিরকের সাথে স্পষ্ট বিচ্ছেদ, তাওহীদে অটল থাকা এবং শিরক ও মুশরিকদের প্রতি কোনো প্রীতিভাব না রাখা। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, বর্তমানে অনেক আলেম ও ফুক্বাহায়ে কেরাম ফতওয়া দিয়েছেন যে, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানানো হারাম এবং মারাত্মক গুনাহ। এমনকি অনেকের মতে, এটা ঈমান বিনষ্টকারী কাজ। ইবনু আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, مَنْ رَضِيَ بِالشِّرْكِ فَهُوَ مُشْرِكٌ ‘যে শিরকের প্রতি সন্তুষ্ট হয়, সেও মুশরিক’।[3] ইবনু তায়মিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, কোনো মুসলিমের জন্য কাফেরদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা জানানো জায়েয নয়। কারণ শুভেচ্ছা জানানো মানে তাদের কুফরীকে ও তাদের শিরককে সমর্থন করা’।[4] একইভাবে মুসলিমদের জন্য কাফের-মুশরিকদের উৎসবে যোগদান করা, তাদেরকে শিরকী কাজে যেকোনোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং মূর্তি ও প্রতিমার নামে উৎসর্গকৃত কোনো খাবার গ্রহণ করা বৈধ নয়। উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তোমরা মুশরিকদের উৎসবের দিন তাদের উপাসনালয়ে প্রবেশ করো না। কেননা তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হয়।[5]
আল্লাহ তাআলা বলেছেন,وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ‘সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (আল-মায়েদা, ৫/২)। সুতরাং প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোন! আপনি যদি সত্যিকার অর্থে لا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ কালেমায় বিশ্বাসী হন; তাহলে যাবতীয় শিরকী কার্যক্রম থেকে নিজেকে বাঁচান, শিরকী কাজে সহযোগিতা করা বন্ধ করুন, শিরকী উৎসবে মুশরিকদের শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকুন, শিরকী উৎসবের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করা এবং শিরককারীদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা থেকে দূরে থাকুন। মুশরিকদের সাথে এবং তারা যা কিছুর পূজা করে—এসবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করুন। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তার সঙ্গীদের মতো দীপ্ত ঘোষণায় কণ্ঠ মিলান,إِنَّا بُرَآءُ مِنْكُمْ وَمِمَّا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ كَفَرْنَا بِكُمْ وَبَدَا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةُ وَالْبَغْضَاءُ أَبَدًا حَتَّى تُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَحْدَهُ ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা কর তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি এবং আমাদের ও তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য উদ্রেক হলো, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো’ (আল-মুমতাহিনাহ, ৬০/৪)।
এটাই আমাদের দাবি এবং এটাই আমাদের ঈমানের সুরক্ষা। কোনো রাজনৈতিক সুবিধা, কোনো ভোট, কোনো পশ্চিমাদের স্বার্থ রক্ষা কখনোই তাওহীদের সাথে আপসের অজুহাত হতে পারে না। মুশরিকদের শিরক উৎসবে শরীক হওয়া, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো কিংবা তাদের শিরককে সমর্থন করা—সবই অনুত্তম ও বিপজ্জনক এবং এক ধরনের আত্মঘাতী কাজ। এগুলো ইসলাম ও তাওহীদের বিরুদ্ধে গৃহীত এক বিকৃত অনুশাসন।
পরিশেষে বলতে চাই, শিরক এমন মহাপাপ যার প্রশ্রয় আমাদের ইসলামী পরিচয়কে থেকে মুছে দেয়। শিরকের বিরুদ্ধে প্রতিটি মুসলিমকে কণ্ঠে-ভঙ্গিতে, কাজে-আচরণে লড়াই করতে হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দান করুন, আমাদেরকে তাওহীদে দৃঢ় রাখুন এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে আমাদের রক্ষা করুন- আমীন!
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنْ أَهْلِ التَّوْحِيدِ، وَنَجِّنَا مِنَ الشِّرْكِ وَمِنْ أَهْلِهِ. آمِين
আবু সাঈদ সারোয়ার
অধ্যয়নরত, কুল্লিয়্যাহ ১ম বর্ষ, আল-জামি‘আহ আস-সালাফিয়্যাহ, ডাঙ্গীপাড়া, পবা, রাজশাহী।
[1]. মাজমূ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়েল ইবনু উছায়মীন, ৯/৪৭৭।
[2]. ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩।
[3]. তাফসীরে কুরতুবী, ৮/৯৪।
[4]. বিস্তারিত দেখুন: ‘ইকতিযাউস ছিরাতিল মুস্তাক্বীম’ গ্রন্থ।
[5]. আস-সুনানুল কুবরা, হা/১৮৮৬১, সনদ ছহীহ।
