উত্তর: নাস্তিকরা ইসলামের শত্রু। তারা অন্যান্য ধর্মের আপত্তিযোগ্য বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করে, অথচ ইসলামের মধ্যে আপ্রাণ চেষ্টা করেও কোনো ত্রুটির দেখা না পেয়ে উন্মাদের মতো আচরণ করে। উক্ত প্রশ্নের বিবরণ তাদের এই উন্মাদ আচরণের তালিকায় আরেকটি সংযোজন মাত্র। সূরা তালাকের ৪ নম্বর আয়াতে যা আছে তা হলো, আল্লাহ বলেন,وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا ‘তোমাদের যে সকল স্ত্রীর আর ঋতুমতী হওয়ার আশা নেই, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি দ্বিধাগ্রস্ত হও, তাহলে (জেনে নাও) তাদের ইদ্দত হলো তিন মাস এবং যারা এখনও ঋতুমতী হয়নি, তাদেরও (ইদ্দত তিন মাস)। আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। আল্লাহকে যে ভয় করে তার যাবতীয় বিষয় আল্লাহ সহজ করে দেন’। এই আয়াতের একটি অংশে বলা হয়েছে, যারা এখনও ঋতুমতী হয়নি তাদের যদি বিয়ের পর তালাক হয়ে যায়, তাহলে তাদের ইদ্দত পালন করতে হবে তিন মাস। ইসলামী শরীআতে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ঋতুমতী হওয়া জরুরী নয়, বরং অপ্রাপ্তবয়স্ক নারী হলেও তার সাথে বিবাহের আকদ জায়েয। কিন্তু আকদ জায়েয হওয়া মানেই সহবাস জায়েয হওয়া নয়। সহবাস জায়েয হওয়ার জন্য সেই নারীকে সহবাসযোগ্য হতে হবে। আর এটা বয়সের মানদণ্ডে নির্ধারিত হয় না। কেউ অল্প বয়সে সহবাসযোগ্য হয়ে যায়, আবার কেউ বয়সে বেশ বড় হওয়া সত্ত্বেও সহবাসযোগ্য হয় না। আর একারণেই সহবাসযোগ্য নয় এমন স্ত্রীকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানোর ক্ষেত্রে ইসলাম আবশ্যকতা রাখেনি (আল-মুগনী, ৭/২৫৯)। ইসলামের এই ইনছাফপূর্ণ বিধানের সৌন্দর্য নাস্তিকদের পাপী মস্তিষ্ক ধারণ করতে সক্ষম হয় না। তাই তারা নেতিবাচকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে যে, ইসলাম মেয়ে শিশুদের সাথে শারীরিক সম্পর্ককে বৈধ করেছে। অথচ ইসলাম নিঃশর্তভাবে এটা করেনি। বরং যৌক্তিক ও ইনছাফপূর্ণ শর্তাবলি আরোপ করার মাধ্যমে এই বিধানকে সুশৃঙ্খল ও উপযোগী করেছে। এই বিধানের সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য হেদায়াতের নূর প্রয়োজন, যা নাস্তিকদের মধ্যে অনুপস্থিত।
প্রশ্নকারী : রায়হান, বি-বাড়িয়া।
