কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার এক অনন্য বার্তা

প্রশ্ন (৪৭): অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করে না। এই ঋণখেলাপীদের ব্যাপারে ইসলামে কী বলা আছে?

উত্তর: বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হলো ঋণখেলাপি, যা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ঋণখেলাপির এই বিপুল পরিমাণ টাকা যদি সঠিকভাবে আদায় করা যেত, তাহলে দেশের চলমান সংকট হয়তো অনেকাংশে নিরসন করা সম্ভব হতো। এক শ্রেণির অসাধু মানুষ ঋণখেলাপিকে সফলতার জাদুর কাঠি ভাবে। প্রভাব খাটিয়ে ঋণ এড়ানোকে নিজের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ মনে করে। অথচ খেলাপির উদ্দেশ্যে নেওয়া এই ঋণ তার দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। অর্থাৎ খেলাপির উদ্দেশ্যে ঋণ নেওয়ার অর্থই হলো, ইহকাল-পরকাল ধ্বংস করার দ্বার উন্মুক্ত করা। কারণ ঋণখেলাপী যতক্ষণ তার ঋণ পরিশোধ না করবে, ততক্ষণ অন্য কোনো ইবাদত দিয়ে সে পরকালীন মুক্তি পাবে না। আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ঋণ ছাড়া শহীদের সব গুনাহই ক্ষমা করে দেওয়া হবে’ (ছহীহ মুসলিম, হা/১৮৮৬)। অথচ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ ব্যক্তির পুরস্কার হলো জান্নাত তথা যাবতীয় পাপ থেকে মুক্তি। কিন্তু এত বড় পুণ্যের কাজ করেও ঋণ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ নেই। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার ঋণ পরিশোধ করা ছাড়া এক ধাপও নড়তে পারবে না। সেদিন তার কাছে ঋণ পরিশোধ করার জন্য টাকা-পয়সা, দীনার-দিরহাম কিছুই থাকবে না। সেদিন তাকে তার নেক আমল দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যদি নেক আমল না থাকে, তাহলে পাওনাদারের পাপের বোঝা নিজের মাথায় নিতে হবে (ছহীহ বুখারী, হা/২৪৪৯)। নবীজি ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাযায় পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতেন না। আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন কোনো ঋণী ব্যক্তির জানাযা উপস্থিত করা হতো, তখন তিনি জিজ্ঞেস করতেন, ‘সে তার ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ রেখে গেছে কি?’ যদি তাঁকে বলা হতো যে, সে তার ঋণ পরিশোধের মতো সম্পদ রেখে গেছে, তখন তিনি তার জানাযার ছালাত আদায় করতেন। নতুবা বলতেন, ‘তোমাদের সাথীর জানাযা আদায় করে নাও’। পরবর্তী সময়ে যখন আল্লাহ তাঁর বিজয়ের দ্বার উন্মুক্ত করে দেন, তখন তিনি বললেন, ‘আমি মুমিনদের জন্য তাদের নিজের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী। তাই কোনো মুমিন ঋণ রেখে মারা গেলে সে ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, সে সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য’ (ছহীহ বুখারী, হা/২২৯৮)। আরেক হাদীছে এসেছে, আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, মহানবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ (ধার) নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তাআলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার নিয়্যতে, আল্লাহ তাআলা তাকে ধ্বংস করেন’ (ছহীহ বুখারী, হা/২৩৮৭)। আল্লাহ তাআলা ঋণখেলাপীদের হেদায়াত দান করুন এবং ঋণখেলাপি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করে দেশের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখুন- আমীন!

প্রশ্নকারী :  মুমতাহিন

বংশাল, ঢাকা।


সাওয়াল জওয়াব

প্রশ্ন (১): কাদারিয়া ও মু‘তাযিলা কারা? তাদের আক্বীদা জানতে চাই।

প্রশ্ন (২): রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী হওয়ার পূর্বে কোন ধর্ম মানতেন বা কী ইবাদত করতেন? কীভাবে করতেন? তাঁর কাছে তো তখনও কোনো অহী করা হয়নি।

প্রশ্ন (৩): মুহাম্মাদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুঅত পাওয়ার আগে কত দিন হেরা গুহায় ধ্যান করেছিলেন এবং কী নিয়ে ধ্যান করেছিলেন অর্থাৎ তিনি সেখানে মূলত কী করতেন?

প্রশ্ন (৪): মুসলিম দেশে হিন্দুরা বড় মূর্তি তৈরি করলে মুসলিমরা বাধা দিতে পারবে কি? এমন অবস্থায় মুসলিমদের কী করা উচিত? যেমন- পশালবাড়ির রামমূর্তি।

প্রশ্ন (৫): দু‘আর মাধ্যমে তাকদীর পরিবর্তন হয়। যা মানব সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর পূর্বে লেখা ছিল, তা কি পরিবর্তন হয়? নাকি সেটাও পূর্বনির্ধারিত?

প্রশ্ন (৬): অনেকে বলে, শহীদের মৃত্যু নেই। বাস্তবে তো সকলেই মারা যায়। তাহলে এভাবে বলা যাবে কি?

প্রশ্ন (৭): মানুষের মনে বারবার অতীতের পাপ বা বিভিন্ন কথা স্মরণে আসা কি শয়তানের পক্ষ থেকে হয়? শয়তান কি মানুষের অতীত সম্পর্কে জানে এবং এভাবে কুমন্ত্রণা দিতে পারে?

প্রশ্ন (১৬): মুযারাবা ও মুরাবাহা পদ্ধতিতে ব্যবসা কীভাবে হয়? এগুলো কি শরীআতসম্মত?

প্রশ্ন (১৭): একজন পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসকের জন্য গাইনি বিভাগে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রসূতি নারীর যোনিপথ পরীক্ষা করে নরমাল ডেলিভারি শেখা কি শরীআতসম্মত? বিশেষত যখন মহিলা ডাক্তার উপস্থিত না থাকেন এবং রোগীকে অন্যত্র রেফার করার সুযোগও না থাকে, তবে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে এ দক্ষতা অর্জন করা জরুরি।

প্রশ্ন (১৮): মজা করে কোনো বন্ধু বা কাউকে শালা বলা যাবে কি? অনুরূপভাবে বলদ, গরু, ছুঁচো, পাগল এসব বলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৯): আমি একজন সরকারি কর্মচারী। আমার জন্য জিপিএফ এর মুনাফা নেওয়া কি বৈধ হবে?

প্রশ্ন (২০): আমি নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনা করছি এবং বিবাহিত। পড়াশোনা শেষে স্ত্রীকে আমার সাথে রাখতে চাই। প্রথমে আর্থিকভাবে কিছুটা চাপ থাকবে, তাই আমার স্ত্রী টুকটাক সীমিত পর্যায়ে চাকরি করতে চাচ্ছে। তিনি পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে (হিজাব, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করে) কাজ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (২১): ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে চাকরি করা কি জায়েয হবে? এই পদের কাজ হলো জনগণের সেবামূলক কিছু কাজ করা। কিন্তু এর মধ্যে একটি কাজ হলো সূদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণের টাকা উঠানো। (বি. দ্র. যদিও সূদমুক্ত বলা হয়, তবে ৫% সার্ভিস চার্জ বা সেবা মাশুল যুক্ত আছে)।

প্রশ্ন (২২): মা‘ছূমা নাম রাখা যাবে কি? জায়েয না হলে এবং নাম রেখে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (২৫): স্মৃতি হিসেবে মৃত ব্যক্তির কোনো ছবি বা ভিডিও মোবাইলে রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (২৬): বাসায় সৌন্দর্যের জন্য ক্যালিগ্রাফি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (২৭): আমার বড় ভাই করোনার সময়ে মারা যান। তার একটি ব্যবসা ছিল, যা বর্তমানে আমি ও আমার দুই ভাই মিলে পরিচালনা করছি। পরিবারে আমার মা-বাবা, দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং আমার বড় ভাইয়ের স্ত্রীসহ দুই মেয়ে একসঙ্গে একই বাসায় থাকি। ব্যবসার আয় থেকেই পরিবারের সব খরচ চালানো হয়। শরীআতের দৃষ্টিতে এভাবে মৃত বড় ভাইয়ের ব্যবসার আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো এবং একসঙ্গে বসবাস করা কতটুকু বৈধ?

প্রশ্ন (২৮): ইন্টারনেটে বিভিন্ন নবী-রাসূলগণের অ্যানিমেশন ভিডিও এবং ইসলামিক কার্টুন পাওয়া যায়। এ সকল ভিডিও দেখা জায়েয হবে কি, যদি শিক্ষণীয় বিষয় থাকে?

প্রশ্ন (২৯): তাওরাত, যাবূর, ইনজীল কি জ্ঞানচর্চার জন্য পড়া যাবে?

প্রশ্ন (৩০): কেউ যদি প্রতিনিয়ত আমাদের সম্পদ আত্মসাৎ করতে চায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে জায়গা দখল নিতে দেয় না, সে ক্ষেত্রে তাকে কী শাস্তি দেওয়া যায়? তার পা কিংবা হাত ভেঙে চেয়ারে বসিয়ে দিলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (৩৯): ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি আমি রাগের মাথায় স্ত্রীকে এক তালাক দিই এবং কয়েক মিনিট পর রুজূ করে সংসার শুরু করি। পরে ২৫ মার্চ ও ২৬ মার্চ ফোনে আরও দুইবার তালাক দিই। তখন আমি ধারণা করেছিলাম, স্ত্রী গর্ভবতী ছিলেন এবং হায়েয অবস্থায় ছিলেন; কিন্তু পরে তিনি জানান, ১৫ মার্চ গর্ভপাত হয়ে গিয়েছিল এবং ২৫ ও ২৬ মার্চ তিনি হায়েয অবস্থায়ও ছিলেন না। এ অবস্থায় আমার দেওয়া তিন তালাকের শারঈ হুকুম কী? আমার স্ত্রী কি এখনও আমার জন্য হালাল আছেন, নাকি তিন তালাক সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে গেছে?

প্রশ্ন (৪০): বর্তমানে অনেক নাস্তিক বলে, সূরা তালাক এর ৪ নম্বর আয়াতে আছে, ইসলামে শিশু বাচ্চাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করা জায়েয। এটা কি ঠিক?

প্রশ্ন (৪১): আমি বাবা-মা ও বিবাহিত বড় বোনকে সরাসরি ছালাত বা ইবাদতের কথা বলি না, শুধু তাদের হেদায়াতের জন্য দু‘আ করি। এ অবস্থায় তারা যদি ইবাদত না করে, তবে তাদের প্রতি দাওয়াত না দেওয়ার কারণে আমার কোনো গুনাহ হবে কি? আর আমি নিজে আল্লাহর হুকুম মেনে চললে কি একাই জান্নাতে যেতে পারব?

প্রশ্ন (৪৩): মুছান্নাফে ইবনু আবী শায়বাতে বর্ণিত আছে যে, আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা নাকি নু‘মান ইবনু বাশীর রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর জানাযা মসজিদে পড়িয়েছেন! এটা কতটুকু সত্য? এর সনদ ও ব্যাখ্যা কী?

প্রশ্ন (৪৪): কুরআনের সূরা আল-বাকারা, ২/২৫৬-এ বলা হয়েছে, ‘ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই’।তাহলে ইসলামী ফিকহে ধর্মত্যাগ (রিদ্দাহ) সম্পর্কে যে শাস্তির আলোচনা পাওয়া যায়, সেটি এই আয়াতের সাথে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

প্রশ্ন (৪৫): সোশ্যাল মিডিয়ায় ইবনু তায়মিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ-এর নামে প্রচার হচ্ছে, ‘কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীকে দুনিয়াতে ভালোবাসে, কিন্তু তাকে বিবাহ করতে না পারে। তারপর তার মোহরানা পরিমাণ দান করে দিয়ে আল্লাহর কাছে তাকে আখেরাতের জন্য স্ত্রী হিসেবে চায়, তাহলে আল্লাহর কাছে সে এটা পেয়ে যাবে আশা করা যায়’ (আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৫/৪৬১)। এটা কি সঠিক?

প্রশ্ন (৪৬): রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মানুষকে উটের দুধ ও প্রস্রাব পান করতে বলেছিলেন। উটের প্রস্রাব পান করতে বলার হিকমত কী?

প্রশ্ন (৩১): বাড়ির বিদ্যুতের মিটার, লাইন ও অধিকাংশ বিল হারাম অর্থে পরিশোধ করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমি যদি সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কম্পিউটারে অনলাইনে কাজ করে আয় করি, তাহলে আমার উপার্জন কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (৩২): আমি কি অর্থের বিনিময়ে মন্দিরে বা তাদের উপাসনার যে কোনো স্থাপনায় কাজ করতে পারব? অনেকেই বলে, মন্দির নির্মাণে ফ্রি-তে কাজ করলে গুনাহ হবে, অর্থের বিনিময়ে করলে সমস্যা নাই?

প্রশ্ন (৩৩): কোনো এক বিস্কুট ফ্যাক্টারীতে আমি কাজ করি। তারা বেশি লাভের জন্য অখাদ্য বা ক্ষতিকর জিনিস মানুষকে খাওয়ায়। আমি তাদের অগোচরে তা দেখে ফেলি, কিন্তু বাকি কর্মচারীরা তা জানে না। সেখানে চাকরি করা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (৩৪): আমার স্বামী একটি কাঠের মিলে চাকরি করেন। কাঠ সরবরাহকারী একজন বিক্রেতার কাছ থেকে বাকিতে কেনা হয়। তার পাওনা দ্রুত আদায় করার জন্য প্রতি গাড়ি কাঠের পেমেন্টের পর ব্যক্তিগতভাবে ৫০০০–৬০০০ টাকা করে দেন। তবে এ বিষয়ে আমার স্বামীর মালিক অবগত নন। উল্লেখ্য, কাঠের দাম বা মান নির্ধারণে আমার স্বামীর কোনো অনিয়ম নেই এবং মালিক বাজারদরের মধ্যেই কাঠ ক্রয় করেন। বিক্রেতার দেওয়া এই অর্থ কি আমার স্বামীর জন্য হালাল?

প্রশ্ন (৩৫): আমি শুনেছি, ব্যবসায় মুনাফা অর্জনের কোনো লিমিট নেই। প্রশ্ন হলো, কোনো ক্রেতা যদি পণ্যের দামের ব্যাপারে না জানে এবং বিক্রেতা যদি তাকে ঠকানো বা বেশি লাভের জন্য অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ করে সেটা বিক্রি করে, তাহলে কি সেটা হারাম হবে?

Magazine